![]() তজুমদ্দিনে প্রতারনা করতে গিয়ে ভূয়া এনজিও কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
১১ November ২০১১ Friday ৭:৫০:৫১ AM
তজুমদ্দিন, ১০ নভেম্বর (এম নুরুন্নবী/আমাদের বরিশাল ডটকম): ভোলার তজুমদ্দিনে ভূয়া এনজিও’র মাধ্যমে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনার অভিযোগে ভূয়া একটি এনজিও’র প্রকল্প পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ‘উপকুল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সোসাইটি’ নামের লালমোহনের এই এজিও’র বিরুদ্ধে জয়েন ষ্টক, এনজিও ব্যুরোর নাম ভাঙ্গিয়ে ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে মাল্টিপারপাসসহ বিভিন্ন হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সুত্রে জানা যায়, ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কার্যালয়ে লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এনজিওটির কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা খায়রুল হাসান। এ সময় এজিওটির কর্মকর্তারা বৈধ কোন নিবন্ধিকরন সংস্থার অনুমোদনের কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি। এরপর প্রতারনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসলে এর প্রকল্প পরিচালক মেজবাহুল ইসলামকে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও অন্যদের ছেড়ে দেয়া হয়। সংস্থাটির নির্বাহি পরিচালক শাহাদাত হোসেন ও ম্যানেজার কামাল হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তাদের লালমোহনের আ’লীগ নেতা ফখরুল হাং ও ধৈীলীগেীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু মিয়া প্রভাব খাটিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সুত্রে আরো জানা যায়, গত আগষ্ট মাসে সংস্থাটি চর উন্নয়ন প্রকল্পের আওয়তায় উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার মাধ্যমে গত ৩ নভেম্বর পাঁচটি রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করে। শিক্ষক নিয়োগের নামে সংস্থার কর্মকর্তারা প্রার্থীদের কাছ থেকে চাকুরী দেয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া ইউপি মহিলা সদস্য নারর্গিস বেগম, সাবেক মহিলা মেম্বার ফাতেমা আলম সাজু, বাবুল মাতাব্বরসহ অনেকের কাছ থেকে প্রকল্পে হতে বিভিন্ন কাজ দেয়ার নাম করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। গজারীয়া কলেজের প্রভাষক মোঃ ছালাউদ্দিন অভিযোগ করেন, তার মাধ্যমে সংস্থাটির নির্বাহি পরিচালক শাহাদাত হোসেন ও ম্যানেজার কামাল হোসেন লালমোহনের রংধনু ফার্নিচার থেকে ৬০ হাজার টাকার অটবির ফার্নিচার ক্রয় করলেও সেখানে কোন টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্নভাবে তালবাহানা শুরু করে। প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে ১১ জন লোকবল নিয়োগ করলেও তাদেরকে কোন নিয়োগ পত্র এবং নিয়মিত বেতন ভাতা পরিশোধ না করায় কর্মচারীরা সংস্থাটির অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, এই নামসর্বস্ব এনজিওটির কর্মকর্তারা মনপুরা উপজেলায় ‘শেওলা’ এবং বরিশালে ‘ডাক দিয়ে যায়’ নামে আরো দুটি শাখা কার্যালয় ভাড়া নিয়ে প্রতারনার পরিকল্পনা করছে। লালমোহন উপজেলা হরিগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্থানে ভূয়া এনজিওটি মাল্টিপারপাসের নাম করে সাধারন মানুষের সঞ্চিত লক্ষ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করেছে বলে একটি সুত্র জানিয়েছে। লালমোহনের এনজিও উপকুল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সোসাইটির নামে একটি সাইন বোর্ড সর্বস্ব অফিস ভাড়া নেয়া হয়। অফিসের সামনে বাউন্ডারী দেয়ালের বাইরে একটি গাছের সাথে লাগানো সাইন বোর্ডে সংস্থাটির রেজিঃ নং ৬৪৪২ (৬৮৬)০৭ উল্লেখ থাকলেও কোন দপ্তরের নিবন্ধন প্রাপ্ত তার উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে নির্বাহি পরিচালক ও সংস্থার সেক্রেটারী জেনারেল পরিচয়দানকারী মোঃ শাহাদাত হোসেনকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এনজিওটি জয়েন ষ্টক হতে নিবন্ধন প্রাপ্ত বলে জানা যায়। কিন্তু কতসালে সংস্থাটি নিবন্ধন হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেনি। তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, এসব অভিযোগে ইউপি মহিলা সদস্য নারর্গিস বেগম বাদী হয়ে প্রকল্প পরিচালক মেজবাহুল ইসলামের বিরুদ্ধে তজুমদ্দিন থানা ৪০৬/৪২০ ধারায় প্রতারনার মামলা দায়ের করেছেন। যার নং ০৪ তাং ১০/১১/২০১১ ইং। – সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||
