Current Bangladesh Time
শুক্রবার জুন ২৩, ২০১৭ ২:৩৪ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » বরিশাল, বরিশাল সদর, রিপোর্টারের ডায়েরি, সংবাদ শিরোনাম » রক্তস্নাত ১৫ আগস্ট: প্রতিবিপ্লবীদের বিজয় দিবস -মানবেন্দ্র বটব্যাল
২৩ আগস্ট ২০১৪ শনিবার ২:০৩:০১ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

রক্তস্নাত ১৫ আগস্ট: প্রতিবিপ্লবীদের বিজয় দিবস -মানবেন্দ্র বটব্যাল


1111111111111১৫ আগস্ট ১৯৭৫, বাংলাদেশের স্থপতি ও নির্বাচিত রাষ্ট্র প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর পরিবারের সদস্যগণ, জাতীয় নেতৃবৃন্দের শাহাদাতের দিন। রক্তস্নাত দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। কিন্তু ১৫ আগস্টের শোকাবহ দিনটিকে বিশেষণ করতে হলে দেখা প্রয়োজন এর পূর্বের ও পরবর্তি দিনগুলোর ঘটনাবলী।

রাষ্ট্র বিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞান ধর্ম ভিত্তিক কোন জাতি স্বত্বাকে স্বীকৃতি না দিলেও ধর্মের জিকির তুলে ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে হিন্দু-মুসলিম দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট অস্বাভাবিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের আয়ুস্কাল ছিল মাত্র ২৪ বছর। এই সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানের পূর্বাংশে বসবাসকারী বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্পৃহা জেগে ওঠে সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। আর তাই ১৯৭১ সনে বাঙালি জাতি নিজেদেরকে স্বাধীন করার জন্য হাতিয়ার তুলে নিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গণচীন, সৌদি আরব সহ এসব দেশের বলয়ে থাকা রাষ্ট্রগুলো প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে ও পাকিস্তানকে অকুন্ঠ সমর্থন দেয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কয়েকবার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বন্ধ করার প্রস্তাব উত্থাপন করলেও অধুনালুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটোর কারণে একটি প্রস্তাবও কার্যকর হয়নি। অপরদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রত্যক্ষ এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব এবং বিশ্বের স্বাধীনতাপ্রিয় নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনের মাধ্যমে মাত্র ৯ মাসের মধ্যে আমরা লক্ষ লক্ষ প্রাণ, বহু নারীর সতিত্ব ও পোড়া মাটির বিনিময়ে অর্জন করেছিলাম লাল সবুজের পতাকার স্বাধীন বাংলাদেশ।

১৯৭১ সনে বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। ১৯৪৭ সালে ‘হিন্দুদের জন্য হিন্দুস্তান, মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান’ ম্লোগান দিয়ে বৃটিশদের সাথে ষড়যন্ত্র করে ভারতবর্ষকে বিভাজনের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয় পাকিস্তানের। ১১ হাজার মাইলের দূরত্বের পাকিস্তানের দুই অংশ বিভক্ত ছিল। মাঝখানে ভারতবর্ষ। পাকিস্তানের স্রষ্টা হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। অথচ তিনি পাকিস্তানের কোন অংশেরই নাগরিক ছিলেন না। জানা যায় তিনি ইসলাম ধর্মের অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় রীতি নীতিও পালন করতেন না। মূলত সাম্প্রদায়িকতার জিগির তুলে এবং ১৯৪০ সনে লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লিগের সম্মেলনে গৃহীত পাকিস্তান প্রস্তাবের মমার্থকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে অবিভক্ত ভারতবর্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধুষ্যিত দুটি পৃথক অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় অস্বাভাবিক রাষ্ট্র পাকিস্তান।

পাকিস্তানের ‘স্বাধীনতার’ পর তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্বাংশে বসবাসকারী সংখ্যগরিষ্ঠ মুসলিম নাগরিকগণ ভেবেছিলেন তারা মুক্তি পেলেন। এখন তাদের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তারা সকল শোষণ, নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেলেন। আর এর কারণ অর্থনৈতিকভাবে, শিক্ষায় ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলের মুসলিম নাগরিকগণ আশা করলেন পাকিস্তানের সৃষ্টিতে তারা মুক্তি পেলেন। তরা একটি উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখা নিয়ে বিভোর ছিলেন। অথচ তখনই অনেকে বুঝতে পেরেছিলেন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সৃষ্ট পাকিস্তানের নাগরিকগণ প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হয়নি। আর তাই পাকিস্তুান সৃষ্টির পর তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টি ‘ইয়া আজাদী ঝুটা হ্যায়’ ম্লোগান দেয়ায় সরকার তো বটেই এমনকি সাধারণ মুসলিম জনগোষ্ঠীও এদেরকে রাষ্ট্র বিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করে সমাজে অপাংক্তেয় করেছিল।

এই অঞ্চলের অধিকাংশ নাগরিক ছিলেন মুসলিম। আর জমিদার জোতদার, মহাজনরা ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এসব জমিদান,তালুকদার, জোতদারদের দ্বারা মুসলিম নাগরিকগণ তো বটেই এমনকি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিম্ন বর্ণের ‘অচ্যুত’ জনগোষ্ঠীও প্রতিনিয়ত নিগৃহীত হতেন। শিক্ষায়, কর্মসংস্থানে, সামাজিক অবস্থানে উল্লিখিত দুই জনগোষ্ঠীই ছিলেন বঞ্চিত। তাই পাকিস্তান রাষ্ট্রকে স্বাগত জানিয়েছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী ‘অচ্যুত’ জনগোষ্ঠীও। উভয় জনগোষ্ঠী ভেবেছিলেন পাকিস্তান সৃষ্টির পর তাদের মর্যাদা বাড়বে। তারা উভয়েই ‘মুক্তি’ পাবে। বাস্তবে কিন্তু তার কোন প্রতিফলন ঘটলনা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর উচ্চ বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশ পাকিস্তান ত্যাগ করায় কিছু স্বল্পশিক্ষিত ব্যক্তি ‘কেরানীর’ চাকুরি পেলেন। কিন্তু হিন্দু ধর্মাবলম্বী জমিদার, জোতদার, মহাজনদের স্থানে এসে ঘাঁটি গাড়ল পশ্চিম পাকিস্তানের নব্য ধনীরা বা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিকভাবে উচ্চস্থানে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা।

পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী যাদের সিংহভাগই ছিলেন অবাঙালি তারা তৎকালীন পূর্ববাংলার বাংলা ভাষাকে হিন্দুদের ভাষা বলে অভিহিত করে বাংলা ভাষাভাষী এই অঞ্চলের মুসলিমদেরকেই ‘অচ্যুত’ বলে মনে করতেন। তাই পূর্ব বাংলায় বসবাসকারি মুসলিম একটু শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমশ পাকিস্তানের প্রতি সন্দেহ বাড়তে শুরু করল। আর উর্দূকে যখন রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করা হয় তখন এদেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রুখে দাঁড়াল। সৃষ্টি হল মহান ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসের। পাকিস্তানের প্রতি মুসলিম মানসে যে মোহ ছিল তা ক্রমশ উবে যেতে শুরু করল। পরে যখন এই অঞ্চলের নাগরিকগণ চাকুরির কারণে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে যাওয়া আসা শুরু করলেন তখন প্রত্যক্ষ করলেন পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যেকার অর্থনৈতিক বৈষম্য। ১৯৫৬ সনে বামপন্থীদের সমর্থন নিয়ে মাওলানা ভাষানীর নেতৃত্বে গঠিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি যখন পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশের স্বায়ত্বশাসনের কর্মসূচী ঘোষণা করল তখন কিন্তু তাকে সাধারণ জনগোষ্ঠীই সমর্থন জানাল।

১৯৬৫ সনে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারতের সাথে পাকিস্তানের পশ্চিমাংশে যুদ্ধ শুরু হল। এসময়ে দেখা গেল তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের নিরাপত্তা যে কতটা ভঙ্গুর। সেই অভিজ্ঞতাকে পূঁজি করে এদেশের সাধারণ মানুষের নেতা হিসাবে ১৯৬৬ সনে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করলেন পূর্ব পাকিস্তানের সার্বিক স্বায়ত্বশাসনের জন্য ৬ দফা। অবশ্য আওয়ামী লীগের কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণাকে তখনই মনে প্রাণে গ্রহন করতে পারেননি। ১৯৬৫ সালের পর থেকে হাজার হাজার রাজনীতিককে বিনা বিচারে আটক করে জেলে পুরে রাখা হল। পরে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে যখন বিচারের নামে শুরু হল প্রহসন তখন ছাত্রদের ১১ দফার আন্দোলন। এই ১১ দফাতেও কিন্তু সার্বিক স্বায়ত্বশাসনকে প্রধান্য দেয়া হল। এসময়েই দেশের সামান্য কিছু নাগরিক ব্যতীত সাধারণ জনগোষ্ঠী ৬ দফা ও ১১ দফাকে গ্রহন করল স্বাধীনতার প্রস্তুতি কর্মসূচী হিসাবে।

পাকিস্তানের তথাকথিত ‘স্বাধীনতার’ ২৪ বছর পর ১৯৭১ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও পূর্বপাকিস্তান প্রদেশে একচেটিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী চোখে শর্ষে ফুল দেখা শুরু করল। আর তারপরেই শুরু হল ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে টালবাহানা। এই ষড়যন্ত্রের প্রত্যুত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ৭ মার্চ ঘোষণা করলেন ‘ এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই ঘোষণার পর দেশের মানুষ মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিল নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের। আর এই জনাকাংখাকে উস্কে দিল ১৯৭১ সনের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালির উপর পাকিস্তানী শিক্ষিত সেনাবাহিনীর নির্বিচারে গণহত্যা ‘অপারেশন সার্চ লাইট।’ ২৫ মার্চেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করে তৎকালীন পাকিস্তানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নেতা বঙ্গবন্ধুকে।

বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে আামদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে নেতৃত্ব দেন দৃঢ়চেতা, বিচক্ষণ ও ধীশক্তির অধিকারী কৌশলী রাজনীতিবিদ তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ। দেশের মধ্যে থাকা প্রতিপক্ষ, দলের মধ্যে নানারূপ বিভাজন ও ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করে তিনি গঠন করেন প্রবাসী সরকার। যেখানে রাষ্ট্রপতি হিসাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান থাকলেও তার অবর্তমানে উপ-রাষ্ট্রপতি হন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। আর তিনি নিজে হন প্রধানমন্ত্রী। শত্রুমুক্ত বাংলাদেশের মেহেরপুরের আম্রকাননে বিদেশী সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দলীয় নির্বাচিতদের শপথবাক্য পাঠের আয়োজন করেন। ঘোষিত হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। এই ঘোষণাপত্রটি আমাদের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন দেশের সংবিধান প্রণয়নের মূল ভিত্তি। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষকে যথাযথ নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র নয় মাসের মধ্যে দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর নেতৃত্ব অনন্য।

দলের মধ্যে প্রবল বিরোধীতা থাকা সত্বেও মুক্তিযুদ্ধকে সার্বজনীন করার জন্য তিনি কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কংগ্রেস সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠন করেন উপদেষ্টা পরিষদ। প্রবাসী সরকারের আমলে খন্দকার মোস্তাকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের মার্কিনপন্থী একাধিক নেতা পাকিস্তানের সাথে একটি কনফেডারেশন গঠনের জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করেন। অপরদিকে চীনের রাজনীতিতে বিশ্বাসীরা এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল মুসলিম লিগ, জামাতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম প্রত্যক্ষভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে। ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর মদদে দেশে গঠন করা হয় শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী, আলবদর ও আলশামস বাহিনী। এরা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে। কিন্তু তাজউদ্দিন আহমেদের দৃঢ়তার কারণে, অদম্য মুক্তিযোদ্ধাদের দৃঢ়তা ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড ও প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের নিয়মিত প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘মুক্তিফৌজ’ নিয়ে জন্য শেষ পর্যন্ত গঠন করা হয় মিত্র বাহিনী। আর একটি সার্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বর আমরা আমাদের বিজয়কে অর্জন করতে সক্ষম হই।

এটা অনস্বীকার্য যে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানী কারাগারে থাকলেও তার উপস্থিতি ছিল স্বাধীনতার আকাংখায় উজ্জীবিত বাঙালির মনে। আর তাই তিনিই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। আবার এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমাদের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক তাজউদ্দিন আহমেদ। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাজউদ্দিন আহমেদকে যথাযোগ্য মর্যদা দিতে না পারা আমাদের দৈন্যতা ছাড়া আর কিছু নয়। উল্লেখ্য দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে গুটি কয়েক কুলাঙ্গার ব্যতীত দেশের সকল মতাদর্শের মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। অথচ সে সময়ে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাদের সংকীর্ণতার জন্য দেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনে আগ্রহী কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজফফর) ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা ভারতে যেয়েও প্রশিক্ষণ গ্রহনে ব্যর্থ হন।

এসব সংকীর্ণ আওয়ামী রাজনীতিবিদগণ মনে করতেন বামপন্থীরা মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিলে স্বাধীন বাংলাদেশটি তাদের নিয়ন্ত্রনে থাকবেনা। তাদের একাগ্রতায় ভারতীয় জেনাররেল ওবানের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স’ নামক একটি বাহিনী গড়ে তোলা হয়। এই বাহিনীই পরবর্তিতে ‘মুজিববাহিনী’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই বাহিনীর রাজনৈতিক প্রধান হন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ। তাঁর কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে ২নং সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারেফ তার অধীনে অবাধে বামপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসীদেরকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে দেন। সামন্য কিছু সংখ্যক বাম রাজনীতিতে বিশ্বাসী ৯ নং সেক্টরেও অংশ নিয়েছিলেন। পরে অবশ্য ভারতের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের ২৫ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা চুক্তিপত্র হবার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্রইউনিয়নের’ গেরিলা বাহিনীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। (দ্বিতীয় অংশ আগামীকাল)

লেখক: প্রবীণ সাংবাদিক, আইনজীবি ও দৈনিক সংবাদের বরিশাল প্রতিনিধি।

 


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ
উচ্ছেদে ক্ষান্ত নয়, বদলে দিচ্ছে গ্রামের নামও
বাবুগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই–বাছাইয়ে বাণিজ্য
বরিশালে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে কদর
‘উন্নয়ন জোয়ারে’ ভাসছে মহানগরী!
শনিবার বরিশালে ব্যাংক খোলা
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ জিয়াউল হক
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]