বহুদিন পরে এসে যদি উপদেশ দাও যদি কথা সীমারেখা ভুলে বল ‘সুখে থেক’ তবে কি তা প্রহসন নয়? আমি বড্ড শ্রমে-ঘামে, নজল-যতনে সন্তানের মতো পুষে রেখেছি এসব বেদনা তার জন্যে কি একটুও মায়া থাকবে না বল, কোনো বাবা-মা কি পারে এতটা নির্দয় হতে এতটা নির্বোধ -স্বার্থপর হতে ! তারচেয়ে বল, দীর্ঘজীবী হোক দু:খেরা দীর্ঘজীবী হোক বেদনার ছা-পোনারা ছায়াচ্ছন্ন প্রেরণাময়ী নারীর মতো সঙ্গী হোক ঘন উদলা অন্ধকারের মতো - তারচেয়ে লীলাভ আলোর বর্ষণ করো আরও ঘৃণা আরও অভিশাপ, আরও সর্বনাশের পরিনাম। আমি নৈ:শব্দের শয্যায়…
বরিশাল ২৩ জুন, (আজাদ আলাউদ্দিন/আমাদের বরিশাল ডটকম): ঐতিহাসিক পলাশি ট্রাজেডির ২৫৪ তম বার্ষিকী। ১৭৫৭ সালের এই দিনে পলাশির প্রান্তরে রবার্ট ক্লাইভ, মীরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ চক্র একটি কালো দিবসের জন্ম দেয়। সেই ঘৃনিত কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টির পশ্চাতে জড়িত ছিল বিশ্বাস ঘাতক জগৎশেঠ, মাহতাব চাঁদ, উর্মিচাঁদ, মহারাজা স্বরূপচাঁদ, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র, রায়দুর্লভ, মীর জাফর, ঘষেটি বেগম,…
সমস্যাটা ওখানে, আমি মানুষ হয়ে জন্মেছি ! আমার একটা মাথা আছে সেখানে কল্পলোকের ভাবনা আছে অথচ ওখানটায় আমার কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই শুধু ভাবতে -ভাবতে ক্লান্ত করে । আমি কেন তাঁর দায় নেব ? কেন আমার মাথার চুলগুলো খসে পড়ে দিনরাত্রির মৃত্যুর মত ? কেন সব ক্লান্তি এসে জমা হয় দু পায়ের গোড়ালিতে ? তবু প্রত্যাহ সকালে টুথব্রাশ আমাকে ডাকে টুথপেষ্ট আমাকে ডাকে সাবান-সেম্পু আমাকে ডাকে সব ক্লান্তি ধুয়ে ফেলতে । কিন্তু আমি যে মানুষ ! ক্লান্তির ময়লা কি সাবানে ধোয়া যায় ? হেঁসেলের কটু গন্ধ আমার…
ফিরে আসা আমার একেবারে পছন্দ নয় কারণ, তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছো তাই সময়ের ক্ষয়ে আমি শিখে নিয়েছি সব রকম নি:সঙ্গতার ভাষা। তবে ভালবাসি তোমাকেই তাই বলে কাছে নয় স্পর্শে-আলিঙ্গনেও নয় যেমন আকাশ আর সমুদ্র ভালবাসে কেবল তাঁরা বোঝে মিলন আর বিরহের মারেফাত। ফিরে আসা আমার একবারে পছন্দ নয় কারণ, তুমি নিজের দু:খ সয়েই বড় ক্লান্ত কারণ, তুমি আমার দু:খ অনুবাদ কর নি। আমি তো মাটি নই তাহলে কীভাবে এত মানুষের নিষ্ঠুরতায় মৌন থাকি কীভাবে নিসর্গের এত অনুষঙ্গের মর্মবেদনা নিরীক্ষা করি কীভাবে এত পাতার মৃত্যু শিহরণ বুকের খোলে জমিয়ে…
সুখগুলোকে তুলে রেখেছি তোমার অভিমানের ছিঁকেয় আর এক পঙতি অন্ধকার পাহারা দিচ্ছে দু:খগুলো । ওরা শান্তই থাকে, থাকতে চায় নিস্তব্দতায় কিন্তু, হঠাৎ হঠাৎ রাত্রির দেরাজ খুলে কে ? কে যেন ওগুলো নাড়াচাড়া করে ! সুড়সুড়ি দেয় আমায় তখন অন্ধকারের ত্বক হাঁতড়ে কার যেন অস্তিত্ব অনুভব করি ছায়া- ছায়া রমনীর কাঁপা- কাঁপা শরীর বিষম ধন্দের ঘোরে আবার শালিন হই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানায় শুয়ে টের পাই আমি বেঁচে আছি ! হুম, এখনো জীবিত আমি ! নাকি এও এক নাভিশ্বাস নণ্ট…
সব জীবনের মানে থাকতে হবে এমন তো কথা নেই কিছু মানুষ আছে যারা জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে জর্জরিত কষ্টে-বেদনায় ম্লান হয়ে থাকবে ভাবলেসহীন- নির্লিপ্ত ! সব জীবনে ছন্দ থাকতে হবে এমন তো কথা নেই সব জীবনে সুখ থাকবে এমনও কথা নেই কেন জীবনটাকে এত সিরিয়াস ভাবো তোমরা ? জীবনটাকে নিয়ে মাঝে-মধ্যে খেলতে হয় যেমন আমি, খেলি একাকি তুমুল সারাবেলা ! জীবনটাকে শুধু ওলট-পালট করে দেখছি দু:খের রঙ কত বিদঘুটে কালো । সুখের ঘরে কতশত আলো ! জীবন নিয়ে খেলতে হয়…
‘টানা টানা চোখ আর মায়া ভরা মুখ/সকলের প্রিয় কবি নাম ফররুখ/ ছোটদের বড়দের সকলের তিনি/ এই মাটি, এই দেশ তার কাছে ঋণী/ কথা গান ছন্দের গুনী জাদুকর/ আল্লাহর প্রেমে তার ভরা অন্তর/সেই প্রেম ভাষা পায় কাগজের ভাঁজে/ আলিফের মত সোজা কথা আর কাজে—–’
মুসলিম রেঁনেসার কবি ফররুখ আহমদের জীবন…
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) একটি নাম। একটি অধ্যায়। একটি নবযুগের সূচনাকারী। যার অগ্নিবীণায় অনুরণিত হয়েছে বিদ্রোহের সুর। সে সুরের মূর্ছনায় প্রাণের আবেগে জেগে উঠেছে বাঙালিরা। তিনি আমাদের রেনেসার অগ্রদূত। বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের রূপকার। নজরুল না জন্মালে অবহেলিত শোষিত বাঙালির আত্মদর্শন সম্ভব হতো কিনা সন্দেহ। নজরুল ভোরের নকিব হয়ে আহ্বান জানিয়ে বললেন-
‘কোথা সে…
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদে স্থান পাওয়া কবিতার লাইন- ‘আপনা মাংশে হরিণা বৈরী’ কিংবা মধ্যযুগের কবি ভারতচন্দ্র রায়গুনাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ উক্তিগুলো আজো প্রবাদ হয়ে উচ্চারিত হচ্ছে মানুষের মুখে মুখে। এরূপ মানের কবিতার লাইন ইদানিং আমাদের চোখে খুব একটা পড়ে না। কিন্তু কেন এই অবস্থা? সাম্প্রতিক সাহিত্যের এই ভাবনা থেকেই নিবন্ধটির উৎপত্তি।
আমরা জানি- বাংলা কাব্যে আধুনিক যুগের সূচনা করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ…
দেশের জন্যে উনারা নাকি প্রান খানা দান করেন, ছল-চাতুরীর ছক্কা মেরে দেশ দরদীর ভাণ করেন। হায়রে পোড়া কপাল মোদের, দিন আসেনা প্রতিশোধের। উনারাই আবার নির্বাচনে নিজ সাধুবাদ গান করেন। উন্নয়নের সূর তোলে তাদের গিটার আর সেতারে, গুণ মুগ্ধ হয়ে বলি সেযে আহারে কি নেতারে। বক্তৃতা ভাষনে, বসে ঐ আসনে। গুষ্ঠি উদ্ধার করেন শেষে টিভি আর বেতারে।
- দন্তস্য মুন্না