Current Bangladesh Time
শনিবার ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১৭ ১:০৩ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » পাঠকের লেখা » বরিশালের ছয় জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
৫ জুলাই ২০১৩ শুক্রবার ৫:১৩:২২ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

বরিশালের ছয় জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
মোঃ আহসানুল কবীর পলাশ


বরিশাল মানচিত্র১৯৯৩ সালে বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা এই চারটি জেলা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশাল বিভাগ। বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন লোককাহিনী প্রচলিত আছে। এ ছয়টি জেলার নামকরণের ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরা হল।

পিরোজপুর:
“ফিরোজ শাহের আমল থেকে ভাটির দেশের ফিরোজপুর,
বেনিয়া চক্রের ছোয়াচ লেগে পাল্টে হলো পিরোজপুর”

উপরোক্ত কথন থেকে পিরোজপুর নামকরণের একটা সূত্র পাওয়া যায়। নাজিরপুর উপজেলার শাখারী কাঠির জনৈক হেলালউদ্দীন মোঘল নিজেকে মোঘল বংশের শেষ বংশধর হিসেবে দাবী করেছিলেন। তাঁর মতে বাংলার সুবেদার শাহ্ সুজা আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলার নিকট পরাজিত হয়ে বাংলার দক্ষিণ অঞ্চলে এসেছিলেন এবং আত্মগোপনের এক পর্যায়ে নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীর পারে একটি কেল্লা তৈরি করে কিছুকাল অবস্থান করেন। মীর জুমলার বাহিনী এখানেও হানা দেয় এবং শাহ্ সুজা তার দুই কন্যাসহ আরাকানে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে তিনি অপর এক রাজার চক্রান্তে নিহত হন। ‍কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী এক শিশু পুত্রসহ সুগন্ধা নদীর পার সংলগ্ন এলাকায় থেকে যায়।

পরবর্তীতে তারা অবস্থান পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে পশ্চিমে চলে এসে বর্তমান পিরোজপুরের পার্শ্ববর্তী দামোদর নদীর মুখে আস্তানা তৈরি করেন। মায়ের সাথে থেকে যাওয়া সেই শিশুর নাম ছিল ফিরোজ শাহ্ এবং তার নাম অনুসারে স্থানটির নাম হয় ‘ফিরোজপুর’। পরে কালের বিবর্তনে ফিরোজপুরের নাম হয়ে যায় ‘পিরোজপুর’। ১৯৫৯ সালের ২৮ অক্টোবর পিরোজপুর মহকুমা এবং পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জেলায় রূপান্তরিত হয়।

বরিশাল:
বরিশালের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। এক কিংবদন্তি থেকে জানা যায় যে, পূর্বে এখানে খুব বড় বড় শাল গাছ জন্মাতো, আর এই বড় শাল গাছের কারণে (বড়+শাল) ‘বরিশাল’ নামের উৎপত্তি।

কেউ কেউ দাবি করেন, পর্তুগীজ বেরি ও শেলির প্রেমকাহিনীর জন্য ‘বরিশাল’ নামকরণ করা হয়েছে।

অন্য এক কিংবদন্তি থেকে জানা যায় যে, গিরদে বন্দরে (গ্রেট বন্দর) ঢাকা নবাবদের বড় বড় লবণের গোলা ও চৌকি ছিল। ইংরেজ ও পর্তুগীজ বণিকরা বড় বড় লবণের চৌকিকে ‘বরিসল্ট’ বলতো। অথাৎ বরি (বড়)+ সল্ট(লবণ)= বরিসল্ট।

আবার অনেকের ধারণা, এখানকার লবণের দানাগুলো বড় বড় ছিল বলে ‘বরিসল্ট’ বলা হতো । পরবর্তিতে ‘বরিসল্ট’ শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে ‘বরিশাল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

ভোলা:
ভোলা জেলার নামকরণের পিছনে স্থায়ীভাবে একটি লোককাহিনী প্রচলিত আছে যে, ভোলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ‘বেতুয়া’ খালটি একসময় পরিচিত ছিল ‘বেতুয়া নদী’ নামে। তখন সেটি এখনকার মত এতটা অপ্রশস্ত ছিলনা। খেয়া নৌকার সাহায্যে নদীটি পারাপার করা হত। বুড়ো এক মাঝি সেখানে খেয়া নৌকার সাহায্যে লোকজন পারাপার করতো। তাঁর নাম ছিল ‘ভোলা গাজী পাটনী’। বর্তমানের যোগীরঘোলের কাছেই ছিল তাঁর আস্তানা। এই ভোলা গাজীর নামানুসারেই এক সময় স্থানটির নাম দেয়া হয় ‘ভোলা’। সেই থেকে আজঅব্দি স্থানটি ‘ভোলা’ নামে পরিচিত।

ঝালকাঠি:
এ জেলার নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জেলে সম্প্রদায়ের ইতিহাস। মধ্যযুগ-পরবর্তী সময়ে সন্ধ্যা, সুগন্ধা, ধানসিঁড়ি আর বিষখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় জেলেরা বসতি স্থাপন করে। এর প্রাচীন নাম ছিল ‘মহারাজগঞ্জ’। মহারাজগঞ্জের ভূ-স্বামী শ্রী কৈলাশ চন্দ্র যেখানে জমিদারি বৈঠক করতেন সেখানে একটি ‘গঞ্জ’ বা বাজার নির্মাণ করেন। এ ‘গঞ্জে’ জেলেরা জালের কাঠি বিক্রি করত। এ জালের কাঠি থেকে পর্যায়ক্রমে ‘ঝালকাঠি’ নামকরণ করা হয় বলে ধারণা করা হয়।

আবার অনেকের মতে, বিভিন্ন স্থান থেকে জেলেরা এখানে মাছ শিকারের জন্য আসত এবং যাযাবরের মতো সুগন্ধা নদীর তীরে বাস করত। এ অঞ্চলের জেলেদের পেশাগত পরিচিতিকে বলা হতো ‘ঝালো’। এরপর জেলেরা বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে এখানে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলে। এভাবেই জেলে থেকে ‘ঝালো’ এবং জঙ্গল কেটে বসতি গড়ে তোলার কারণে ‘কাটি’ শব্দের প্রচলন হয়ে ‘ঝালকাটি’ শব্দের উৎপত্তি হয়। পরবর্তীকালে ‘ঝালকাটি’ রূপান্তরিত হয় ‘ঝালকাঠি’তে। ১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী ঝালকাঠি পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা লাভ করে।

পটুয়াখালী:
ঐতিহাসিক ঘটনাবলি থেকে জানা যায় যে, পটুয়াখালী ‘চন্দ্রদ্বীপ’ রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল। পটুয়াখালী নামকরণের পিছনে প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের লুন্ঠন ও অত্যাচারের ইতিহাস জড়িত আছে।

পটুয়াখালী শহরের উত্তর দিক দিয়ে প্রবাহিত নদীটি পূর্বে ‘ভরনী খাল’ নামে পরিচিত ছিল। ষোড়শ শতাব্দীর শুরু থেকে পর্তুগীজ জলদস্যুরা এই খালের পথ দিয়ে এস সন্নিহিত এলাকায় নির্বিচারে অত্যাচার ও হত্যা-লুন্ঠন চালাত। স্থানীয় লোকেরা এই হানাদারদের ‘নটুয়া’ বলত এবং এরপর থেকে খালটি ‘নটুয়ার খাল’ পরিচিতি পায়।

কথিত আছে, এই ‘নটুয়ার খাল’ থেকে পরবর্তীতে এ এলাকার নামকরণ হয় ‘পটুয়াখালী’।

বরগুনা:
‘বরগুনা’র নামকরণের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও জানা যায় যে, উত্তরাঞ্চলের কাঠ ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলে কাঠ নিতে এস খরস্রোতা ‘খাকদোন’ নদী অতিক্রম করতে গিয়ে অনুকুল প্রবাহ বা বড় গোনের জন্য এখানে অপেক্ষা করত বলে এ স্থানের নাম হয় ‘বড় গোনা’।

আবার কারো মতে, স্রোতের বিপরীতে গুন (দড়ি) টেনে এখান দিয়ে নৌকা চালাতে হতো বলে এ স্থানের নাম ‘বরগুনা’।

অনেকের মতে, বরগুনা নামক কোন প্রভাবশালী রাখাইন অধিবাসীর নামানুসারে বরগুনার নামকরণ করা হয়েছে।

আবার কারো মতে, বরগুনা নামক কোন এক বাওয়ালীর নামানুসারে এ স্থানের নামকরণ করা হয় ‘বরগুনা’।


মোঃ আহসানুল কবীর পলাশ
প্রভাষক
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ
কীর্তনখোলায় ট্যাংকারে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরেকজনের মৃত্যু
‘অসম্প্রদায়িক দেশ গড়তে সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে হবে’
বরিশালের সাংবাদিক মীর মনিরুজ্জামান আর নেই
‘পায়রা বন্দর হবে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ বন্দর’ -শিল্পমন্ত্রী
পাথরঘাটায় ‘অজগর’ সাপ উদ্ধার
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ জিয়াউল হক
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]