" />
AmaderBarisal.com Logo

প্রথম বাঙালি হিসাবে বিশ্ব কবির নোবেল জয়ের ১০৪ বছর আজ

সাহিত্য ডেস্ক
আমাদেরবরিশাল.কম

১৫ November ২০১৬ Tuesday ৫:০৭:০০ PM

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরবিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম বাঙালি, যিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! ১৯১৩ সালের ১৫ নভেম্বরের দিনটি ছিল বিশ্বের মঞ্চে বাঙালি জাতির আত্মপ্রকাশের দিন। বাঙালির গর্ব কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেদিন বিশ্বকবি হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায় নন্দিত হয়েছিলেন।

রবি ঠাকুরের নোবেল প্রাপ্তির শতবর্ষ পেরিয়ে গেলেও তিনি আজও সমান ভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন বিশ্ববাসীর কাছে। আর বাঙালিদের মধ্যে যিনি কখনো রবীন্দ্রনাথ পড়েন নি, এমন কী যিনি বাংলা ভাষাও পড়তে পারেন না, তার কাছেও এ তথ্য প্রাসঙ্গিক যে কবিগুরু ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্যই নোবেল পেয়েছিলেন। দেশে বিদেশে সর্বস্তরের বাঙালি আজও এ তথ্য জেনে গর্ব অনুভব করে। তবে এই জানার মধ্যে একটা অচেতন ভাবে রয়ে গেছে। বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন তিনি ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদের জন্য নোবেল পেয়েছেন। সাধারণ ভাবে বিদ্যালয় পাঠ্যপুস্তকেও এ বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া থাকে।

১৯১২ সালের ১ নভেম্বর উইলিয়াম রোদেনস্টাইনের উৎসাহে ইংরেজিতে রবীন্দ্রনাথের যে বইটি লন্ডনের ইন্ডিয়া সোসাইটি থেকে মাত্র ৭৫০ কপি প্রকাশ করা হয়, তার নাম অবশ্যই ‘সং অফারিংস’ আর বাংলায় যার অর্থ ‘গীতাঞ্জলি’। তবে বাংলায় প্রকাশিত তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’র হুবহু অনুবাদ ছিল না এই ইংরেজি বইটি।

বাংলা ‘গীতাঞ্জলি’ মোট গানের সংখ্যা ছিল ১৫৭টি। তার মধ্যে মাত্র ৫৩টি গান নেওয়া হয়েছিল ‘সং অফারিংস’-এ। এছাড়া পূর্ববর্তী দশকে কবির লেখা ‘গীতিমাল্য’ থেকে ১৬টি, ‘নৈবেদ্য’ থেকে ১৬টি, ‘খেয়া’ থেকে ১১টি, ‘শিশু’ থেকে ৩টি এবং ‘কল্পনা’, ‘স্মরণ’, ‘চৈতালী’ ও নাটক ‘অচলায়তন’ থেকে ১টি করে কবিতা নিয়ে মোট ১০৩টি কবিতার সমন্বয়ে ইংরেজি ভাষায় বইটি প্রকাশ করা হয়। এ জন্য বাংলা ‘গীতাঞ্জলি’ ও ইংরেজি ‘সং অফারিংস’-এর রচনাক্রমে কোন মিল নেই। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলা ‘গীতাঞ্জলি’র ৪৪ সংখ্যক গান ‘জগতে আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ’ ইংরেজি সংস্করণে রয়েছে ১৬ সংখ্যক গান হিসেবে।

‘গীতাঞ্জলি’ নিয়ে আলোচনায় সেই বইটি সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য না দিলেই নয়। নোবেল প্রাপ্তির নেপথ্যে কিছু কথা। ১৯১২ সালের ১২ জুন কবি পৌঁছেছিলেন লন্ডন। বিদেশে যাওয়ার সময় তিনি ‘গীতাঞ্জলি’র বেশ কিছু কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করে নিয়ে যান। ১৬ জুন লন্ডনে রেলস্টেশন থেকে হোটেলে যাওয়ার পথে ঘটনাচক্রে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যায়। অনেক চেষ্টার পর সেই পাণ্ডুলিপি ফেলে যাওয়া জিনিসের অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর লন্ডনে পৌঁছে তিনি পাণ্ডুলিপি রোদেন স্টাইনকে পড়তে দেন। রোদেন স্টাইনের মাধ্যমে রবির কবিতা আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটসের কাছে পৌঁছলে তিনি পড়ে মুগ্ধ হন। পরবর্তীকালে ইয়েটস নিজেই আগ্রহী হয়ে ‘সং অফারিংস’-এর ভূমিকা লিখে দেন। ইন্ডিয়া সোসাইটির পর ১৯১৩ সালের মার্চ মাসে ম্যাকমিলান প্রকাশনা বইটি প্রকাশ করে। আর নোবেল পাওয়ার আগেই বইটির ১০টি সংস্করণ বের হয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালের ১৫ নভেম্বর নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। তবে এই নোবেল পুরস্কার নিতে কবি সুইডেন যাননি। নোবেল কর্তৃপক্ষ পদক ও ডিপ্লোমা তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেলের কাছে পাঠিয়ে দেয়। ১৯১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি লাটসাহেব কলকাতায় বাসভবনে এক অনুষ্ঠানে নোবেল পুরস্কারের স্মারকগুলো হস্তান্তর করেন। নোবেল লাভের পরে পরেই এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী কবির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল পাশ্চাত্যের লেখক-পাঠক বিদ্বজ্জনদের মধ্যে। ইংরেজির পাশাপশি অন্যান্য বিদেশি ভাষাতেও অনূদিত হয় ‘গীতাঞ্জলি’, থুড়ি, ‘সং অফারিংস’। -সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন





প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।