" />
AmaderBarisal.com Logo

অনার্স ভর্তি পরীক্ষায় কেন্দ্র পরিদর্শনে ছাত্রলীগ নেতারা, প্রশ্নপত্রসহ আটক ২


আমাদেরবরিশাল.কম

২৩ December ২০১১ Friday ৬:৫৭:৪০ PM

কেন্দ্র পরিদর্শন

বি এম কলেজে অনার্স ভর্তি পরীক্ষায় কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন ছাত্রলীগ নেতা নাদিম মল্লিক (বৃত্তে গোল চিহ্নিত)

বরিশাল, ২৩ ডিসেম্বর (বরিশাল ডেস্ক/আমাদের বরিশাল ডটকম): জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে বরিশাল বিএম কলেজ কেন্দ্রে বরাবরের মত অবাধে প্রবেশ করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে উত্তরপত্র তৈরী করে দিয়েছেন। এদিকে বিএম কলেজ কেন্দ্রের বাইরে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি প্রশ্নপত্র। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালকসহ দু’জনকে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতারা। তবে বি এম কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের নয়, অন্য কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। অপরদিকে কোচিং সেন্টারের পরিচালক দাবী করেছেন, তিনি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের চক্রান্তের শিকার।

জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএম কলেজ কেন্দ্রে ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা বেলা ১১ টায় শুরু হয়। তবে সাড়ে ১০ টা থেকেই ওই কেন্দ্রে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। ওই সময় তাদের কেউ কেউ কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে উত্তরপত্র তৈরীতে সহযোগিতা করেন। শিক্ষকদের সামনেই এই কাজ করা হলেও তারা কোনো বাঁধা দেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোয়া ১১ টার দিকে ছাত্রলীগ সমর্থিত ছাত্রসংসদের আদলে গঠিত ‘ছাত্রকর্ম পরিষদ’র সদস্য হাবিব বিশ্বাস, ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন, নুরুল আম্বিয়া বাবু, নাদিম মল্লিকসহ পাঁচজন পরীক্ষা দপ্তরে জটলা করছিল। স্থানীয় পত্রিকার দুই সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, তারা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে একটি উত্তরপত্র (ওএমআর) তৈরী করছেন। সাংবাদিকদের দেখে তারা দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ঘটনার মিনিট পাঁচেক পড়ে মেয়াদোত্তির্ন ছাত্রকর্ম পরিষদের সহ সভাপতি মঈন তুষার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

মঈন তুষার এসেই সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সাথে আসতে বলে ক্যাম্পাস লাগোয়া অনার্সে (সন্মান) ভর্তির কোচিং সেন্টার ‘রপান্তর’র কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তখন সেখানে প্রবেশ করে সাংবাদিকরা দেখতে পান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও চাঁদপাশা স্কুল এ্যান্ড কলেজের ইংরেজির শিক্ষক হুমায়ুন কবীর এবং বিএম কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র রিয়াজুল হককে মারধর করছেন। পরে তাদের দু’জনকে একটি প্রশ্নপত্রসহ কোতয়ালী পুলিশের কাছে তুলে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

পুলিশ হেফাজতে রুপান্তর কোচিং সেন্টারের হুমায়ুন কবীর আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, ছাত্রলীগ নেতা হাবিব বিশ্বাস ও নয়নসহ অপর চার যুবক একটি প্রশ্ন নিয়ে তার সেন্টারে প্রবেশ করেন। ওই সময় তারা প্রশ্নের উত্তরপত্র তৈরী করে দেয়ার জন্য চাপ দেন। তখন সে অপরাগতা প্রকাশ করলে ওই চার যুবক তাকে মারধর করে। পরে আরো কয়েক যুবক সেন্টারে প্রবেশ করে তাকে টেনে হেচড়ে ক্যাম্পারের ভেতর নিয়ে আসে। এরপর সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে একটি প্রশ্নসহ তাদেরকে তুলে দেন।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অপ্রীতিকর ঘটনা চলার সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ফাতেমা মমতাজ মলি ‘বীর শ্রেষ্ট ক্যাপটেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর অডিটরিয়াম’ পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করে। তখন ওই কক্ষে ছিলেন ইতিহাস বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক বেল্লাল হোসেন। এ ব্যাপারে ফাতেমা মমতাজ মলি বলেন, পরীক্ষা শুরুর কিছু সময় পর আমার এক নিকট আত্মীয় কক্ষ খুজে পাচ্ছিলেন না। তাকে কক্ষে ঢুকিয়েই আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।’

এর কিছু সময় পর ছাত্র-কর্মপরিষদের সদস্য নাদিম মল্লিক ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীদের অবৈধ সুযোগ সৃষ্ঠি করে দিচ্ছিলেন। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্ধী করায় ওই ছাত্রলীগ নেতা সাংবাদিকদের ওপর ক্ষেপে যান। তখনও কক্ষপরিদর্শক বেল্লাল হোসেন ছিলেন। পরীক্ষা চলাকালিন সময় তিনি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাঁধা দেননি। উল্টো তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করলেই তাদের সঙ্গে ঘোষগল্পে মেতে ওঠেন। ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের কাজেও পরোক্ষভাবে বাঁধা দিয়েছেন।

এদিকে একই সময় অর্ধশত নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। তারা পদার্থ বিজ্ঞান ভবনে চলমান পরীক্ষা পরিদর্শনের জন্য চেষ্ঠা করলে পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক জিয়াউল হক তাদের বাঁধা দেন। এনিয়ে তাদের সঙ্গে জিয়াউল হকের কথা কাটাকাটি বাঁধে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জিয়াউল হক বলেন, কতিপয় শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালিন কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। পরীক্ষার স্বার্থেই তাদেরকে প্রবেশদ্বারে আটকে দেই। তিনি আরো বলেন, যে প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে, সেটি অন্য কোনো কেন্দ্র থেকে ফাঁস হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিএম কলেজে একের পর এক পরীক্ষায় একই রকম কেলেংকারীর ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে সম্প্রতি জেলা প্রশাসন থেকে শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ে বিএম কলেজে কোন পরীক্ষা কেন্দ্র না রাখার জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোন সুরাহা না হওয়ার আগেই আবারো একই ঘটনার পুনারাবৃত্তি ঘটেছে ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায়।


(আমাদের বরিশাল ডটকম/বরিশাল/ডেস্ক/তাপা)



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।