" />
AmaderBarisal.com Logo

সাগরে ভাসছে লাশঃ মাছ ধরতে সাগরে না যাওয়ার ঘোষনা দিল জেলেরা


আমাদেরবরিশাল.কম

১৪ December ২০১১ Wednesday ১১:৪৯:৩৭ PM

মাছ ধরার ট্রলারপাথরঘাটা (আমিন সোহেল/আমাদের বরিশাল ডটকম): বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন সোনার চর ও ঢালের চর এলাকায় ৯ থেকে ১০টি লাশ ভাসতে দেখার পর আতংকিত হয়ে ১৪ ডিসেম্বর বুধবার থেকে বরগুনার উপকূলীয় এলাকার জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে না যাওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। বঙ্গোপসাগরের সোনার চর ও ঢালের চর এলাকায় ১১ ডিসেম্বর রোববার ৯ থেকে ১০টি লাশের দুই হাত রশি দিয়ে পিঠমোড়া অবস্থায় বাঁধা এবং প্রতিটি লাশের হাত বা পায়ের সাথে ইট বাঁধা অবস্থায় লাশ ভাসতে দেখার খবর জেলেরা নিশ্চিত করলে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতি ও জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন এ ঘোষনা দেয়।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, ‘সাগরে লাশ ভাসতে দেখে উপকূলীয় জেলেদের মাঝে গত কয়েক দিন ধরে আতংক বিরাজ করছে। তাই সমিতির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সাগরে সাময়িক ভাবে জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ট্রলার সাগরে পাঠাবো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত সপ্তাহে সাগরে ৩ ট্রলারসহ ২২ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যূরা। ওই ৩ ট্রলারসহ অপহৃত ২২ জেলেদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা আমরা জানিনা। তাই আমরা ট্রলার নিয়ে জেলেদের সাগরে মাছ ধরতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।’

এদিকে গত ১০ ডিসেম্বর সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসারের পক্ষিদিয়ার কাছে জলদস্যূ আব্বাস বাহিনী জেলে বহরে আকস্মিক হামলা চালিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে ৩ ট্রলারসহ ২২ জেলেকে অপহরণ করে । ওই সময় জলদস্যূরা দুটি ট্রলারে আসা ৪০ থেকে ৫০ জনের সশস্ত্র দস্যূ বাহিনী লুটপাট চালিয়ে ট্রলারে থাকা নগদ টাকা, জ্বালানী তেল, ট্রলারের যন্ত্রাংশ ও ইলিশ মাছসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন এ খবর জানিয়েছেন।

অপহৃত জেলে এবং ট্রলারের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন পাথরঘাটার বড় টেংরা গ্রামের মোশারফের মালিকানাধীন এফবি ইমরান ও মাঝি মনির হোসেন, নুর হোসেনের এফবি রেহেনা ও মাঝি রত্তন, বারেকের এফবি ভাই ভাই ট্রলারসহ মাঝি নুরুজ্জামান। এছাড়া এফবি সোহেল ট্রলারের ৪জন, এফবি জেসমিন ট্রলারের ২জন, এফবি আল্লাহর দান ট্রলারের ৫ জনের নাম জানা গেছে। বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার আরো ১০টি ট্রলারে ডাকাতি করে ওই ট্রলারগুলোর জেলেকে অপহরণ করেছে বলে জেলেরা দাবি করেন।

ট্রলার মালিক বারেক মিয়া জানান, জলদস্যূরা জেলে ও ট্রলার প্রতি ৫ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে।

ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের ছগির মিয়া জানান, সুন্দরবনের জলদস্যূদের কাছে এ নিয়ে ৪৩জন জেলে আটক আছে।

ফিরে আসা এফবি জোৎস্না-২ ট্রলারের মাঝি আবদুস সালাম বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরার জন্য যখন আমরা জাল ফেলে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমাদের ট্রলারের পাশ দিয়ে ৬ থেকে ৭টি লাশ ভেসে যেতে দেখেছি। এরপর আমরা মাছ ধরা বন্ধ রেখে জাল তুলে তীরে ফিরে এসেছি।’

ভাসমান লাশগুলো কাদের হতে পারে এ ব্যাপারে জেলেরা নিশ্চিত করে না বলতে পারলেও বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতি ও জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা ধারনা করছেন জলদস্যূরা জেলেদের অপহরন করে মুক্তিপণ না পেয়ে জেলেদের হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।

বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মান্নান মাঝি মুঠোফোনে বলেন, ‘আমাদের জেলেরা ১১ ডিসেম্বর রোববার সাগরে লাশ ভাসতে দেখে আতংকিত হয়ে পরে। এ ঘটনায় শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সাগরে মাছ ধরতে না যাওয়ায় জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের পাথরঘাটা ষ্টেশন কমান্ডার লেঃ হারুন অর রশিদ আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, ‘ফিরে আসা জেলেদের মাধ্যমে সাগরে লাশ ভাসার ঘটনাটি আমরা শুনেছি। এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড ও র‌্যাব যৌথ ভাবে টহল জোরদার করেছে।’


(আমাদের বরিশাল ডটকম/পাথরঘাটা/আসো/তাপা)



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।