![]() চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে পিকনিকের চাঁদা চেয়ে নোটিশ!বামনা প্রতিবেদক ১৮ February ২০১৮ Sunday ৭:৫৬:০৫ PM
স্থানীয় ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট রিপ্রেনজেটিটিভ এ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) ওই বার্ষিক বনভোজনের জন্য নিজের দেওয়া একটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে চাঁদার পরিমান ধার্য্য করে হাসাতালের ওয়ালে ওই চাঁদার নোটিশ সেঁটে দেন তিনি। পরে ডাঃ জামাল মিয়ার এ চাঁদার নোটিশ ও তার স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে সামাজিক ওয়েবসাইট ফেসবুকে তোলপার সৃষ্টি হলে তিনি ওই নোটিশ অপসারণ করান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাঃ মো. জামাল মিয়া বিষয়টি এড়িয়ে যান। এদিকে শুধু চাঁদা গ্রহণ নয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে এমন নানা স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া হাসপাতাল চলাকালীন সময় তিনি বহি বিভাগে দেখাতে আসা রোগীদের নিকট থেকে অর্থের বিনিময় ব্যবস্থাপত্র দেন। হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে অসৈজন্যমূলক আচারণ সহ নানা হয়রানী করে আসছেন বলে একাধীক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের কর্মচারীদের প্রফিডেন্ট ফান্ড ও জিপি ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্থানীয় ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে ব্যবস্থা পত্র দেন এবং অফিস চলাকালীন সময় ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ করে দেন। তার খামখেয়ালীপনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে হাসপাতালের কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। অাজ রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বামনা উপজেলার আমতলী গ্রামের মোস্তফা দফাদারের স্ত্রী সুরমা বেগম তার সন্তান ইসাহাক (১৭) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বহি বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। ডাঃ জামাল মিয়া তাকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেন বিলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিকরা হাসপাতালে গিয়ে ভিজিট নেওয়া কারণ জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে ভিজিটের টাকা সংশ্লিষ্ট রোগীকে ফেরত দেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বামনা উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয়সভায় অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় ৪ ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংবাদিকরা তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগে করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ডা. জামাল মিয়া সপ্তাহে একদিন কর্মস্থলে এসে হাজিরা খাতায় বাকি ছয় দিনের স্বাক্ষর দেন। বামনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিংগার প্রিন্টের মাধ্যমে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হাজিরা চালু থাকলেও তিনি কখনো ফিংগার প্রিন্টের মাধ্যমে হাজিরা দেন না। এছাড়া তিনি হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে রুক্ষ ভাষায় কথা বলেন। বামনা উপজেলার পশ্চিম সফিপুর গ্রামের উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির মোল্লা অভিযোগ করেন, তিনি তার নিকট আত্মীয় টিউমার আক্রান্ত এক নারী রোগীকে নিয়ে ডা. জামাল মিয়ার শরণাপন্ন হন। ওই রোগীর টিউমার অপারেশন করার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই চুক্তিতে তার অপারেশন করেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু চুক্তি উপেক্ষা করে দরিদ্র ওই রোগীর নিকট থেকে আরো ১৪ হাজার টাকা বাড়তি নিয়ে মোট ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এর প্রতিকার জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডা. জামাল মিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে স্পেশাল কেউ দেখাতে চাইলে তাদের কাছ থেকে নাম মাত্র ভিজিট গ্রহণ করি। আপনারা যদি চান তাহলে দাপ্তরিক কাজ ছাড়া আমি কোন রোগী দেখবো না। বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু বলেন, ডা. জামাল মিয়া যোগদানের পরে বেশ ভালোই দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু এখন তার বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় অভিযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক বৃন্দ। ওই সভার রেজুলেশন স্বাস্থ্য মন্ত্রানালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ জসীম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের রেজুলেশন হওয়ার বিষয়ে আমি অবগত আছি। তিনি সব সময় অফিসে থাকেন না ও হাসপাতাল চলাকালীন সময়ে ভিজিট গ্রহণ করেন বলে শুনেছি। কেউ অভিযোগ দিলে আমি তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

বরগুনার বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. জামাল মিয়ার (শোভন) বিরুদ্ধে রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে বার্ষিক বনভোজনের জন্য চাঁদা চেয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ব্যাধতামূলক করে নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, ডাঃ জামাল মিয়া বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১৮ জুন ২০১৭ তারিখ যোগ দান করেন। যোগদানের পর থেকে হাসপাতালে নিজের ইচ্ছেমতো আসেন। এ বিষয়ে বামনা উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়।