" />
AmaderBarisal.com Logo

বিবেক বিপর্যয় (ছোট গল্প)


আমাদেরবরিশাল.কম

২৮ January ২০১১ Friday ৬:৪৭:৩৮ PM

(এক)

আচ্ছা, কান্ডটা কি এভাবে ঘটে গেল নাকি যে, একটি চতুর অথচ ক্ষুধার্থ শেয়াল, তার ক্ষুধা মেটানোর জন্য একটা শিকারের দিকে তীক্ষ্ণ নজর! যেন একটা হৃষ্টপুষ্ট ছাগ । আর সে ছাগটির মাথায় বড় বড় দুটো শিং। যেন পাথরে ঘসে ঘসে ছুরির চেয়েও ধারালো যাকে বলে। আর শেয়াল তা না জেনে, না বুঝেই একদিন যখন ছাগটির উপর লাফিয়ে-ঝাপিয়ে পড়ল তখন ছাগটি সুযোগ বুঝেই ধারালো শিং এর ঘায়ে…….

বেচারা শেয়াল! কতই না তার বুদ্ধি।

আমার মজাই লাগছে। আমি যেন সেই শেয়ালকেই দেখছি। কাপড় দিয়ে অর্ধাঙ্গ ঢাকা। ঢাকা মানে বিছানার চাদর দিয়ে আমিই ঢেকে দিয়েছি। ঠিক যেখানে ছিল, এখনো তেমনি আছে। ও সুবোধ বালকের মত আমার বুক ঘেষে-কোল ঘেষে ছিল। এখন যেন নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। ওর দুচোখ বোজা শ্যামলা মুখ খানি স্পস্ট দেখা যাচ্ছে, যেন নিস্পাপ ঐ মুখে পাপের কোন প্রতিচ্ছবি এখন আর নেই। ওর দেহটা দেখা যাচ্ছে। নিটোল কোমল কালচে পিঠ। জামা নেই। পিঠটা যেন সরল রেখার কোমরের দিকে নেমে গেছে। তারপরে বিছানার চাদরটা টেনে টুনে আমিই কোমর থেকে ঢেকে দিয়েছি। দেয়া উচিত্। হতে পারে নিতান্ত চোখে খারাপ লাগার কারনেই দিয়েছিলাম।

(দুই)

ওর দিকে আমি চোখ ফিরে তাকালাম। আলস্য মাখানো ভঙ্গিতে,শরীর দুলিয়ে দুলিয়ে মুখে সেই র্নিলজ্জের মত ভাবটা টেনে দুহাতে নিজ শরীর বুলালাম। যেন ববিকে মাতাল করার আবার নতুন আরেকটা ইচ্ছে। কারন, ঘন্টা খানেক আগেই ওকে আমি এভাবে মাতাল করেছিলাম। আর বলেছিলাম ‘তুমি একটা গাধা’।

ববি যেন কথাটা শুনে একটু লজ্জা পেয়েছিল।

যদিও তার চেয়েও বেশী লজ্জা পাচ্ছিলো আমাকে এভাবে র্নিলজ্জের মতো দেখে। ‍ওর চোখ দুটো নিচে নামিয়ে ছিলো। এসব ব্যপারে পুরুষের একটু লজ্জা টজ্জা বেশী থাকে তা আমার আগে জানা ছিল না। মোটের উপর ববি সলজ্জভাবে আমার দিকে চোখ না দেবার চেষ্টা করছিলো। কারন, দেখছিলাম; ওর চোখ জোড়া রাজ্যের সমস্ত লজ্জায় যেন কুকড়ে কুকড়ে যায়। তবু আমি হাত ছানি দিয়ে ডাকছিলাম- ‘এই ববি, দ্যাখ-দ্যাখ’। আর সেই ডাক শুনে ববি চমকে চমকে এক একবার আমার দিকে তাকিয়ে ফেলছিলো। ন্যাকামো যাকে বলে।

(তিন)

ববি তো ভদ্র ছেলে নয়। লুচ্চা-চোট্টা-বদমাশ। এসব শুধু আমারই ধারনা নয়। যাকগে ওসব কথা। আমার ধারনা দিয়ে কি হবে? ববি একজন মাস্তান, গুন্ডা-সন্ত্রাসী, এ যেমন সবাই জানে তেমনি আমিও। ও ধনকুবের ছেলে। ইচ্ছে মত তাই যা ইচ্ছে হয় করে। এমন কোন কুকর্ম নেই যা ববিকে আকৃস্ট করেনি। এমন কি খুন বলে যে একটা কথা আছে না? সেটির পাঠও সেদিন চুকিয়েছে। একটি মেয়ে সুমনাকে দিয়ে। শুধু ও একা নয় সাথে কয়েক বন্ধুরা মিলেই। মেয়েটি ধকল সইতে না পেরে মরেই গেল। এমন তো নয় যে ববির এ কর্মই হচ্ছে ওর জীবিকা। এখানে ভাললাগার হয়তো একটা ব্যাপার স্যাপার আছে। অবশ্য ওর এই ভাললাগার প্রতিবাদ ও কেউ করেনা। নারীরাও নিরুপায়। ওর ভাললাগার প্রতি সায় না দিলে সে, হয় এসিডে ঝলসে যাবে না হয় সুমনা হয়ে আত্মহত্যার ও সুযোগ টুকু পাবে না। অবশ্য এরকম ছেলেদের কে কেউ স্বেচ্ছাচারী বলে কিনা তা আমি জানি না তবে আমি যে স্বেচ্ছাচরী এ আমি জানি। আমার ভললাগাগুলোকে আমি স্বাধীন করে দিয়ে থাকি। তা হলে আমিও কি ববির মত? এক্ষেএে ভাললাগার স্বাধীনতাকে সহজভাবে কাজে লাগাতে পারলে এ পৃথিবীতে কেহই সে সুযোগ আপোষে ছেড়ে দেয় না । অবশ্যই দেয়না ।

(চার)

গোল্লায় যাক সব। কি যেন ভাবছিলাম? ও ববির ভাললাগার কথা। ভাললাগাটা আছে বলেই বোধ হয় আমি ববির কাছে অনর্থক কিছু ছিলাম না। তারপরো আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ‘তুমি যদি নাই দেখবে, তবে আমি এভাবে তোমার সামনে দারিয়ে আছি কেন’? ববি একথার কোন উত্তর দেইনি। তাও মনে হয় লজ্জায়। আচ্ছা, পুরুষ মানুষ কি এমন লাজুক ও হয়? অথচ কদিন আগেও এই ববিই আমার ওড়না টান দিয়ে বলেছিল-‘চল। ঐ অন্ধকার টায় চল’। আমি যাইনি। সেদিন ওর বুকে কি সাহস টাই না ছিল্। চোখে-মুখে লজ্জা বলতে তো কিছুই ছিলনা। আর আজ লজ্জায় যেন মরে যায় যায়। ওর সামনে আমি কিভাবে দাড়িয়ে ছিলাম তা বুঝেই হয়তো ও লজ্জা পাচ্ছিলো।

এসব কথা হঠাত্ এভাবে মনে হওয়ায় আমার দু চোখ ববির শায়িত শরীরের দিকে চলে গেল। কি যেন একটা ইচ্ছে হল। আমার হাতটা ওর খোলা পিঠের উপর রাখলাম।

বেশ দেখাচ্ছে এখন আমাকে তাই না? বুক আর কোমরের আভরন ছাড়া আমার শরীরে আর কিছুই নেই। এভাবেই আমি ওর সামনে সে সময় দাড়িয়ে ছিলাম। এখনো ওর কাছে ওর পিঠের উপর আমার হাতটা পিঠ বুলিয়ে দিচ্ছে,আমার হাতটা এখন আমার কাছে সুন্দর লাগছে। অদ্ভুদ সুন্দর। আমার এ হাতটা দেখে আমার এক বান্ধবী বলেছিল- ‘তোর কাছে আর ছুরি রাখতে হবে না’। তার মানে নখের ডগা গুলো এতই ছুচালো ও তীক্ষ্ণ যে, ছুরির কাজ চলে যায়। আমি কি তাহলে ছাগ? ঐযে,যার মাথায় ছুরির মত ধারালো শিং। আমার ওতো ধারালো নখর-পাঁচ; পাঁচ দশটা। কি জানি! তবে পলিশ করা নখ গুলোয় আলো পড়ে পড়ে এখন চক চক করছে। ববি ও দেখে চমকে উঠেছিলো এক সময়। আমার এই হাতের জন্যই বোধ হয় আমাকে ভিষন সুন্দরী দেখায়। তবে ববি-সেও সুপুরুষ বটে এবং দারুন স্মার্ট। ববি বলেছিল-‘তোমার নখ সত্যিই দারুন’। আমি বলেছিলাম-‘কতটা আর হবে’? ববি কিছু বলবার আগেই আমি ওকে নিয়ে বিছানায় ঝাপিয়ে পরেছিলাম। যদিও সেই সময়টায় আমার বাদলের কথা মনে হচ্ছিল। বাদল। আমার প্রান পুরুষ। যাকে আমার মন-প্রান সপে দিয়ে নিজেকে অবশিস্ট কিছুই রাখিনি। শুধু বাদলের চিলতে চিলতে ভালবাসাগুলো ছাড়া। বাদলের ভালবাসার ক্ষমতা দেখে আমি আশ্চর্য হতাম। এখনো হই। ববির মত সেও একজন পুরুষ। তবে বিপরীত। আজ এতটা বছর ধরে আমাদের সম্পর্ক চলছে, তবু এক মুহুর্তের জন্যেও বাদলের; আমাকে নিয়ে এভাবে বিছানায় ঝাপিয়ে পড়ার ইচ্ছেটা-আমি তার মাঝে দেখিনি। এ কেমন পুরুষ সে। সব পুরুষরা যখন এমনই চায় তখন বাদল এমন কেন? সত্যিই কি সে পবিএ। আর সে জন্যেই হয়তো তাকে আমি এতটা ভালবাসি। প্রচণ্ড ভালবাসা যাকে বলে।

(পাঁচ)

আমার এখন ইচ্ছে হচ্ছে,শুয়ে থাকা ববির ছুঁচালো নখ দিয়ে ওর চামড়াটা ছিলে নিই। সেই চামড়া দিয়ে দুজোড়া স্লিপার বানিয়ে এক জোড়া বাদলকে দিয়ে বলব-বাদল এই নরপশুটা তোমার ভালবাসার অমর্যাদা করতে চেয়েছিলো। আমি তা হতে দেইনি।

আমার চোখের সামনে বাদলের চেহারাটা ভাসতে লাগলো, কি করে বোঝাবো বাদল; ববি যা করতে চেয়েছে তুমি কেন তা করতে চাও না। কি একটা যে আছেনা বাদলের চোখের মধ্যে, আর শরীরে আর ভাব ভঙ্গিতে তা অনুভব করে করে যেন আমার শরীরটা বাদলা পোকার মত পাখা কাপাতে থাকে।কিন্তু কবে আসবে সেই দিন? বাদল কে ছাড়া আমি যে বাঁচবোনা এ নিশ্চিত। তাইতো আমাকে লড়তে হয়েছে। আমার বাচার জন্যে লড়াই।

(ছয়)

আজ ও ববি বলেছিল- কোনটা চাও?আমাকে না বাদলের লাশ।’ কি উত্তর কোরবো আমি। ববির কাছে যদি নিজেকে সমর্পন করে দেই তবে সে সম্পর্কটা দু এক ঘন্টার বেশি স্থায়ী হবে না। ববির প্রয়োজন মিটে গেলে আমাকে কলার ছোলার মত ছুড়ে ফেলে দেবে। আর না হয় বাদল কে।আমি ববি কে আদর করে চুপ করিয়ে দিতে চাইছিলাম। যদিও অনেক পাল্টা কথা আমার বলতে ইচ্ছে করছিলো। সুমনার কথা স্মরণ করেই হয়তো তা করিনি। এই ঘরে ,এই খাটে, এই বিছানায় এমনি ভাবে কত যে নারী এসে বাধ্য হয়ে শুয়ে গেছে কে জানে! তবে আমিই সম্ভবত প্রথম সেই নারী, যে ববির আকাঙ্খাগুলোকে গলা টিপে হত্যা করেছি। সম্ভবত বলছি কেন? এটা তো সত্যিই। বাদল আমার আমারই। আমার যদি কিছু নিতে বা দিতে হয় তবে সে অধিকার কেবল বাদলেরই। অন্য কারো নয়। তবু প্রথম যেদিন জানতে পারলাম এ অধিকারটা ববি জবর দখল করে হলেও দখল করে নেবে।আমার মাথায় সেদিন থেকেই খুন চেপে বসে আছে। ববির জন্যে কোন স্যাক্রীফাইস-আমি আমার চিন্তায় আর রাখিনি। কিন্তু তারপরেও আমি অনেক দিন একলা একলা হেসেছি। সে হাসার অর্থ কি ছিল তা আমি জানি না।

(সাত)

উঃ। খেয়াল করিনি। হাতটা ববির পিঠের উপরিই রয়ে গেছে। হাতটা মনে হল বরফের উপর পড়ে আছে। ঠান্ডা এবং শক্ত। প্রায় ভূলেই বসে আছি ববি মৃত। মানে মরে পড়ে আছে। এতক্ষন কিন্তু ঠাণ্ডা লাগেনি। মানুষ মরে গেলে মনে হয় ঠাণ্ডা হতে একটু দেরিই হয়।

আমি আমার থাবাটা ওর পিঠের উপড় থেকে তুললাম। হায়রে পুরুষ! নারী, নারী করেই শুধু মরছো। এই নারীকে পাবার জন্যে কত রকম ফিকির ফন্দি। কিন্তু শেষের পরিনতি টার কথা কেউ কি ভাবে? আমরা মেয়েদের সহজ-সরল নরম পায় বলেই হয়তো অনেকে একথাটা ভাবেনা। কিন্তু আমার মনে হয় এখন পুরুষদের এ কথাটা ভাবা উচিৎ। মেয়েরা আর সহজ সরল নেই।হাতের চুড়ি ভেঙ্গে সেই কবেই তো রাজপথে কোমল বাহু দৃঢ় করে অধিকার আদায় করে ছাড়ছে। পুরুষদের এক্ষেত্রে অবশ্যই ভাবা উচিৎ তাদের কুকর্মের পরিনতি টা কত ভয়ানক হতে পারে।

অবশ্য আজ যে আমি এরকম একটা কান্ড করে ফেলবো তা ভেবে এখন আমার ভারি অবাক লাগছে। ভয় আমি পাইনি বা ভীত ও নই। কেন ভীত হব? যা করার দরকার ছিল তাই করেছি। ব্যাপারটা কেমন অন্যায় হয়েছে বলে একটু মনে হয়। অবশ্যই এটা আইনের কাছে ঘোরতর এক অন্যায়। মার্ডার । এক্ষেত্রে আমি হলেও ব্যাপারটা একই রকম হত। আইন সবার জন্যে সমান। কিন্তু আমিতো আর সুমনার মত অত বোকা না। বেচারি আত্মহত্যার ও সুযোগ টুকু পায়নি। অন্যায়, তবু সত্যি বলতে কি, এছাড়া বিষয়টাকে আমি আর কোন রকম ভাবেই ঠেকাতে পারতাম না।

(আট)

আজ বিকেলে যখন বাদলের সাথে দেখা করে এসে বাড়ি ফিরছিলাম। ববিই আমাকে রিকশা থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে ছিলো। আর ববির বন্ধুরা তার মজা দেখছিলো। আমাদের সমাজ টা তো এমনি যে, সে সময় আমার চিৎকারে কেউ ছুটে আসেনি। তারও যেন কোন এক ছবির শুটিং দৃশ্য দেখতে দেখতে যাচ্ছিল। তাছাড়া, ও যদি সে সময় সে রাস্তার পাশেই কিছু একটা করে বসত তবুও কেউ আসবেনা এর প্রতিবাদ করতে। সুমনার ক্ষেত্রে যেমন কেউ আসেনি। তাছাড়াও ববি এ পাড়ার নামি দামি আমাদের সমাজের ভাষায় যাকে বলে সভ্য মাস্তান। ও একটু আধটু এ রকম করলে ক্ষতিই বা কি? না হলে এ সমাজের সমাজ পতিদের সে স্নেহভাজন হতে যাবে কেন? আমার অসহায়ত্ব তখন কেউ বুঝল না। ভাবলাম এতগুলো মানুষের অত্যাচার সহ্য করার চাইতে, একজনই ভাল। তাছাড়া এখানে বাদলেরও জীবন মরনের প্রশ্ন। আমার গলার স্বর বেশ গদগদে শোনাচ্ছিল। আমিও ববির চোখের দিকে তাকিয়েছিলাম। ববিও তাকিয়ে ছিল। যেন ও বুঝতে চেস্টা করছিলো আমার দু চোখের কথা গুলো। তার পরে, ও যেন মুগ্ধ হয়ে উঠছিল,আমার দিকে তাকিয়ে। আর তারপরেই সমুহ আবেগ বশত- তাই বোধ হয় ববি তার বন্ধুদের বলেছিল-‘তোরা সব চলে যা’। বাকি কথা গুলো ও উশ্চারণ করেনি। একটা যাকে বলে স্পস্ট ইশারায় হাসি ফুটে উঠেছিল। সবিই পরিস্কার বোঝা গিয়েছিল। আমি আর কি চাইব বা করবো। আমি তখন ববির দিকেই চেয়েছিলাম। অবশ্য এরকম অবস্থায়, না বলা কাজটা বা চাওয়াটা যে কি, আমি ভাল করেই জানি। বোধ হয় তার জন্যেই ববিকে বাহুডোরে বেধে……………………..।

(নয়)

ববি তখনো প্রায় আমার বুকের কাছে। ওর খালি গায়ের উপর দিয়ে আমার হাতটা শুধু এলিয়ে পড়েছিল।আমি ওর মুখের দিকে তকিয়ে ছিলাম। আর আমার মাথায় রক্তের ছুটো ছুটি তখন ভিষন। দুরন্ত। রাগ এবং ঘৃনা-যেটাকে আমি প্রতিশোধ হিসেবে নিয়েছিলাম।মার্ডার। একটা ভিষন আকর্ষন আমাকে টানছিল। যে কারনে আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ববি ও আমার দিকে কি এক ক্ষুধার্থ চোখে যেন তাকিয়ে ছিল। জানিনা আমার মত ওর ও আমাকে ঘৃনা হচ্ছিল কিনা, রাগ হচ্ছিল কিনা।

আমি কি এক উত্তেজনা বশত হঠাৎ করেই বলে ফেলেছিলাম- ‘তুমি সত্যি পুরুষ বটে, তোমাকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছে’।

ববি বলেছিল-‘ তাহলে তাই করনা।গলাটা ছাড়ো’।

‘না ছাড়বো না’।

গলা জড়িয়ে ধরিনি। ওর গলার উপর আমার হাতটা ছিল। আমি ববির বুকে উঠে চেপে বসে পড়লাম। মাথার তলার বালিশ টা নিয়ে ওর নাক মুখে চেপে ধরলাম। তখন আমি দেখছিলাম ও বালিশটাকে নাক মুখের উপর থেকে সরাতে চাইছে। ভাবছিলো, ফাজলামো করছি। তখন আমি আমার শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে চাপা শুরু করেছিলাম। আর ববির হাত দুটো আমার দু পায়ের তলায় শক্ত করে ততক্ষনে চেপে ধরেছিলাম। সহজে মেরে ফেলার চেস্টা যাকে বলে। আমি আরো জোড়ে চেপে ধরে ছিলাম। শরীর আমার তখন কাপছিল শক্তির সংঘর্ষে। যে কারনে ববি তার পা দুটো শুন্যে ছুড়ছিলো। আমাকে কোমড় সুদ্ধ উচুতে ও তুলে ফেলছিল। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। তারপর আস্তে আস্তে নেতিয়ে পরা যাকে বলে। সত্যিই রাগ জিনিসটা মারাত্মক একটা ব্যাপার-স্যাপার। নইলে এখনো আমার কেমন যেন বিশ্বাস হয়না, এই ক্ষুদ্র বাহুতে এত শক্তি এতদিন কোথায় লুকিয়ে ছিল! কি জানি! হয়তো এই কারনেই আমার ওই কথাটা মনে হচ্ছিল। একটা চতুর অথচ ক্ষুধার্থ শেয়াল- তার ক্ষুধা মেটানোর জন্যে একটা শিকারের দিকে নজর। যেন একটা হৃস্টপুস্ট ছাগ। আর সে ছাগটির মাথায় বড় বড় দুটো শিং। যেন পাথরে ঘসে ঘসে ছুরির চেয়েও ধারালো যাকে বলে। আর শেয়াল তা না জেনে, না বুঝেই একদিন যখন ছাগটির উপর লাফিয়ে-ঝাপিয়ে পড়ল তখন ছাগটি সুযোগ বুঝেই ধারালো শিং এর ঘায়ে শেয়ালটির পেট ফেরে দিল। যদিও এরকম একটা কথা একেবারেই হাস্যকর।তবু কেন যেন মনে হয় সে শিকারটি আমিই। যাই হোক-আমি ঘেমে গিয়েছিলাম প্রায়। এবং ববির সেই মৃত-প্রায় নগ্ন দেহটার দৃশ্য দেখতে আমার ভাল লাগছিল না বলে বিছানার চাঁদরটা দিয়ে কোমর অব্দি ঢেকে দিয়েছিলাম। তারপরে………।

(দশ)

সমস্ত ব্যপারটা যদি এই রকম দাড়ায়,তাহলে এখন আমার কি করা উচিৎ? সেটা ভাবা দরকার। ববি যখন মারাই গেছে এটাকে তখন খুন হিসেবেই দেখা হবে। মার্ডার। আর মার্ডারটা যেহেতু আমিই করেছি অতএব আমি একজন খুনি। কি কারনে করেছি তা কেউ শুনতে চাইবে না। খুন তো খুনই। আর আমি ধরা পড়লে একটা খুনিরই বিচার হবে। আমার ফাঁসি হবে। আমি মরে যাব। অথচ আমি নিজেকে বাচানোর জন্যেই তো খুনটা করেছি। বাদলকেও বাঁচানোর জন্য। যা হোক এখান থেকে এখন আমাকে কেটে পড়তে হবে। আমাকে বাচতে হবে। এদেশের আইন ববির চেয়েও নিষ্ঠুর কম নয়। ঘড়ির দিকে তাকালাম। এখন রাত বাজে দশটা। আমি উঠে দাড়ালাম। ইস্……. এভাবে বেরোনোটা……… ছি: লজ্জার। লোকে দেখলে কি বলবে? আমার খুলে ফেলা কাপড় গুলো পড়ে, ওড়নাটা ঠিক ঠাক করলাম।যথেস্ট হয়েছে। এখন আমাকে দেখলে কেউ বলতেই পারবেনা যে, কিছুক্ষণ আগে আমি একটা জলজ্যন্ত মানুষ খুন করেছি। মার্ডার,তাও একটা তরতাজা যুবক। আচ্ছা মেযেরা কি জানেনা, এ সমস্ত কাজ কোন ব্যাপারই না। তা হলে এমন অসহায়ত্ব নিয়ে পুরুষদের হাতে নানাভাবে মার খেতে হবে কেন? আমার আউলা-ঝাউলা চুল গুলো ঠিক করে ফেললাম। কেমন যেন ববিকে আর একটু দেখতে ইচ্ছে করল। এবং মনে হল ববিকে আর কখনো ঐ রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাবে না। ভালই হয়েছে। আরো কয়েকটা মেয়ে সর্বনাশের হাত থেকে অন্তত রেহাই পেল। তবে এটা পাপের কি? আমিতো পুণ্যের কাজ করেছি। নারীর সর্বনাশ ঠেকানো কি কম পুণ্যের কাজ! আইনের তো উচিৎ আমাকে ডেকে একটা গণসংবর্ধনা দেয়া। আমাকে নিয়ে নারীরাও গর্ব করবে। সে গর্বে আমারো বুকটা ফুলে যাবে হিমালয়ের মত। তারপর যদিও ঘুরে ফিরে সেই একই জায়গায় চলে আসতে হবে।সেই জায়গাটা হল পুরুষের সমতল বুক। যেখানে হিমালয় সম বক্ষ নিয়েও নারীরা নিরাপদের একটু আশ্রয় খোঁজে। যেমন আমি বাদলকে ছাড়া কিছুই কল্পনা করতে পারিনা। না আর দেরী না করে কেটে পড়া যাক। ভ্যানিটি ব্যাগটি হাতেই নিয়ে একটা কমজোর আলোয়ে দেখেনিলাম-চারপাশে কেউ নেই। তারাতারি নেমে গেলাম। রাস্তায় লোকজন কমে গেছে। আমি পা বাড়ালাম। এখন শুধু একটা সকালের অপেক্ষা। এ সমাজ আমার কলংকের বদলে আবিস্কার করবে একটি লাশ। একটি হই চই পড়ে যাবে মানুষের মাঝে-আর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়। যেমনটি সুমনার মত আমাকে নিয়েও হতে পারতো।


দন্তস্য মুন্না





প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।