AmaderBarisal.com Logo

আসামীদের হুমকি অব্যহত

উজিরপুরের পোড়া ভিটায়ও না, পরাশ্রয় দশরথ সমাদ্দারের পরিবার !

নিজস্ব প্রতিবেদক
আমাদেরবরিশাল.কম

৩০ আগস্ট ২০১৫ রবিবার ৯:১৯:৩৫ অপরাহ্ন

উজিরপুরের পোড়া ভিটায়ও না, পরাশ্রয় দশরথ সমাদ্দারের পরিবার !দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাসেও পোড়া ভিটি’তে ফিরতে পারেনি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের জামবাড়ি গ্রামের দশরথ সমাদ্দারের পরিবার। যারা তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল, সেই সব ষড়যন্ত্রকারীদের অব্যাহত হুমকির মুখে এখন পর্যন্ত পোড়া ভিটি’তে নির্মান করতে পারেননি নতুন একটি ঘরও। মাথা গোঁজার কোন ঠাই নেই তাদের।

 

তাই মাস্টার্স পড়ুয়া বড় মেয়ে কনক সমাদ্দার আর ছোট মেয়ে এইচএসসি’র ছাত্রী মিতু সমাদ্দার থাকেন পাশ্ববর্তী বানারীপাড়ার উপজেলার সৈয়দকাঠী গ্রামে বড় মামা চিত্ত রঞ্জন রায়ের বাড়িতে।

 

মেঝ মেয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী নমিতা সমাদ্দার থাকেন বরিশাল নগরীর বিএম কলেজ রোডে ছোট মামা কালীপদ রায়ের বাসায়।

 

একমাত্র ছোট ছেলে নবম শ্রেনীর ছাত্র সজল সমাদ্দার, স্ত্রী আলো রানী সমাদ্দার এবং দশরথ সমাদ্দার নিজে থাকেন বাড়ি থেকে দূরে বোনের বাড়িতে। ঘর পুড়িয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ এবং কথিত একটি হত্যা মামলায় জেলহাজতে থাকার কারনে বড় মেয়ে কনক এবারের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষার ফরম পূরন করতে পারেননি। এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি ছোট বোন মিতু সমাদ্দারও। ঘরবাড়ি না থাকায় থাকা-খাওয়া-পোষাক, লেখাপড়া, বিনোদন, চিকিৎসা কিছুই জোটেনা এই পরিবারের ৬ সদস্যের। সাড়ে ৫ মাস ধরে যাযাবরের মতো চলছে তাদের জীবন-জীবিকা।

 

এখানেই শেষ নয়, যে ঘর পুড়িয়ে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেই ঘর পোড়া মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিটেমাটি ছাড়া এই পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘর পোড়া মামলার আসামীদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকায় তাদের ধরতে অনীহা দেখাচ্ছে পুলিশ। এই সুযোগে স্থানীয় বিএনপি’র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এই মামলার কয়েকজন আসামীকেও পুলিশ ধরছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের কাছে এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার অভিযোগ করতে গেলে, তিনিও এই মুহূর্তে আসামী ধরা হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন তাদের, অভিযোগ দশরথের স্ত্রী আলো রানী সমাদ্দারের। তবে এমপি ইউনুস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ মার্চ সকালে। জামবাড়ি গ্রামের দশরথ সমাদ্দারের বাড়ির অদূরে বাগানে সুখদেব মিস্ত্রি নামে এক যুবকের গলায় ফাঁস দেয়া লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। ওই যুবকের সাথে দশরথের ছোট মেয়ে মিতু সমাদ্দারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ওই সম্পর্কের সূত্র ধরেই সুখদেবকে হত্যা করা হয়েছে- এমন সন্দেহে ৩ বোন কনক, নমিতা ও মিতু সমাদ্দারকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেশী স্বপন মিস্ত্রি, সুনীল মিস্ত্রি, সুরেন মিস্ত্রি এবং শিখা মল্লিক।

 

লাশ উদ্ধারের খবরে কনকদের বাড়িতে একে একে লোক জড়ো হলে পরিস্থিতি ক্রমশঃ উত্তপ্ত হতে থাকে। এর মধ্যে হারতা ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হরেন রায়ের ছোট ভাই বিধান রায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য কৃষ্ণ বড়াল, নিখিল চক্রবর্তী, অমৃত মিস্ত্রি, অভিলাষ হালদার সহ অন্যান্যরা কনকদের ঘর-আসবাবপত্র ভাংচুর এবং খড়কুটার পালা, রান্না ঘরের ছনের চালায় আগুন দিতে থাকে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেস্টা করে ব্যর্থ হয়। কিছুক্ষনের মধ্যেই পুরো বাড়িটি দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। স্থানীয় বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান হরেন রায় উত্তেজিত জনতার মাঝে আগুনে ঘি ঢেলে দেয়ার মতো তাদের ঘরে আগুন দিতে উদ্বুদ্ধ করে বলে অভিযোগ দশরথের বড় মেয়ে কনকের।

 

এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং পুলিশের সহায়তায় প্রানে রক্ষা পায় দশরথের পরিবারের ৬ সদস্য। ওই দিন তাদের আশ্রয় হয় থানা হাজতে। এরপর আর তাদের নিজ বাড়িতে ফেরা হয়নি। বাড়িতে তাদের থাকারও কোন জায়গা নেই। তাই নিকটাত্মিদের বাড়িই এখন তাদের ঠিকানা।

 

এদিকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ওইদিনই সুখদেবের বাবা সুপেন মিস্ত্রি বাদী হয়ে তিন বোন কনক, নমিতা ও মিতু এবং তাদের বাবা দশরথকে আসামী করে উজিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে বাড়ি ভাংচুর, লুট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দশরথের স্ত্রী আলো রানী সমাদ্দার বাদী হয়ে ৩২ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা প্রায় ৬শ’ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ২ মাস ৭ দিন হাজতবাসের পর উচ্চাদালত থেকে জমিনে মুক্ত হন দশরথ এবং তাদের ৩ মেয়ে।

 

দশরথের ৩ মেয়ে কনক, নমিতা ও মিতুর দাবী, তারা সুখদেবকে হত্যা করেননি। যে বা যারা তাকে হত্যা করেছে, তাদের সনাক্ত করে কঠোর শাস্তি দেয়া হোক, তারাও সেটা চান। পাশাপাশি এই ঘটনাকে পূঁজি করে যারা তাদের ঘর পুড়িয়ে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছে, তাদেরও কঠোর শাস্তি চান দশরথ এবং তার পরিবারের যাযাবর সদস্যরা।

 

উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার এবং আগুনে বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলা তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিঘ্রই আদালতে এই দুই মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হবে।

 

ওসি জানান, হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে রয়েছে। বাড়ি পোড়ানো মামলার কয়েকজন আসামী গ্রেফতার করে ইতিমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেস্টা চলছে। কোন প্রভাবের কারনে আসামীদের পুলিশ ধরছে না, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন ওসি।



সম্পাদনা: জপ / বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : [email protected]
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।