Current Bangladesh Time
শনিবার মার্চ ২৫, ২০১৭ ৬:০০ পূর্বাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » বরিশাল, বরিশাল সদর, রিপোর্টারের ডায়েরি, সংবাদ শিরোনাম » রক্তস্নাত ১৫ আগস্ট: প্রতিবিপ্লবীদের বিজয় দিবস -মানবেন্দ্র বটব্যাল
২৪ আগস্ট ২০১৪ রবিবার ২:৪৬:০৬ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

রক্তস্নাত ১৫ আগস্ট: প্রতিবিপ্লবীদের বিজয় দিবস -মানবেন্দ্র বটব্যাল


1111111111111(দ্বিতীয় অংশ) ১৬ ডিসেম্বর’৭১ আমাদের ভূখন্ড শত্র“মুক্ত হল। প্রবাসী সরকার দেশে এসে অতিদ্রুত দেশের শাসনভার গ্রহন করল। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর সফল কূটনীতির কারণে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের চাপে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করে দিতে বাধ্য হল। বঙ্গবন্ধু দেশে এসে দেশের শাসনভার গ্রহণ করলেন। তখন দেশে খাদ্য ঘাটতি ৪০ লাখ মেট্রিক টন। ৯০ হাজার পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দী ও তাদের সহযোগী ৩৭ হাজার রাজাকার,আলবদর ও দালাল। এসময়ে প্রায় সোয়া লাখ ভারতীয় সৈন্য দেশে অবস্থান করছেন। দেশের জনসংখ্যা ৭ কোটি। এসকল মানুষের খাবারের প্রয়োজন মেটানো, দেশকে পুনর্গঠন করা ছিল অত্যন্ত জরুরি। অথচ সেসময়ে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কোন অর্থ ছিলনা। স্বাধীনতার পর কানাডা সরকার বঙ্গবন্ধুকে ৪ মিলিয়ন ডলার উপহার দিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকে সেই অর্থ জমা দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ব্যাংকের যাত্রা শুরু করালেন। ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব অর্থ,খাদ্য ও বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী, সহায়তা অনুদান দেয়। তারা ধ্বংশস্তুপের মাধ্যমে সদ্য মুক্ত দেশটির পুনর্গঠনে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দিল। রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহনের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে দুর্নীতি ও দেশ বিরোধী কার্যকলাপের জন্য ১৯৭২ সনের ৬ এপ্রিল ১৬ জন, ৯ এপ্রিল ৭ জন ও ২২ সেপ্টেম্বর ১৯ জন আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।

যেখানে পাকিস্তান সৃষ্টির ১৭ বছর পর সামরিক শাসক আইউব খান সামরিক ফরমান বলে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন করেন সেখানে মাত্র এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিরা প্রণয়ন করলেন সংবিধান। আমাদের সংবিধানটি আজও বিশ্বে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এই সংবিধানের আওতায় ১৯৭৩ সনে দেশে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্বাভাবিক কারণেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে। অবশ্য তার ফলটা কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য সুখকর হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাদের সীমাহীন দুর্নীতে বঙ্গবন্ধু নিজেই বিক্ষুব্ধ হন। বঙ্গবন্ধু গণতান্ত্রিক পন্থায় দেশে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মত অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী হলেন।

দেশের বড় বড় শিল্প- কারখানা, ব্যাংক,বীমা জাতীয়করণ করা হল। বাজার ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত করার জন্য টিসিবিকে শক্তিশালী করা হল। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ যাতে কমমূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেতে পারেন তার জন্য গঠন করা হল ‘কসকর’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যারা এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন তারা দেশকে সমৃদ্ধ করার চেয়ে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করার মহোৎসব শুরু করেন। অপরদিকে বঙ্গবন্ধু উদারতার পরিচয় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানে চাকুরিরত সামরিক ও বেসামরিক পদে কর্মরত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদেরকে চাকুরি ফিরিয়ে দিয়ে পুনর্বাসন করেন। এর ফলে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে দেখা দেয় বিভাজন। আর এসব সুযোগকে কাজে খাটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি শুরু করে ষড়যন্ত্র। অবশ্য বঙ্গবন্ধু পরিস্থিতি উপলব্ধি করলেও তার উদারতার সুযোগ নিয়ে অবস্থার ক্রমাবনতি শুরু করল।

এরকম একটা সুযোগ চাচ্ছিল সরকারের ভেতরকার পাক-মার্কিনী অনুসারীরা। তারা সরকারের পতন ঘটাতে নতুনভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করে। প্রশাসনে পাকিস্তানী ভাবাদর্শে বেড়ে ওঠা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরোক্ষভাবে এদেরেক সহযোগিতা দেয়া শুরু করে। তারা চাচ্ছিল দেশের মানুষ বুঝুক যে ‘ভারতের অনুপ্রেরনায়’ গঠিত বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র ও বাংলাদেশ ভারতের একটি তাবেদার রাষ্ট্র। আবার সরকারের বাইরে থাকা চীনা দর্শনের সমর্থক অতি বামপন্থীরা পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টি, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি নামাকরন নিয়ে দেশের মধ্যে গুপ্ত হত্যা, অরাজকতা চালিয়ে যাচ্ছিল। একই সময়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের শোগান দিয়ে গণবাহিনী একইভাবে দেশের বিভিন্নস্থানে হত্যা, গুপ্তহত্যা, অরাজকতা সৃষ্টি করে। কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাকে পুনর্বাসনের জন্য সরকার রক্ষী বাহিনী নামে একটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গঠন করেছিল। রক্ষী বাহিনী গঠনের কারনে সেনাবাহিনীর সাথে রক্ষীবাহিনীর মনস্তাতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

একটি মহল থেকে প্রচার করা হয় ভারতের ইঙ্গিতে রক্ষী বাহিনী গঠন করা হয়েছে। ফলে দেশের বিশাল অংশের মানুষ (যাদের একটি অংশ পাকিস্তানের ২৪ বছরের প্রচারনায় ও রাজনৈতিক কারনে মনে প্রাণে ভারত বিরোধী ছিলেন) রক্ষী বাহিনীর প্রতি বিরূপ হয়ে ওঠে। আবার রক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উচ্চাকাংখা ও তাদের অনেক কার্যকলাপ গণবিরোধী হওয়ায় এই বাহিনী সাধারন মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়। পুলিশ বাহিনী অনেকটা নিষ্ক্রীয় থাকে। অপরদিকে পাকিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে পাকিস্তান সরকার বিচার করবে এই শর্তে তাদেরকে পাকিস্তানের কাছে প্রত্যর্পন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা সামরিক-বেসামরিক বাহিনীকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে পুনর্বাসন করা হল। পাকিস্তান ফেরত এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া বা দেশের অভ্যন্তরে থেকে অশেষ কষ্ট ভোগ করা সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে দেখা দেয় দ্বন্দ্ব।

১৯৭৪ সনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি অনুযায়ী গম বোঝাই জাহাজ বাংলাদেশের দিকে রওয়ানা দিলেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকার সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ সমাজতান্ত্রিক ও জোট নিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলোর দিকে ঝুঁকে পরায় বিশেষ করে মার্কিনী যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্বেও কিউবার সাথে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই গম বোঝাই জাহাজ ফিরিয়ে নেয়। সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে দেশে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। আর এই দুর্ভিক্ষ সরকারের অস্তিত্বকেই ক্রমান্বয়ে বিপদগ্রস্ত করে তোলে। দেশের স্বাধীনতার পর বিভিন্ন মহল থেকে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়া হলেও বঙ্গবন্ধু তখন নিজের দল দিয়েই দেশ চালাবার উদ্যোগ নেন। কিন্তু ক্রমান্বয়ে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে এবং দেশে একটি প্রতিবিপবের সৃষ্টি হতে পারে আশংকা করে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য আজীবন গণতন্ত্রের পূজারী বঙ্গবন্ধু ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)’ নামক একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করে বহুদলীয় রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করেন।

এই দলে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী ও মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক শক্তি এমনকি উচ্চপদস্থ সামরিক,বেসামরিক কর্মকর্তারাও স্থান পান। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি এসময়ে বুঝতে পারল যদি এই সরকার টিকে যায় তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবেনা। ‘বাকশাল’ তার কার্যক্রম শুরু করার আগেই প্রতিবিপবীরা ‘বাকশাল’ বিরোধী প্রচারনা শুরু করে নিজেদের অবস্থানকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে উদ্যোগ নেয়। আর এরপরের ঘটনাবলী অত্যন্ত দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে। দেশী ও বিদেশী চক্রান্তের জের ধরে ১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে (দুই কন্যা বিদেশে থাকায় তারা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান) নির্মমভাবে হত্যা করে। এছাড়াও মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য, সস্ত্রীক যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি সহ অপরাপর কয়েকজনকে হত্যা করে। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, মুনসুর আলী, মোঃ কামারুজ্জামান সহ অসংখ্য নেতা কর্মীদেরকে কারাগারে ঢোকানো হয়। ১৫ আগস্টের এই ঘটনা ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিপবের পরবর্তি প্রতিবিপব। বিশ্ব ইতিহাস বিশেষ করে যেসব দেশ যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে বা বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেবার চেষ্টা করা হয়েছে সেসব রাষ্ট্রের ইতিহাস পাঠ করলেই দেখা যাবে এসব দেশের প্রতিটি স্থানে প্রতিবিপ্লব ঘটানো বা প্রতিবিপ্লবের চেষ্টা করা হয়েছে।

লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্র চিলিতে জাতীয়তাবাদী নেতা আলেন্দে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদে তাকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এসময়ে আলেন্দেকে হত্যা করা হয়। ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রপতি জাতীয়তাবাদী নেতা সুর্কর্ন’র নেতৃত্বে গঠিত সরকার ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু, যুগোশোভিয়ার রাষ্ট্রপতি মার্শল টিটোর সমন্বয় গঠন করেন জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন। এই সংগ্রঠন সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর পরোক্ষ সমর্থন নিয়ে মার্কিনী সহ সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। সুকর্নকে লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সেখানকার কমিউনিস্ট পার্টি তাকে সর্বাত্মক সমর্থন দেয়। এমনকি কমিউনিস্ট পার্টির নেতা সুহার্তো হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ক্রমশ এই জোট নিরপেক্ষ সংগঠনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভূত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। প্রমাদ গোনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর মার্কিনীদের প্রত্যক্ষ মদদে ইন্দোনেশিয়ায় গণহত্যার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করে। সুকর্নকে বন্দী, সুহার্তোকে হত্যা করা হয়। সেখানে হাজার হাজার কমিউনিস্ট বিপবীদের হত্যা করে তাদের বিধবা স্ত্রী ও কন্যা সন্তানদের কেউ বিয়ে করলে তাদেরকেও হত্যা করার ঘোষণা দেয়া হয়। আলজেরিয়ার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জাতীয়তাবাদী নেতা বেন বেলার ভাগ্যেও একই পরিনতি ঘটেছিল।

কিউবা বিপবের অবিংসবাদিত নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোকে হত্যা করার জন্য বহুবার পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল করতে না পারায় দেশটির উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা চালোনোর উদ্যোগ নেয়। আর কিউবাকে রক্ষা করতে সোভিয়েত ইউনিয়নও প্রস্তুতি নেয়। দেখা দেয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতি। অবশ্য শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়। মিশরের রাষ্ট্রপতি জামাল আবদুল নাসের যখন নীল নদকে জাতীয়করন করার ঘোষণা দেন তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরসরি মিশর আক্রমনের হুমকি দিলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন মিশরের পাশে দাঁড়িয়ে মাকির্নীদেরকে পাল্টা হুমকি দেয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত দুই পরাশক্তির মুখোমুখি যুদ্ধ আর হয়নি। আফগানিস্তানকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ী বাদশাহ আমনুল্লাহ যখন ক্রমশ দেশকে সাম্রাজ্যবাদি আগ্রাসন থেকে মুক্ত করে নতুন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলেন তখন তাকে হত্যা করে প্রকাশ্য সড়কে খুঁটির সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনে বিশ্বাসী আফগানিস্তানে বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা রাষ্ট্রপতি বারবার কারমালের নেতৃত্বাধীন আফগান সরকারকে উৎখাত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত নিজেরা পাকিস্তানে ঘাঁটি করে ইসলামী জঙ্গীবাদকে প্রত্যক্ষভাবে উস্কে দেয়। এমনকি সেখানে নিজেরাই হস্তক্ষেপ করে। উত্তর কোরিয়াকে শায়েস্তা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও দক্ষিণ কোরিয়ায় ঘাঁটি গেঁড়ে বসে আছে। (শেষ অংশ আগামীকাল)

লেখক: প্রবীণ সাংবাদিক, আইনজীবি ও দৈনিক সংবাদের বরিশাল প্রতিনিধি।


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ
বিমানবন্দরে সামনে হামলার দায় স্বীকার আইএসের
আজ জাতীয় গণহত্যা দিবস
মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রি সেবার বিষয়ে জানেন না চিকিৎসকরা
জঙ্গি আম্তানা ঘিরে সোয়াত, অভিযান রাতেই
বরিশালে দোকান কর্মচারীদের বিক্ষোভ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ জিয়াউল হক
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]