AmaderBarisal.com Logo

ভোলায় নাসরিন ট্রাজেডির এক যুগ আজ

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা ॥
আমাদেরবরিশাল.কম

৮ জুলাই ২০১৫ বুধবার ১:০৭:২৭ অপরাহ্ন

Bhola-nasrin-picআজ (৮ জুলাই) নাসরিন-১ লঞ্চ দূর্ঘটনার ১২ বছর অতিবাহিত হলো। ২০০৩ সালের ৮ জুলাই ঢাকা থেকে লালমোহনগামী এমভি নাসরিন-১ চাঁদপুরের ডাকাতিয়া এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালবোঝাই করার কারণে পানির তোড়ে তলা ফেটে গেলে প্রায় ২ হাজারের বেশি যাত্রীসহ লঞ্চটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। ওই দিন প্রায় ৮ শতাধিক মানুষের সলিল সমাধি ঘটে।

দিনটি ভোলাবাসীর জন্য এক শোকাবহ দিন। ১৯৭০ এর প্রলয়ংকারী ঘূর্নিঝড়ের পর ভোলাবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় ভয়াবহ সংবাদ ছিল নাসরিন লঞ্চ ট্রাজেডির ঘটনা। অনেকে তার প্রিয়জনদের হারিয়েছেন এই দিনে। আর এর মধ্য দিয়েই ঘটে যায় লঞ্চ দূর্ঘটনার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনাটিও।

এ সময় জীবিত মৃত সব মিলে ৪০০ যাত্রীর সন্ধান মিললেও প্রায় ৮’শ যাত্রীর প্রানহানি ঘটে। দূর্ঘটনার দুইদিন পর থেকে ভোলার মেঘনা পরিনত হয়েছিল লাশের নদীতে। সেই ভয়ংকর দৃশ্য মনে করে এখনও শিউরে উঠে ভোলার মানুষ।

এদিকে, নাসরিন ট্রাজেডি উপলক্ষ্যে লালমোহন প্রেসক্লাব, রিপোর্টারস ইউনিটি, নব মোহন ও গীতি চয়ন সংগঠনসহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী, সাংস্কৃতিক সংগঠন মানববন্ধন ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সেদিনের দূর্ঘটনায় নিহত ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের দরুন বাজার গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মোবারক হোসেনের স্ত্রী লুতফা বেগম জানান, স্বামী হারিয়ে গত ১২ বছর তিনি ২ মেয়ে ও ১ ছেলে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। কেউই তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। শুধু লুতফা বেগম নয় এমন অনেক পরিবার আছে সেদিনের দূর্ঘটনায় উপারজনকারী স্বজন হারিয়ে দিন কাটছে নানা সমস্যার মধ্যে।

এতবড় দুর্ঘটনা ঘটলেও ভোলা-লালমোহন রুটে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরাপদ লঞ্চ দেয়া হয়নি আজও। দুর্ঘটনার পরের সেই ফিটনেস বিহীন লঞ্চগুলো এখনো অবাধে চলছে ঢাকা-লালমোহন রুটে। এ কারণে ২০০৯ সালের ২৭ নভেম্বর আবারো দুর্ঘটনায় পড়ে কোকো-৪ লঞ্চটি। এ দুর্ঘটনায় ৮১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বার বার এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের টনক নড়ছে না। লালমোহন ও চরফ্যাশনের প্রায় ৮ লাখ মানুষ জীবন হাতে নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে রাজধানী সহ সারা দেশে যাতায়াত করে থাকে। মানুষ এসব লঞ্চে বাধ্য হয়ে উঠলেও ভীত সন্তস্ত্র থাকে।

উল্লেখ্য, ঢাকা-লালমোহর রুটে বর্তমানে নিম্নমানের ৪টি লঞ্চ চলাচল করছে। এগুলো হলো কোকো-৫, পাতারহাট-১ ও ৫, সালাউদ্দিন-১। এ লঞ্চগুলোর ফিটনেস খুবই দুর্বল। এ কারণে লালমোহন ও চরফ্যাশনের যাত্রীরা আতংকিত থাকছেন সবসময়।

এ ব্যপারে লালমোহন পৌর মেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিন বলেন, লালমোহন বাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি ঢাকা-লালমোহন রুটে একাটি মানসম্পন্ন লঞ্চের। কিন্তু লঞ্চ মালিকদের উদাসীনতা ও খামখেয়ালীর কারনে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে এই পথে যাতায়াত করছে। এ ব্যপারে তিনি কর্তৃপক্ষের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেন।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : [email protected]
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।