![]() ফলোআপঃ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মামলা দায়ের, শিক্ষককে নোটিশ
২৪ December ২০১১ Saturday ১০:৫১:১৫ PM
![]() লাল বৃত্ত চিহ্নিত ব্যক্তি শিক্ষক নন, তিনি ছাত্রলীগ নেতা নাদিম মল্লিক। ছবিটি বি এম কলেজে অনার্স ভর্তি পরীক্ষার সময় তোলা - ফাইল ফটো বরিশাল, ২৪ ডিসেম্বর (বরিশাল ডেস্ক/আমাদের বরিশাল ডটকম): জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতাদের মাধ্যমে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক মো: জিয়াউল হক। তবে পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষা হলে অবাধে যাতায়াতকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে নেয়া কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শুধুমাত্র কেন্দ্রে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার সিন্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে না পারায় শিক্ষক বেলাল হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরীক্ষা কমিটি। বি এম কলেজ পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক মো: জিয়াউল হক আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় পরীক্ষা কেন্দ্রে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকারের কঠোর করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছিল। সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে না পারায় শিক্ষক বেলাল হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হচ্ছে। এদিকে প্রশ্নপত্রসহ পুলিশের হাতে সোপর্দ করা রূপান্তর কোচিং সেন্টারের পরিচালক কলেজ শিক্ষক কবির হোসেন এবং রিয়াজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুজ্জামান আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি পরীক্ষার বিএম কলেজ কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কোতয়ালী থানায় বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক মো: জিয়াউল হক বাদী হয়ে ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। আপরদিকে এ ঘটনায় মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক এসএম আলাউদ্দিন ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো: নুর মোহাম্মদ। বি এম কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস বলেন, বিএম কলেজ কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এর পরও প্রশ্নপত্রটি কিভাবে পরীক্ষা চলাকালে বাইরে গিয়েছে তার উৎস খুজতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলেই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বরাবরের মত এদিনও অবাধে পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে উত্তরপত্র তৈরী করে দিয়েছেন। এদিকে বিএম কলেজ কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালকসহ দু’জনকে ক্যাম্পাসে এনে পুলিশের হাতে প্রশ্নপত্রসহ তুলে দেয় ছাত্রলীগ নেতারা। তবে কোচিং সেন্টারের পরিচালক দাবী করেছেন, তিনি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের চক্রান্তের শিকার। ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার পুলিশ হেফাজতে থাকা রুপান্তর কোচিং সেন্টারের হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ছাত্রলীগ নেতা হাবিব বিশ্বাস ও নয়নসহ অপর চার যুবক সকালে একটি প্রশ্ন নিয়ে তার সেন্টারে প্রবেশ করে প্রশ্নটির উত্তরপত্র তৈরী করে দেয়ার জন্য চাপ দেন। তখন সে অপরাগতা প্রকাশ করলে ছাত্রলীগ নেতারা তাকে মারধর করে ক্যাম্পাসের ভেতর নিয়ে এসে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে একটি প্রশ্নসহ তুলে দেন। উল্লেখ্য, গত কয়েকটি পরীক্ষায় বিএম কলেজ কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাসের একের পর এক অভিযোগ ওঠায় বরিশাল জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ ওই কলেজে কেন্দ্র না স্থাপনের জন্য এর আগে সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়ে সুপারিশ করেছে। – সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

