
বামনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক !
বামনা প্রতিনিধি আমাদেরবরিশাল.কম ৯ December ২০১৫ Wednesday ৭:১০:২৩ PM
বরগুনার বামনায় খোলপটুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ও তার বাবাকে রুমে আটকে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় পাশে থাকা অপর এক ছাত্রকে খাতা না দেখানোর অভিযোগে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছাব্বির কে পরীক্ষার হল থেকে বেড় করে দেয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো.শামসুল আলম। পরের দিন ঘটনা জিজ্ঞাসা করতে আসলে ওই ছাত্র ও তার পিতা স্বপন কে শারিরীক নির্যাতন করেন শিক্ষক শামসুল আলম।
শিক্ষার্থী ছাব্বির জানান, গত বুধবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা চলাকালীন সময় পাশের ছাত্র কে লেখা না দেখালে স্কুলের ম্যাডাম তানিয়া তার উত্তরপত্র টেনে নিয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার হলে গেলে রিতারানী ম্যাডাম ও ধর্মীয় শিক্ষক সামসুল আলম স্যার আমাকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে হল থেকে বের করে দেয়।
এই ঘটনা ছাব্বির তার পিতা স্বপনকে জানালে তিনি বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে শিক্ষক সামসুল আলম তাকে গলাধাক্কাতে ধাক্কাতে স্কুলের ভিতর থেকে রাস্তায় নিয়ে এসে শারিরীক ভাবে নির্যাতন করে। বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র বেল্লাল জানান, ছাব্বির পরীক্ষার হলে পাশের ছাত্রকে পেপার না দেখালে তানিয়া ম্যাডাম তার উত্তরপত্র টেনে নিয়ে হল থেকে বের করে দেয়। পরেরদিন পরীক্ষা দিতে আসলে ওই দিনও তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি, উল্টো তার পিতা স্বপন কে মারধর করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মামুন ও আইউব আলী জানান, স্বপনকে স্কুলের শিক্ষক সামসুল আলম গলা ধাক্কাতে ধাক্কাতে স্কুলের মধ্যে থেকে রাস্তায় নিয়ে আসেন।
ছাব্বিরের মা খাদিজা বেগম জানান, ন্যায় বিচারের জন্য আমরা শুক্রবার রতেই বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করি। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানতে পারলে আমাদের নানা রকম ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
শিক্ষিকা তানিয়া বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাব্বির পাশের শিক্ষার্থীর লেখা দেখছিল তাই তার উত্তরপত্র টেনে নিয়ে কতক্ষন পর আবার দিয়ে দিয়েছি।
এ ঘটনায় ওর দাদা আনসার আলী এসে আমার বাসার সামনে গালাগাল করলে পরের দিন রিতা রানী ম্যাডাম তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহাবুবুর রশীদ জানান, শিক্ষার্থীর পরিবার আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার হালদার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অনঅভিপ্রেত। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন বলেন, আমি ঘটনার সময় স্কুলে ছিলাম না। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্পাদনা: জপ / বরিশাল ডেস্ক
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
|