" />
AmaderBarisal.com Logo

ভোলার বোরহানউদ্দিন খাদ্য গুদামে ৩শ টন পঁচা চাল


আমাদেরবরিশাল.কম

১৮ January ২০১২ Wednesday ৮:৩১:৪১ PM

খাদ্য গুদাম

বোরহানউদ্দিন খাদ্য গুদামের মাঠে শুকাতে দেয়া পঁচা চাল ও বস্তা (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)

ভোলা, ১৮ জানুয়ারী (অচিন্ত্য মজুমদার/আমাদের বরিশাল ডটকম): ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঠিকাদার ও গুদাম কর্মকর্তার যোগসাজসে খাদ্য গুদামে ৩শ টন পচা চাল প্রবেশ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৪ জানুয়ারী থেকে ১৮ জানুয়ারী পর্যন্ত এ চাল খালাসের কাজ চলছিল। ১৮ জানুয়ারী বুধবার সকালে এ পঁচা চাল খালাসের কথাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মূখে অবশিষ্ট ৬ টন চাল আর গুদামে প্রবেশ করতে পারেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই পঁচা চাল গুদামে রাখার জন্য গুদাম কর্মকর্তার তৎপরতাই বেশী দেখা গেছে। গুদামের বাইরে থাকা ৬ টন চাল ১০ টাকা দরে স্থানীয় ঠিকাদার কামাল হোসেনের কাছে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও গুদাম কর্মকর্তা। কিন্তু স্থানীয় সচেতন লোকজন ওই চাল সরাতে দেননি।

জানা যায়, সরকারীভাবে ৩শ টন চাল বোরহানউদ্দিন উপজেলা খাদ্য গুদামে রাখার জন্য পাঠানো হয় । এ চাল মংলা থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জন্মভূমি পরিবহন’র অবাক পৃথিবী-৭ নামের কার্গো জাহাজে করে ভোলার বোরহানউদ্দিনে আনা হয় । চালগুলো জাহাজ থেকে খালাশ করার সময় সেগুলো পঁচা বলে স্থানীয়রা দেখতে পান। এগুলোর মধ্যে ২৯৪ টন চাল গুদামে প্রবেশ করানোর পর অবশিষ্টগুলো যাতে গুদামে ঢোকাতে না পারে সেজন্য স্থানীয়রা বাঁধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে গুদাম কর্মকর্তা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ব্যাক্তি কাজী মোঃ শাজাহান মিলে চালগুলো গুদামের সামনের মাঠে রৌদ্রে শুকাতে দেয়।

গুদাম কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন খান আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, গুদামের মধ্যে যে চালগুলো ঢুকানো হয়েছে সেগুলো সবই ভাল। ৪/৫ টন নষ্ট থাকতে পারে বলে তিনি দাবী করেন।

চাল পরিবহনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কাজী মোঃ শাজাহান বলেন, জাহাজের তলা ফেটে বোরহানউদ্দিন গুদাম ঘাটের খালেই পানি প্রবেশ করে কিছু চাল ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

কিন্তু গুদামে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, জাহাজ থেকে খালাশকৃত ৩শ টন চালের পুরোটাই পচাঁ ছিল। গুদামের শ্রমিকরা আরো জানান, শুকাতে দেয়া পচাঁ চালগুলো স্থানীয় ঠিকাদার কামাল হোসেনের কাছে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।

এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা সুবোধ কুমার হালদার জানান, ঘটনাটি শুনেছি তদন্ত পূর্বক কঠোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের মাত্র ৫০ গজের মাথায় অবস্থিত খাদ্য গুদামটিতে গত ৩দিন ধরে পঁচা চাল ঢোকানো হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, ঘটনাটি মাত্রই শুনলাম, ডিআইজি মহোদয় বোরহানউদ্দিনে অবস্থান করেছেন বিধায় তার প্রোটোকলে ব্যাস্ত ছিলাম বলে ব্যাপারটি আগে জানতে পারিনি।

অপরদিকে গুদাম এলাকার লোকজন ও গুদামে কর্মরত শ্রমিকদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনান, গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মেজবাহ উদ্দিন চাল সরবরাহকারী পরিবহন ঠিকাদারের সাথে যোগসাজসে অর্থের বিনিময়ে সরকারী গুদামে এ পঁচা চাল প্রবেশ করিয়েছেন। অতীতেও তিনি এ ধরনের বহু অপকর্ম করেছেন বলে জানিয়েছেন গুদাম শ্রমিকরা। এ ঘটনাটি বোরহানউদ্দিনের টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানার ওসিসহ গুদাম এলাকায় পুলিশ গিয়ে অবস্থান করছিল।


(আমাদের বরিশাল ডটকম/ভোলা/অম/তাপা)



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।