বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সরে দাঁড়াচ্ছেন চাঁন-শাহীন, এখনও অনড় মামুন
বরিশাল :: বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে রোববার বিএনপি সমর্থিত আহসান হাবিব কামালকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন মনোনয়ন জমা দেয়া বিএনপি’র অপর দুই প্রার্থী এবায়দুল হক চাঁন ও কামরুল আহসান শাহীন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বরিশাল বিএনপি’র দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র। এর মধ্যে কামরুল আহসান শাহীন আগে থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও শওকত হোসেন হিরণকে একক প্রার্থী করতে শেষ বারের মত জোরালো প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত অনড় অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রাথী মাহমুদুল হক খান মামুন।
বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী এবায়দুল হক চাঁন নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর বিষয়টি ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছেন। তবে চাঁনকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ব্যাপারে রাজি করাতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতির পদটি ছাড়তে হয়েছে সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালকে। ২৫ মে শনিবার সকালে কামাল জেলা সভাপতির পদ থেকে অব্যহতি চেয়ে খালেদা জিয়া বরাবর আবেদন করেন। আর খালেদা জিয়া কামালের পদত্যাগপত্র গ্রহনের পর শনিবারই চাঁন রিটার্নিং অফিসার বরাবর তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের লিখিত আবেদন বরিশালে পাঠিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি সাংসদ এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার জানান, কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সাথে বৈঠক করে চাঁন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হয়েছেন।
এ ব্যাপারে আহসান হাবীব কামাল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় নির্বাচন। তাই কৌশলগত কারনে দলীয় পদ থেকে অব্যহতি নিয়ে জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের ব্যানারে মেয়র পদে নির্বাচন করছি। তবে আমার প্রতি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের সমর্থন রয়েছে।
এদিকে বিসিসি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত অনড় অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রাথী মাহমুদুল হক খান মামুন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাংসদ আমির হোসেন আমু ও সাংসদ তালুকদার মো: ইউনুসসহ আ’লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মামুনের সাথে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেও তাকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ব্যাপারে রাজি করাতে ব্যর্থ হন।
মামুন গত সিটি নির্বাচনের পর থেকেই মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন করার লক্ষ্যে গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক কাজকর্মে তিনি নিজের মত করে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন। তাই শেষ পর্যায়ে এসে তিনি এখন সরে দাঁড়াতে নারাজ। এদিকে বরিশাল আ’লীগের নেতারা মনে করছেন এখন মামুনের সাথে দেন-দরবার না করে হিরনের দলীয় সমর্থন আদায়কালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তলব করা উচিত ছিলো মামুনকে। তাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলে মামুন এত অনড় অবস্থানে থাকতো না।
মাহমুদুল হক খান মামুন তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই জনগণের সেবা করে চলেছি আর যতদিন রাজনীতি করব, ততদিন আমার এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ নিজ দলের সমর্থনের বাইরে প্রার্থী হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আ’লীগের রাজনীতে হিরনের চেয়ে আমার অবদান অনেক বেশী। দুর্নীতিবাজ ও ১০% হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের কাছে নগরবাসীর ভাগ্য ছেড়ে দিতে পারি না। যারা জনগণের সেবার কথা বলে জনগণের অর্থ লুটপাট করে, তারা জনগণের সেবক নয়-জনগণের শত্রু।’
এদিকে মামুনকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারে রাজি করাতে ২৫ মে শনিবার রাতে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম বরিশাল এসেছেন। তিনি মামুনকে সরে দাঁড়ানোর জন্য রাজি করাতে শেষ প্রচেষ্টা চালাবেন। তবে ২৫ মে শনিবার বিকেলে থেকে মামুনের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন তার অনুসারীরা। শনিবার বিকেল থেকে তার মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। এনিয়ে নগরীতে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |