AmaderBarisal.com Logo

মেহেন্দিগঞ্জে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসুচী ভুন্ডল হওয়ার উপক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক
আমাদেরবরিশাল.কম

২৩ জুলাই ২০১৫ বৃহস্পতিবার ২:৫০:০৫ অপরাহ্ন

বরিশাল সংবাদ মানচিত্রমেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কারনে প্রশিক্ষন নেয়া বেকার ৭০৮ যুবক ও যুবতী ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসুচীর আওতায় সরকারী দপ্তরে যোগদান করতে পারছে না।

গত ১ জুলাই থেকে তাদের যোগদান করার কথা ছিলো। কিন্তু তার পূর্ব থেকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনের কোন খোঁজ নেই।

গত ২৪ দিন ধরে আত্নগোপনে থাকা ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেকার যুবক-যুব মহিলাদের প্রশিক্ষন দেয়া বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা প্রশিক্ষকদের অর্থ সাতের অভিযোগ উঠেছে।

নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়া ওই কর্মকর্তার ব্যবহৃত মুঠোফোন খোলা থাকলেও কোন কল রিসিভ করেন না।

অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, বরিশাল জেলার একমাত্র মেহেন্দেীগঞ্জ উপজেলাকে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসুচীর আওতায় নেয় সরকার।

এতে উপজেলার ২ হাজার ৫০০ বেকার যুবক যুব মহিলা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষন নিয়ে সরকারী দপ্তরে নিয়োগ পাবে।

এই জন্য প্রচার-প্রচারনা না করায় মাত্র ৭০৮ জন প্রশিক্ষন নেয়।

প্রশিক্ষন দেয়া সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তার অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষক হিসেবে তাদের প্রত্যেক দিনের জন্য ৫০০ টাকা করে বরাদ্ধ রয়েছে।

উপজেলা সমবায় অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, তার প্রশিক্ষক হিসেবে পাওয়া ২০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ২ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন-অর রশিদ তার প্রাপ্ত ৩০ হাজার টাকা মধ্যে পেয়েছেন মাত্র ৫০০, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তার প্রাপ্য ১৯ হাজার থেকে পেয়েছেন ৩ হাজার টাকা।

এভাবে একাধিক প্রশিক্ষককে ভাতা দেননি আতœগোপনে থাকা যুব উন্নয়ন অফিসার দেলোয়ার হোসেন।

তাদের অভিযোগ ৩০ জুনের মধ্যে তাদের টাকা দেয়ার কথা। কিন্তু তিনি ২৮ জুন থেকে লাপাত্তা। তার ব্যবহৃত ফোনে কল করা হলে রিসিভ করেন না।

সে আত্নগোপনে থাকায় ১ জুলাই থেকে প্রশিক্ষিত বেকার যুব ও নারীরা সরকারী দপ্তরে যোগ দিতে পারেনি।

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোয়েব ফারুক বলেন, আমিও প্রশিক্ষক ছিলাম। আমাকেও কোন ভাতার টাকা দেয়া হয়নি।

দীর্ঘদিন পর্যন্ত অফিসে অনুপস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস সহকারী সেলিম রেজা বলেন, প্রশিক্ষনের সূচীপত্রের সিডিউল পর্যস্ত কাউকে দেখানো হয়নি। মোট কতোটি সেশন কতোজন প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন তা পর্যন্ত অফিসের কেউ জানেন না।

তিনি আরও জানান, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীতে বিভিন্ন দুর্নীতি করেছে সে। তাই দোলোয়ার হোসাইন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন বলেও ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার দেলোয়ার হোসাইনের ব্যবহৃত মোবাইল (০১৭১৫-০৪৭৭৮১) ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাজিম-উর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও ন্যাশনাল সার্ভিসের প্রকল্প পরিচালকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : [email protected]
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।