" />
AmaderBarisal.com Logo

দক্ষিণের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য বিবিচিনি মসজিদ হারিয়ে যাচ্ছে

সাইদুল ইসলাম মন্টু, বেতাগী
আমাদেরবরিশাল.কম

২ March ২০১৮ Friday ৩:৪০:৫৮ PM

বিবিচিনিপ্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম উজ্জ্বল নিদর্শন বরগুনার বেতাগীর বিবিচিনি শাহী মসজিদটি সৌন্দর্য হারাচ্ছে। টিকে থাকলেও কালের বিবর্তনে আজ এর ঐতিহ্য অনেকটা হারিয়ে গেছে।

মসজিদটি প্রয়োজনীয় রক্ষনা বেক্ষনের অভাবে দিন দিন ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের সংস্কার ও তেমন উন্নয়ন হচ্ছে না। বর্তমানে মসজিদে যাতায়াতের রাস্তাটির অবস্থা খুবই শোচনীয়।

দর্শনার্থী ও নামাযীদের ওঠানামার জন্য মসজিদের দক্ষিণ পাশের ২১ ধাপ বিশিষ্ট ৪৮ ফুট দীর্ঘ সিঁড়িটি দেবে গিয়ে ধসে পরায় মাটি দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে। সিঁড়ি নির্মানের ফলে মসজিদে যাতায়াতের পথ সৃুগম ও সহজ হলেও বর্তমানে টিলা বেয়ে মুসুল্লীদের নামাজ পড়তে ও পর্যটকদের আসা যাওয়া করতে দূর্ভোগে পড়তে হয়।

ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য দক্ষিণের বিবিচিনি মসজিদ হারিয়ে যাচ্ছেপূর্ব পাশের ২৫ ধাপ বিশিষ্ট ৪৬ ফুট দীর্ঘ সিঁড়িটির অবস্থাও নাজুক। সম্ভাবনাময় এ পর্যটন স্পটটি পর্যটকদের পাশাপাশি সকলের হৃদয়কে আকৃষ্ট করে তুললেও পরিবেশ রক্ষার্থেও নেই তেমন কোন উদ্যোগ। স্থানীয় কিছু লোক মসজিদের টিলার নিচের মাটি কেটে তাদের জমি বাড়িয়ে আবাদ করে টিলার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করায় বিলীন হয়ে গেছে সৌন্দর্য।

এটি ঐতিহাসিক কীর্তি হিসেবে দক্ষিণাঞ্চল তথা সমগ্র দেশের নীরব স্বাক্ষীহয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সম্রাট শাহজাহানের সময় সূদুর পারস্য থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আধ্যাত্মিক সাধক শাহ নেয়ামতউল্লাহ তৎকালীন চন্দ্র দ্বীপের নিকটবর্তী বিবিচিনিতে শাহজাদা বাংলার সুবেদার মোহাম্মদ শাহ সুজার অনুরোধে ওই গ্রামে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দের এক গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।

দক্ষিণের ঐতিহাসিক বিবিচিনি শাহী মসজিদ হারাচ্ছে জৌলুসসপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৩৩ ফুট, প্রস্থ ৩৩ ফুট। দেয়ালগুলো ৬ ফুট চওড়া বিশিষ্ট। দক্ষিণে এবং উত্তর দিকে তিন তিনটি দরজা রয়েছে। তবে মসজিদটিতে মূল প্রবেশদ্বার একটি। মসজিদের সংস্কার কাঠামোয় প্রবেশদ্বারের মূল ফটক সংস্কার করা হলেও প্রবেশপথ এখনো অপরিসর। এগুলো খিলানের সাহায্যে নির্মিত হয়।

bibichini-mosque বিবিচিনি মসজিদ বরগুনামসজিদের ইটগুলো মোঘল আমলের ন্যায় তৈরী । দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১০ ইঞ্চি এবং চওড়া ২ ইঞ্চি। সমতল ভূমি হতে মসজিদ নির্মিত স্থানটি আনুমানিক কমপক্ষে ৩০ ফুট সুউচ্চ টিলার উপর অবস্থিত। তার উপরেও প্রায় ২৫ ফুট মসজিদ গৃহ।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ দীর্ঘদিনের অরক্ষিত জ্বরাজীর্ন অবস্থা থেকে মসজিদটি উদ্ধারের পর অনেক সংস্কার করলেও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ সংস্কার কাঠামোয় মসজিদের পুরানো কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবুহু মিল রেখে কাজ করা হয়। মসজিদের ভেতরে অবাধে বায়ু চলাচলের পথগুলো উম্মুক্ত রাখা হয়। কোন মতে স্থাপন করা হয় বাতি ও বৈদ্যুতিক পাখা।

জানাযায়, পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে মসজিদের আরও সৌন্দর্য বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত সম্প্রসারন ও সংস্কারের জন্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিলেও দুঃখের বিষয় অদ্যবধী তার কোন খবর মেলেনি।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাজিব আহসান আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, সরকারি গুরুত্ব স্থাপনা হিসেবে মসজিদের উন্নয়নে এর প্রতি নজড় রয়েছে ।

স্থানীয়দের দাবি মসজিদের ঐতিহ্য ও উন্নয়নে পর্যটন মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিট বিভাগের এগিয়ে আসার ।



সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।