AmaderBarisal.com Logo

এ কেমন শিক্ষার্থীর শ্লীলতা হানীর বিচার ?

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
আমাদেরবরিশাল.কম

১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ মঙ্গলবার ৭:৫৩:১৮ অপরাহ্ন

ঝালকাঠিতে গিরস্তের এক দিনে চোরের ১০ বছরের জেলঝালকাঠির কে এ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীর শ্লীলতা হানীর ঘটনার সাথে জড়িত তিন যুবককে সালিস বৈঠকে নাম মাত্র জুতোপেটা দিয়ে রেহাই দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রাকিব, রবিউল ও হাসিব সদর উপজেলার পোনাবালিয়া প্রতাপমহল গ্রামের প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান। তাদের অপকর্ম থেকে এভাবে রেহাই দেওয়ায় নির্যাতিতা মান-সন্মানের ভয়ে বাড়ি থেকে বেরহতে পারছে না। বন্ধ হয়েগেছে নির্যাতিতার বিদ্যালয়ে গিয়ে তার শিক্ষা গ্রহন।

 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র থেকে জানা গেছে, ২৩ আগস্ট সন্ধ্যার সময় ওই কিশোরী স্কুল ছাত্রী ঘরে একা ছিল। তার মা বাবা ঘরে না থাকার সুবাধে ওই গ্রামের বখাটে আবু খা’র পুত্র রাকিব ও তার দুই সহযোগী ঐ বালিকাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এসময় তার ডাক চিৎকারে পাশ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে আসলে ধর্ষন চেষ্টাকারীরা পালিয়ে যায়। নির্যাতিত স্কুল ছাত্রীর পরিবার বিচারের জন্য স্থানীয় সমাজপতিদের কাছে ধর্ণা দিতে থাকে।

এ ঘটনায় পর দিন (২৪ আগস্ট) স্থানীয় আনছার দারোগার বাসায় বিচার বসে। ওই এলাকার আ. আজিজের পুত্র আওয়ামীলীগ নেতা আলী আকবর, তার ভাই জাপা নেতা কবির, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আকবর, নয়ন হাওলাদারের পুত্র শুক্কুর, নুরু খা ও স্থানীয় চৌকিদার ইয়াকুব সালিস মিাংসার উদ্যেগ নেয়।

সবার উপস্থিতি মেযেটির বক্তব্য ও অভিযুক্তদের বক্তব্য শেষে সালিসগণ অভিযুক্ত রাকিবকে ৫০ জুতাপেটা এবং রবিউল ও হাসিবকে ২৫টি করে জুতা পেটা করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু রাকিবকে একটি জুতার পেটাদিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়া হয় বলে নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ। শালিশগনের মধ্যে ইয়াকুব চৌকিদার জানান, তিনি মেয়েটির ইজ্জতের দিকে তাকিয়ে থানা পুলিশ গড়ায়নি।

সালিসগনের মধ্যে আওয়ামীলীগ ওয়ার্ড সভাপতি বেলায়েত জানান, স্থানীয়রা তাকে ধরেছে বিষয়টি মিমাংসার জন্য, তাই তিনি মিমাংশা করেছেন কিন্তু তিনি জানেন না এ সংক্রান্ত অভিযোগের কোন সালিস -মিমাংসা হয় কি না।

 

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছেন, সালিসগন অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা গ্রহন করে নামে মাত্র সালিস করে সম্পূর্নটাকা ভাগ বাটোয়ারা করে হালাল করেছেন।

অপর শালিশদার জাপা নেতা কবির জানান, স্থানীয় মুরব্বিরা শালিশী করেছেন। তিনি উপস্থিত থাকলেও তিনি কিছু বলেননি।

এ ব্যপারে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তবে তারা অন্য সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের নির্দোশ দাবী করেন।

নির্যাতিত স্কুল ছাত্রীর পিতা মাতা জানান, অভিযুক্ত রাকিবের পরিবার প্রভাবশালী। স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের কারনে তারা পুলিশের কাছে আসতে পারছেননা। এ ঘঁনার পর থেকে তাদের মেয়ের মানষিক অবস্থা ভাল নেই। তাই বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যপারে ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার্স ইনচাজ (ওসি) আ. সালাম জানান, তিনি এ ব্যপারে তার কাছে কেউ আসেনি। আসলে মামলা নিয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার সুভাষ সাহা মুঠোফোনে জানান, এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবে না। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।



সম্পাদনা: জপ / বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : [email protected]
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।