![]() বরগুনার বিদ্যালয়ে বরাদ্দ আত্মসাতের মহোৎসববীরেন্দ্র কিশোর, বরগুনা ২৯ September ২০১৬ Thursday ১:৫৮:৫৪ PM
বরগুনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে বরগুনা সদরে ২১৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটিতে স্লিপের ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ ১ লাখ টাকা করে ৩২ টি বিদ্যালয়ের ৩২ লাখ টাকাসহ মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, বেতাগী উপজেলার ১২৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৩ টি বিদ্যালয়ে স্লিপের ৪০ হাজার টাকা করে এবং ১২ টি বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরমতের ১ লাখ টাকাসহ মোট ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আমতলী উপজেলার ১৪২ টি বিদ্যালয়ে স্লিপের ৪০ হাজার টাকা করে এবং ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ১৬ টি বিদ্যালয়ে ১ লাখ টাকা করে মোট ৭২ লাখ ৮০ টাকা সরকারি খাত থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দের সিংহ ভাগ টাকাই লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তোষ জনক কাজ করার প্রমান মিলেছে। এছাড়া বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নামমাত্র কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাত করেছে বলে প্রমান পাওয়া গেছে। সরেজমিন গিয়ে জানাযায়, বরগুনা সদর উপজেলার ১০৪ নং উত্তর লাকুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ হাজার টাকা স্লিপের বরাদ্দ হলেও বিষয়টি জানেন না প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা। তাদের অভিযোগ বিগত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত সকল অর্থই সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক যোগসাজসে আত্মসাত করেছেন। এ বিষয়ে বিদ্যালেয়ের এসএমসির সভাপতির মো. শাহ আজিজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার কোনো কিছু বলার নেই। আপনারা যা পারেন লিখেন। অপর দিকে ৪৮ নং আয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ ও ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের প্রমান পাওয়া গেছে। ৩৯ নং পশুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্লিপের টাকার কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। ৮৫ নং নিমতলী মাইঠা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্লিপ ও ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দের তেমন কোনো কাজ হয়নি। প্রধান শিক্ষক আবু জাফরের কাছ থেকে সভাপতি মমিনুল ইসলাম মাসুদ ২০ হাজার টাকা আমার কাছ থেকে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই টাকার হদিস পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসির অভিযোগ সভাপতি স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি ও প্রধান শিক্ষক মিলে কাজ না করিয়েই বরাদ্দের টাকা আত্মসাত করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বাবুল আক্তার কনু বলেন, আপনারা যা খুশি লিখেন। লিখলে কিছু হয়না। ৭২ নং খাকবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ ও ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে স্লিপের বরাদ্দের কিছু কাজ হলেও ক্ষুদ্র মেরামতে পুরো টাকাই আত্মসাত করা হয়েছে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও অসংখ্য স্কুলের বিরুদ্ধে কোচিং বানিজ্য ও গাইড বইর কোম্পানি কর্তৃক পরসেন্টিস নিয়ে শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করা হয় অভিযোগ অভিভাবকদের। এ দিকে সদরের প্রায় স্কুল প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র মেরামত ও স্লিপ’র টাকার অভিযোগ লেগেই আছে। বেতাগী উপজেলার পূর্ব বকুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ ও ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার নামমাত্র কাজ করিয়ে পুরো টাকাই আত্মসাত করা হয়েছে বলে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে। ৬৬ নং উত্তর বেতমোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্লিপের বরাদ্দকৃত টাকা সভাপতি মিজানুর রহমান বাদল ও প্রধান শিক্ষিকা (ভারপ্রাপ্ত) আফরোজা আক্তার কনা স্বামী ও স্ত্রী হওয়ায় বরাদ্দের পুরো টাকাটাই আত্মসাৎ করেছে। ইতিপূর্বে রাতের আঁধারে স্কুলের বেঞ্চ চুরি করার সময় স্থানীয়দের হাতেনাতে ধরা পড়ায় জেল ও জরিমানায় ভুক্তে হয়েছে সভাপতির। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর জানান, প্লান মতই কাজ করা হয়েছে। এদিকে অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার জন্য সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক অভিযোগ করেণ, যথাযথ ভাবে তদারকি না করায় সরকারি এ বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল মজিদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

বরগুনা জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ ও ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।