Current Bangladesh Time
বুধবার জুন ২৮, ২০১৭ ১:০১ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » নাগরিক মত » এ কোন উগ্রবাদের মহড়া …
১২ মার্চ ২০১৫ বৃহস্পতিবার ৬:২০:৩৩ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

মন্তব্য প্রতিবেদন

এ কোন উগ্রবাদের মহড়া …
শরীফ খিয়াম


barisal-bm-college-muslim-hall লাঠিসোটা হাতে মুসলিম হলের ছাত্ররা, অদূরে পুলিশ

লাঠিসোটা হাতে মুসলিম হলের ছাত্ররা, অদূরে পুলিশ।

দৈনিক সকালের খবর -এর শিরোনাম ‘বিএম কলেজে শিক্ষার্থী বহিরাগত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া : আটক ৩’। দৈনিক সমকাল -এর ‘বহিরাগতদের হামলার জের : বিএম কলেজে ছাত্রদের ভাংচুর’। দৈনিক নয়া দিগন্তের শিরোনাম ‘বিএম কলেজে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের মধ্যে ধাওয়া’। – ধ্বস, গুম, অভ্যুত্থানাশঙ্কা বা নিত্য জ্যান্ত মানুষ পোড়ানোর এই কালে আজকের ওই শিরোনামগুলো হয়ত খুব বেশি ভয়ংকর নয়, অনেকটা নিরীহ গোছের। তবে নিশ্চিত জেনে রাখুন, সংবাদমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা বরাবরের মতো আজও দুস্প্রাপ্য। তাই কোনো ঘটনার যে কারণটি প্রকাশিত হয় – তারও আড়ালে লুকিয়ে রয় ছোট-বড় আরো অজস্র গল্প।

বিএম কলেজের গতকালের (১১ মার্চ, ২০১৫ ) ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছি। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সাথে মুঠোফোনে আলাপও হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে শঙ্কিত হয়েই লিখতে বসেছি। কারণ – এ ঘটনার নেপথ্যে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় উগ্রবাদের গন্ধ টের পাচ্ছি বেশ। বহিরাগতদেরও দোষ আছে নিশ্চয়ই। কিন্তু তাদের তাড়ানোর নামে বিএম কলেজের আবাসিক হলের যে ছাত্ররা ক্যাম্পাসে ভাংচুর চালিয়েছে এবং লাঠিসোটা নিয়ে মহড়া দিয়েছে – তারা আসলে কোন শক্তির প্রতিনিধিত্ব করেছে; তা’ও একটু খতিয়ে দেখা দরকার। এ ব্যাপারে শুধু কলেজ প্রশাসন নয়, বরিশালে কর্মরত সামরিক ও বেসমারিক গোয়েন্দাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

খুব খেয়াল

old-news-bm-college-muslim-hall আমাদের বরিশাল ডটকম’র পুরোনো সংবাদের স্ক্রীনসট

আমাদের বরিশাল ডটকম’র পুরোনো সংবাদের স্ক্রীনসট

যেখান থেকে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত, সর্বাগ্রে সেখানেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন। মুসলিম হল – নামে সমধিক পরিচিত সার্জেন্ট ফজলুল হক হলের পুকুরের পাড়ে ‘প্রেমিকা বা মেয়ে নিয়ে বসা’ নিয়ে কলহের শুরু। এটা দেখেই অতীতে ফিরতে হলো। গত বছরের জানুয়ারিতে “বিএম কলেজের একাংশে নারীরা নিষিদ্ধ !” শিরোনামে প্রকাশিত এক লেখায় জানিয়েছিলাম ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়াল, গাছ ও ল্যাম্পপোষ্টে লাগানো একটি লিফলেটের কথা। যাতে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান অনুষদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ ঘেঁষা মুসলিম হলের সামনের বিশাল পুকুর, মাঠ ও রাস্তায় নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষিকা বা ছাত্রীদের তোয়াক্কা করা হয়নি। নিজেদের ক্যাম্পাসের বিশালাংশে তাদের অবাঞ্চিত ঘোষণাকারী ওই লিফলেটে লেখা ছিলো – “বিএম কলেজ, মুসলিম হলের সামনের রাস্তায়, মাঠে এবং পুকুরপাড়ে মেয়েদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। অনুরোধক্রমে – হলের সচেতন ছাত্রবৃন্দ।”

comment-on-bm-college-muslim-hall-news কপিতয় মন্তব্য পড়ে দেখুন, তবেই বুঝবেন এরা কারা

কপিতয় মন্তব্য পড়ে দেখুন, তবেই বুঝবেন এরা কারা

নিজস্ব ব্লগ প্রেস এন্ড প্লেজার (pap) এবং আমাদের বরিশাল ডটকম’এ ওই লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর লিফলেটটির পক্ষে সাফাই গেয়েও মন্তব্য করেছিলেন অনেকে। তখনই বুঝে গিয়েছিলাম প্রিয় বিএম কলেজে ধর্মীয় মৌলবাদের আগ্রাসন কতটা তীব্র হয়েছে। গতকালের ঘটনাকেও তাই দক্ষিণবঙ্গের ওই প্রধান বিদ্যাপিঠে ইসলামি উগ্রবাদের মহড়াই মনে হয়েছে। এখানে আরো একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ২০১৩ সালের নভেম্বরে কীর্তনখোলার ওপারের চরকাউয়া ইউনিয়নের কালিখোলা গ্রামে হিন্দুদের ১৬টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনার সাথেও ওই ‘মুসলিম হল’ -এর ছাত্রদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিলো।

মানবতার কল্যাণে ‘সত্য প্রেম পবিত্রতা’র আদর্শে সোয়াশো বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ওই শিক্ষালয়ের, মানে বিএম কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এম ফজলুল হক। ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট তিনি এ পদে যোগ দিয়েছিলেন। তার কাছে আজ (১২ মার্চ, ২০১৫) বিকেলে উল্লেখিত লিফলেটটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন – “হ্যাঁ, আমিও দেখেছি ওগুলো। কাঁচা ভাবনার লেখা। কিছু দুষ্ট ছেলে মাঝে মাঝে দুষ্টুমী করে ওগুলো লাগানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা (কলেজ প্রশাসন) কখনো প্রশ্রয় দেই না। অমন লিফলেট দেখা মাত্র ছিড়ে ফেলতে বলা হয়েছে।”

কলেজ প্রশাসনের কাছে ছেলে আর মেয়ের কোনো তফাৎ নেই জানিয়ে এম ফজলুল হক বলেন, “আমাদের ছাত্রীরা ক্যাম্পাসের যে কোনো স্থানে যেতে পারবে। তবে ছাত্র হোস্টেলের আশাপাশে একটু সমস্যা হয় মাঝে মাঝে। এটাও কোনোমতেই কাম্য নয়।” এ প্রসঙ্গে তিনি গতকালের ঘটনাটিও উল্লেখ করেন। অধ্যক্ষ আরো বলেন, ‘আবাসিক ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধতার বিষয়টি অবশ্য ভালো। এতে উটকো লোকেরা ক্যাম্পাসে ঢুকতে সাহস পাবে না।’

সংবাদ ভাষ্য

barisal-bm-college-clash-with-outsider বিএম কলেজে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

লাঠিসোটা হাতে মুসলিম হলের ছাত্ররা

গতকালে ঘটনার ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে – “বহিরাগতদের হামলার জের ধরে আবাসিক হলের ছাত্ররা বরিশাল বিএম কলেজের বিভিন্ন ভবনের দরজা-জানালা ব্যাপক ভাংচুর করেছে। কলেজ ক্যাম্পাসের তিনটি আবাসিক হলের ছাত্ররা একযোগে প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী এ তাণ্ডব চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় দুটি ধারালো অস্ত্রসহ তিন বহিরাগতকে গ্রেফতার করা হয়।”

ঘটনার কারণ হিসাবে খবরগুলোয় আরো বলা হয়েছে – “বিএম কলেজ এলাকার বহিরাগত যুবক হিরা ক্যাম্পাসের মুসলিম হলের সামনের পুকুর পাড়ে প্রেমিকার সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় পুকুরে গোসলরত কয়েক ছাত্র তাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলে দু’ পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হিরা কিছুক্ষণ পরে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে গিয়ে তন্ময়, ইমরান, শুভ রাতুলসহ বেশ কয়েকজন বহিরাগতকে নিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ মুসলিম হলে প্রবেশ করে ওই ছাত্রদের খুঁজতে করতে থাকে। এ সময় হলের ছাত্ররা একত্রিত হয়ে তাদের ধাওয়া দিলে বহিরাগতরা পালিয়ে যায়। এরপরই কলেজের তিনটি ছাত্রাবাসের কয়েকশ ছাত্র বহিরাগতদের ক্যাম্পোসে প্রবেশে নিষেজ্ঞাধা জারির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন বিভাগের ভবনের দরজা-জানালায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে লাঠিসোটা ও দুইটি ধারালো অস্ত্রসহ তিনজন বহিরাগত ছাত্রকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের পরিচয় শনাক্ত ও বিএম কলেজে প্রবেশ না করার শর্তে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়।”

bm-college-clash বিএম কলেজে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, আটক ৩

লাঠিসোটা হাতে মুসলিম হলের ছাত্ররা

ঘটনা প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এম ফজলুল হকের নির্দেশনা অনুযায়ী আটক বহিরাগত শিক্ষার্থীর মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’ আর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম ফজলুল হক বলেছেন, ‘বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা করে নতুন পরিকল্পনা হাতে নেয়া।’

পর্যালোচনা
কোনো সংবাদেই অভিযুক্ত বহিরাগতদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখিত লিফলেটটির কথাও কোথাও আসেনি। এ বিষয়ে শুধু ক্যাম্পাসের রিপোর্টাররাই নয়, বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিকরাও ভাববেন –এমনটাই আমার প্রত্যাশা। সচেতন নাগরিক সমাজেরও সজাগ হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ঐতিহ্যবাহী বিএম কলেজেকে মৌলবাদের আখড়ায় পড়িণত হওয়া থেকে ঠেকানো সম্ভবত সমগ্র বরিশালবাসীর দায়িত্ব। নয়ত মহাত্মা অশ্বিনীর দত্তের আত্মা তাদের ক্ষমা করবে না।

জেনে রাখুন

muslim-hall-leaflet পুরানো সংবাদের সেই ছবিটি

পুরানো সংবাদের সেই ছবিটি

বাংলার শস্য ভাণ্ডার ও প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বন্দর নগরী বরিশালে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুন প্রতিষ্ঠিত বিএম কলেজ এর আগেও সাম্প্রদায়িকতার কবলে পরেছে। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ ও ১৯৫০ সালের দাঙ্গা-হাঙ্গামার পর এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ছাত্র-শিক্ষক ভারতে চলে গিয়েছিলো। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তখন কলেজের দ্বি-বার্ষিক ও ত্রি-বার্ষিক সম্মান কোর্স তুলে দিযে় এটিকে শুধু স্নাতক পাস কলেজ হিসেবে টিকিযে় রাখা হয়েছিলো। অথচ তার আগে এ কলেজ ছিলো দক্ষিণ এশিয়ার সেরা পাঁচ কলেজের একটি। পূর্ববাংলা তথা অধুনা বাংলাদেশের প্রথম দিকের সরকারি কলেজগুলোরও একটি এটি। এ কলেজকে কেন্দ্র করেই দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রেনেসাঁর সৃষ্টি হয়। এ কারণে বিএম কলেজের ইতিহাস মানে আধুনিক বাংলাদেশের ইতিহাস। বিশ্বের মানব সভ্যতার ইতিহাস ও বিকাশের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, আমেরিকার হারবার্ড, মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া ও ভারতের নালন্দা প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয় যেরূপ অবদান রেখেছে, পূর্ব বাংলায় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশে বিএম কলেজের ভূমিকা অনুরূপ বললেও বেশি বলা হবে না। উনিশ ও বিশ শতকের গোড়ার দিকে অবিভক্ত বাংলার জনজীবন যারা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তাদের অধিকাংশই ছিলেন এ কলেজের ছাত্র। দেশের জাতীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে বিএম কলেজের ছাত্ররা এককভাবে যত বড় অবদান রেখেছে এ দেশের আর কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পারেনি।

ঢাকা ও কলকাতা থেকে দূরে অবস্থান এবং নদী-নালা দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে এখানকার ছেলেমেয়েরা শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক পশ্চাৎপদ ছিল। ১৮৫৪ সালে বরিশাল জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ অঞ্চল আধুনিক শিক্ষার ক্ষেত্রে নবজাগরণ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিন দশক পরে আধুনিক বরিশালের স্থপতি দরিদ্রবান্ধব মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত ১৮৮৪ সালে বাবা ব্রজমোহন দত্তের নামে প্রতিষ্ঠা করেন বিএম স্কুল। তখনও প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করার পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আর সুযোগ ছিলো না বরিশালে। তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাবু রমেশ চন্দ্র দত্তের অনুরোধে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৮৯ সালে ওই স্কুল কম্পাউন্ডেই এই বিএম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মহাত্মা অশ্বিনী । ১৯১৭ সালে বিএম স্কুল কম্পাউন্ড থেকে বর্তমান ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয় এই কলেজ। প্রায় ৬২.০২ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পাসে আসার পরই শুরু হয়েছিলো বিএম কলেজের বর্ণালী অধ্যায়। সে সময় স্বদেশী ও অসহযোগ আন্দোলনের কারণে অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তি, উচ্চ শিক্ষিত ও স্বাধীনচেতা তরুণ ইংরেজদের গোলামী ছেড়ে চলে এসে দেশসেবা ও মানুষ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকুরি করাকে অধিক পছন্দনীয় মনে করেছিলেন। অশ্বিনী কুমার দত্ত তখন ভারতবর্ষের অনেক খ্যাতিমান শিক্ষকের সমাবেশ ঘটিয়ে এ কলেজের শিক্ষার মান অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যান। তার সাথে সাথে তিনি নিজেও লাভজনক ওকালতি পেশা ছেড়ে বিনা বেতনে এ কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। অধ্যক্ষ ব্রজেন্দ্রনাথ চট্টপাধ্যায়, রজনীকান্ত গুহ, বাবু সতীশচন্দ্রসহ বিএম কলেজের সে সময়কার অন্যান্য অধ্যক্ষদের পাণ্ডিত্ব্য এবং পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের ঈর্ষণীয় সাফল্য বরিশালের জন্য প্রচুর সুনাম বয়ে এনেছিলো। এ কলেজের অধ্যাপকদের প্রজ্ঞা ও শিক্ষাপদ্ধতি উন্নত করতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

আরো জানুন

barisal-bm-college-file-photo বরিশাল সরকারি বিএম কলেজ ক্যাম্পাস

মুঠোফোনে তোলা পুরানো একটি ছবি

১৯২২ সনে ইংরেজি ও দর্শন, ১৯২৫ সনে সংস্কৃতি ও গণিত, ১৯২৮ সনে রসায়ন এবং ১৯২৯ সালে অর্থনীতি সম্মান অনার্স কোর্স চালু হয় বিএম কলেজে। মূলত ১৯২২ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত সময়কাল ছিল বিএম কলেজের স্বর্ণযুগ। তখন এ কলেজের শিক্ষার মান এতই উন্নত ছিল যে, অনেকে প্রতিষ্ঠানকে দক্ষিণ বাংলার অক্সফোর্ড বলে আখ্যায়িত করেন। বাংলার ছোটলাট স্যার উডবর্ন সরকারি শিক্ষা বিবরনীতে লিখেছিলেন This moffusil College promises some days to Challenge the supremacy of the Metropolitan (Presidency) College. একই সময়ে বরিশালের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিটসন বেল লিখেছিলেন Barisal may be said to be the Oxford of East Bengal.

আর্থিক অনটনের কারণে ১৯৫২ সালে কলেজের অবস্থা খুবই নাজুক আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিরসনে ১৯৫৯ সালে প্রয়াত অধ্যাপক কবির চৌধুরীকে ডেপুটেশনে কলেজের নতুন অধ্যক্ষ নিযে়াগ করে সরকার। এর ফলে কলেজের অবস্থা পরিবর্তিত হতে থাকে। ১৯৬৪-৬৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ১৫ জন ছাত্রছাত্রী নিযে় অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক (সম্মান) পাঠ্যক্রম পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। ১৯৬৫ সালের পহেলা জুলাই বিএম কলেজকে প্রাদেশীকরণ করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সনের পরে আরো কয়েকটি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়। সর্বশেষ ২০১০-১১ শিক্ষা বর্ষে চালু হয় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও মার্কেটিং বিভাগ। এ কলেজে বর্তমানে মোট ২৪টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ১৯৯৯ সাল থেকে বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণী বিলুপ্ত করা হয়।

প্রতিবেদকঃ কবি, সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহক

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ:
বিএম কলেজে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, আটক ৩
বিএম কলেজের একাংশে নারীরা নিষিদ্ধ!


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ
এবার কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধ
চিরনিদ্রায় শায়িত সাংবাদিক লিটন বাশার
শ্রদ্ধা, ভালবাসা আর চোখের জলে বিদায়
বরিশালের বিনোদন কেন্দ্র উপচে পড়া ভীড়
পর্যটকদের ঢল সাগরকন্যা কুয়াকাটায়
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ জিয়াউল হক
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]