" />
AmaderBarisal.com Logo

ঘনাচ্ছে আশঙ্কার মেঘ: জোর প্রস্তুতি ভারত-পকিস্তানের

অনলাইন ডেস্ক
আমাদেরবরিশাল.কম

২৪ September ২০১৬ Saturday ৪:১৯:১৭ PM

ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি?খালি করা হচ্ছে গ্রাম। মহড়া দিচ্ছে যুদ্ধবিমান। মজুদ হচ্ছে বাড়তি সেনা, গোলাবারুদ। নিয়ন্ত্রণরেখার দু’পার বরাবর প্রস্তুতি জোরদার করছে পাকিস্তান এবং ভারত, দু’দেশই। দু’দেশই বলছে, তাদের আশঙ্কা, অন্য পক্ষ হামলা চালাতে পারে। -খবর আনন্দবাজার পত্রিকা

গত দু’দিন ধরেই ভারত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নিজেদের চৌকিতে অস্ত্রশস্ত্র মজুত করছে বলে সরব ছিল পাকিস্তানের প্রশাসন। এবার পরবর্তী পদক্ষেপে উরি এলাকার নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন গ্রামগুলি থেকে লোক সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। উরিতে সেনা ছাউনির বিপরীতে সীমান্ত পারে পাকিস্তানের জাওয়ন্দ বলে যে গ্রামটি রয়েছে, খালি করে দেয়া হয়েছে সেটি। আপাতত ওই গ্রামের দখল নিয়েছে পাকিস্তানের সেনা। গতকাল থেকেই ইসলামাবাদের আকাশ চিরে উড়তে দেখা গিয়েছিল যুদ্ধবিমান এফ-১৬।

ওই বিমান রানওয়ের পরিবর্তে রাস্তায় নামতে পারে কি না, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী তাও পরীক্ষা করে দেখেছে। ইসলামাবাদ-লাহৌর জাতীয় সড়ক বন্ধ করে চলে ওই প্রশিক্ষণ। পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র জাভেদ মহম্মদ আলি বলেন, এই মহড়ার সঙ্গে ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কোনও সম্পর্ক নেই। এটি রুটিন প্রক্রিয়া।

বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ওই কথা বললেও, ভারত অবশ্য একে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছে। পাকিস্তানকে পাল্টা চাপে রাখতে এ দিন ভারতও মিরাজ ২০০০ বিমান থেকে পরীক্ষামূলকভাবে মিকা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা নিশানায় সফল ভাবে আঘাত করতে সমর্থ হয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্র।

ভারতের টার্গেটের তালিকা করেছে পাকিস্তান: জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধরে নিয়ে গতকাল থেকে লাহোর-ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে বন্ধ রেখে সেখানে পাক বিমান বাহিনীর জেটবিমানের ওঠানামা চলছে। হাইওয়েতে স্বাভাবিক পরিবহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও পাক বিমান বাহিনীর দাবি, উরি হামলার অনেক আগেই ‘হাইমার্ক’ নামাঙ্কিত কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই মোটরওয়ের বুকে নেমেছে তাদের যুদ্ধবিমান।

পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক ট্যুইট বার্তায় বলেন, আমাদের আকাশের পাহারাদার, রক্ষকরা লাগাতার প্রস্তুতির অবস্থায় রয়েছে। আমাদের মোটরযান চলার রাস্তা এখন রানওয়ে। পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির দৈনিক দি নিউজ জানায়, ভারতের যে কোনো হঠকারিতা ও যে কোনো ধরনের হামলা হলে যোগ্য জবাব দেয়ার জন্য অপারেশনের ছক তৈরি করে রেখেছে পাক প্রতিরক্ষা বাহিনী। ভারতের কোন কোন টার্গেটে হামলা করা হবে, তাও বাছাই করে ফেলা হয়েছে। দৈনিকটি আরও বলেছে, ভারতের যে কোনো সামরিক চ্যালেঞ্জ রুখতে পুরোপুরি তৈরি পাকিস্তান।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধর পরিনতি বিশ্বযুদ্ধে: যুদ্ধ বাঁধলে সেটা আরেকটি বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের বিরোধী দলীয় নেতা সৈয়দ খুরশিদ আহমেদ শাহ। তিনি বলেন, যদি ভারত ও পাকিস্তানে পুরোদমে যুদ্ধ বাঁধে তবে সেটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে বাধ্য এবং এই অঞ্চলে অসংখ্য প্রাণহানির কারণ হওয়ার পাশাপাশি বিশালাকারের ধ্বংস ডেকে আনবে।

শুক্রবার গণমাধ্যমের সাথে মতপ্রকাশের সময় নিজের এ আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন পাকিস্তানের এ নেতা। তবে তিনি এও মনে করেন, মোদি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) এরকম কোনো ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হবেন না যার কারনে যুদ্ধ বাঁধতে পারে। তিনি বলেন, ভারত কখনই পাকিস্তানে ক্ষতি করতে পারে না। আর বিদেশী শক্তির যে কোনো ধরনের হঠকারিতা রুখে দেয়ার মতো যথেষ্ঠ শক্তি ভারতের রয়েছে।

এশিয়ার পারমানবিক শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে বর্ধিষ্ণু উত্তেজনা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে সৈয়দ খুরশিদ আহমেদ শাহ বলেন, যুদ্ধ শুরু হচ্ছে না। কিন্তু আল্লাহ মাফ করুক যদি এরকম কিছু এটা শুরু হয়ে যায় তবে তাতে অন্য দেশগুলোও জড়িয়ে যাবে এবং এটা আরেকটা বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেবে। আর মোদির সরকার যদি পাকিস্তানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে চায় তবে পাকিস্তানের জনগণও তার উপযুক্ত জবাব দিতে সামরিক বাহিনীর পক্ষে দাঁড়িয়ে যাবে। পাকিস্তান সবসময় শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দাবি করে এ নেতা জানান, ভারত যদি মাতৃভূমি রক্ষায় আমাদের সামর্থ্যের পরীক্ষা নিতে চায় তা যে কোনো সময় নিতে পারে। কিন্তু এতে তারা হতাশই হবে। আর আমার বিশ্বাস, মোদির সরকার সেরকম ভুল করবে না। যদি করে তবে তারা নিজেরাই লজ্জিত হবে।

কাশ্মীরের অশান্তির ফল উরি হামলা: কাশ্মীরের পরিস্থিতির ফলই উরি হামলার কারণ বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। পাশাপাশি ‘কোন প্রমাণ ছাড়াই’ উরি হামলায় পাকিস্তানকে দোষারোপ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। শুক্রবার লন্ডনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শরিফ বলেন, কাশ্মীরে যে ‘অত্যাচারে’র ঘটনা ঘটেছে, তাতে যারা স্বজন হারিয়েছে তারাই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। শরিফ দাবি করেন, কোন তদন্ত ছাড়াই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আঙুল তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কিভাবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হল।’ এই অভিযোগ কেউ বিশ্বাস করবে না বলেও তিনি দাবি করেন না। নওয়াজ উল্লেখ করেন, কাশ্মীরে ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫০ জন অন্ধ হয়েছে। কাশ্মীরের ‘হত্যা’ নিয়ে তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় নারাজ রাশিয়া!: পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার জন্য কোনও সেনাবাহিনী পাঠায়নি রাশিয়া। বিবৃতি দিয়ে রুশ প্রশাসন এমন দাবি করেছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের গণমাধ্যমে এ যাবত যত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তার সবটাকেই মিথ্যে বলে দাবি করা হয় ওই বিবৃতিতে।  শুক্রবার পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বলা হয়, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে পাকিস্তান। শনিবার থেকে এ মহড়া শুরু হয়ে চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই দেশের প্রায় ২০০ সামরিক সৈন্য এ মহড়ায় অংশ নিবে। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় রাত্তু ও চেরাতে স্পেশাল ফোর্সেস ট্রেনিং সেন্টারে এ মহড়া হবে। যৌথ ওই সামরিক মহড়ার নাম দেয়া হয়েছে ‘ফ্রেন্ডশিপ ২০১৬’। তবে রাশিয়া জানিয়েছে, এসব খবর ভুয়া।

প্রসঙ্গত, এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়া জানিয়েছিল, সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়া বন্ধ না করলে ‘ফ্রেন্ডশিপ ২০১৬’ চুক্তি মানবে না রাশিয়া। ওই চুক্তিতেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া চালানোর কথা ছিল রুশ সেনাবাহিনীর। কিন্তু শুক্রবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া বিবিৃতিতে যৌথ মহড়ার শুরুর খবর জানানো হলেও রাতের দিকে পাকিস্তানের দাবি উড়িয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয় রাশিয়া। সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পুতিনের দেশ যে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না, তা আরও একবার বুঝিয়ে দেয়া হল। সূত্র: ইন্টারনেট



সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।