বরগুনা পলিটেকনিক রণক্ষেত্র: ওসিসহ আহত ২৫, গ্রেপ্তার ৯ মনির হোসেন কামাল
 বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় এক ছাত্রকে পিটাচ্ছে পুলিশ
বরগুনা :: বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষের অপসারন দাবীতে সড়ক অবরোধ করা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। ১৯ জুন সকাল ১১টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষে বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শীলমনি চাকমাসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬ জন পুলিশ সদস্য রয়েছে। পুলিশ বিক্ষুব্ধ ৯ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে-সাখাওয়াত হোসেন, ইমরান হোসেন, মনির হোসেন, নজরুল ইসলাম, আবুল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, দিদারুল ইসলাম, লুকতাবিন হাবিব ও আবুল হাসান।
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীরা জানান, যৌন হয়রানিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে তারা গত ১ জুন থেকে অধ্যক্ষমো. মাসুদুর রহমানের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপিসহ আন্দোলন করে আসছে। তাদের আন্দোলনের ফলে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে বললেও অদ্যাবদি কোন রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। যার ফলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বরগুনা-বড়ইতলা-কাকচিড়া সড়ক অবরোধ করে সন্ত্রাসী তান্ডব শুরু করে।
বরগুনা থানার ওসি (তদন্ত) পুলক চন্দ্র রায় জানান, সড়ক অবরোধের খবর শুনে বরগুনা থানার ওসি শীলমনি চাকমার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা চালালে তারা লাঠি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের পিছু হটালেও তারা ইটের টুকরা নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে বরগুনা থানার ওসি শীলমনি চাকমা, এসআই বশির উদ্দিন, কনস্টবল বেলাল, পলাশ, সাব্বিরসহ ৬ পুলিশ আহত হয়। ওসিসহ আহত ২ পুলিশকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেলা একটার দিকে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রদের ধাওয়া করলে দুপুর দুইটার দিকে পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দুইটার পরও শত শত ছাত্র কলেজের গেট বন্ধ করে ক্যাম্পাসের মধ্যে অবস্থান করেছিল বলে জানা গেছে।
বরগুনা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও সড়ক অবরোধ করে বিশৃংখলা ঘটানোর অভিযোগে পৃথক দুটো মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ঘটনার সাথে জড়িত বাকী আসামীদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |