![]() বামনায় মাসিক সমন্বয় সভায় হট্টোগোল, পাল্টাপাল্টি অভিযোগবামনা প্রতিবেদক ৯ March ২০১৭ Thursday ৬:৩৯:২৩ PM
আজ বৃহস্পতিবার (০৯ মার্চ) বামনা উপজেলা পরিষদ হল রুমে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনে বামনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। প্রথমে বামনা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম সাব্বির ফেরদৌস তালুকদারসহ উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানগন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা’র বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে বাধা দেওয়া ও সীমাহীন দুর্ণীতির অভিযোগ এনে বামনা প্রেসক্লাবে বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন বামনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি ও রামনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এড. আ. খালেক জমাদ্দার। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ডৌয়াতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানকে লাঞ্চিত করা, বীর মুক্তিযুদ্ধাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ন বক্তব্য দেওয়া, টিউবয়েল দেওয়ার নামে ৬৫০ জন লোকের কাছ থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৮১লাখ ২৫হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া, ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে এডিবির টাকা আত্মসাৎ করা সহ বিভিন্ন দুর্ণীতির অভিযোগ করেন। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের এডিপি’র বরাদ্দের সকল প্রকল্পের কাজের ঠিকাদার এবং সিপিসি’র কাছ থেকে ২৫% টাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা নিয়েছে। এডিপি’র বরাদ্দের কাজ সরেজমিনে ৩০% বাস্তবায়ন হয়নি। যা উপজেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে ভাইস চেয়ারম্যান ও সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা প্রতিবাদ করেন। উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত টিআর, কাবিখা ও কাবিটা উপজেলা কমিটির আলোচনার মাধ্যমে কাজের স্থান নির্ধারণ করার নিয়ম থাকলেও কমিটির সাথে আলোচনা না করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছায় ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে উক্ত প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে। আরো উল্লেখ করেন, বামনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনিয়ম, দুনীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণসহ অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদে তারা জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসের উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় অংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন বামনা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম সাব্বীর ফেরদৌস তালুকদার, বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান সবুজ, ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান, বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা বাবুল সিকদার, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মোশাররফ হোসাইন জমাদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন পিন্টু, বামনা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন রিপন প্রমূখ। অপরদিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সাইতুল ইসলাম লিটু পাল্টা আর একটি সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্যে জানান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) গোলাম সাব্বির ফেরদৌস তালুকদার উপজেলা পরিষদের চারটি মাসিক সভা ও বুকাবুনিয়া, বামনা, রামনা ও ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকে। আজ বৃহস্পতিবারের সভা শেষ হলে তারা সভাকক্ষে এসে উপস্থিত হাজিরাখাতা চাওয়াকে কন্দ্রে করে হট্টোগোল করে এবং তাকে মানসিক ভাবে লাঞ্চিত করে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করেন। উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যানের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বরগুনা জেলা পরিষদের সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসাঃ নাজমুন নাহার নাজু প্রমূখ। এ ব্যাপারে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বাচ্চু বলেন, আমি বামনায় যোগদানের পরে ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানরা বিগত দুটি সভায় অনুপস্থিত থাকে। বৃহস্পতিবারের সভা শেষ হওয়ার ৮/১০ মিনিট পূর্বে তারা সভায় উপস্থিত হয়। পরে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। এক পর্যায়ে তারা সভা বর্জন করে চলে যায়। সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

বরগুনা জেলার বামনা উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) ও উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের মতবিরোধের জের ধরে ব্যাপক হট্টোগোল সৃষ্টি হয়।