![]() দক্ষিণের সৌন্দর্যের লীলা সোনালী সৈকত ‘সোনার চর’পর্যটন ডেস্ক ৮ March ২০১৮ Thursday ২:২৪:৪৫ PM
সমুদ্রসৈকতের পেছনে ঝাউগাছের সারি, ঢেউয়ের উথালপাতাল, অসংখ্য মাছ ধরার নৌকা। আরও একটু দুরে মিলবে ছোট্ট একটি গ্রাম। এটা জেলে পল্লী, তবে স্থায়ী নয়। জেলেদের অস্থায়ী আবাস। সুন্দরবনের দুবলার চরের মতোই শীত মৌসুমে এখানে ছয় মাসের জন্য আবাস গড়ে ওঠে। শেষ বিকেলের রোদের আলো যখন সোনারচরের বেলাভূমিতে পড়ে, তখন দূর থেকে পুরো দ্বীপটাকে সোনালী রঙের একটা থালার মত মনে হয়। মনে হয় যেন কাঁচা সোনার প্রলেপ দেওয়া দ্বীপটিতে।
সাগরে যখন জোয়ারের পানি উথলে ওঠে, তখন অন্য এক সৌন্দর্য বিকশিত হয় সোনারচরে। তটরেখায় আছরে পড়ে ছোট-বড় ঢেউ। গলে পড়ে ঝুরঝুরে বালি। লোনা পানির তীরে ঘন সবুজ অরণ্যের বিস্তার। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের যে কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল সুযোগ। মনে হবে প্রকৃতির খেয়াল আপনাকে যেন আকড়ে ধরে রাখতে চায়।
শোনা কথা সকাল ও বিকালে হরিণ চলে আসে সোনার চর সমুদ্র সৈকতে। প্রতিবছর ছয় মাসের জন্য সোনার চর মৎসজীবিদের আবাসস্থল হয়ে ওঠে। তবে দূর্গম এলাকা ও থাকার ব্যবস্থা না গড়ে ওঠায় সেভাবে এখানে পর্যটক খুব বেশি আসে না। যে ভাবে যাবেন : পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে সোনার চর যেতে পারবেন। এ ছাড়া চর কুকরি-মুকরি বা চর কচ্ছপিয়া ফেরিঘাট থেকে সরাসরি সোনার চর যেতে পারেন। যেভাবেই যান, ঢাকার সদর ঘাট থেকে সরাসরি গলাচিপা বা চরফ্যাশন চলে যাওয়া যাবে। চর কুকরি-মুকরি থেকে ট্রলারে করে সোনার চর। ট্রলারভাড়া আসা-যাওয়া মিলে সর্বোচ্চ চার হাজার টাকার মতো। সোনার চরে দলবেঁধে যাওয়াই উত্তম। লঞ্চে ঢাকা থেকে চরফ্যাশন (বেতুয়া ঘাট বা ঘোষের হাট) ডেকের ভাড়া ২০০ টাকা। কেবিন এক হাজার টাকা। চরফ্যাশন থেকে চর কচ্ছপিয়া ফেরিঘাট যেতে হবে মোটরসাইকেল অথবা বোরাকে (ইজিবাইক) চেপে। এবার স্পিডবোট কিংবা ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে নিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় অথবা লাইনের ট্রলারে চেপে চলে যান চর কুকরি-মুকরি। উপজেলা পরিষদ ভবনে অনুমতি নিয়ে রাতে থাকা যাবে। থাকা যাবে বন বিভাগের অফিসার্স কোয়ার্টার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি কিংবা খোলা মাঠে তাঁবু পেতে। খাওয়াদাওয়ার কোনো চিন্তা নেই। বাজারের হোটেলে অর্ডার দিলেই তাজা মাছের সঙ্গে দেশি মুরগি সহজেই পেয়ে যাবেন। দামও হাতের নাগালে। সোনার চরে থাকার জন্য বন বিভাগের বাংলোই একমাত্র ভরসা। যারা রোমাঞ্চপ্রেমিক তারা হয়তো সৈকতের কাছে তাঁবু পেতে থাকতে পারেন। খাবারদাবারের ব্যবস্থা চর কুকরি-মুকরি থেকেই করে আসতে বা নিয়ে আসতে হবে! সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

বনবিভাগের পটুয়াখালি রেঞ্জের আওতায় গড়ে ওঠা সোনার চর পটুয়াখালি বা গলাচিপা হয়ে যেতে হয়। রয়েছে অর্ধচন্দ্রাকৃতির সৈকত। বঙ্গোপসাগরের এই সৈকতে নেই কোনো সোনা। তবে আছে সোনালী রঙের বালু। নিবিড় বনভূমির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আধার।
কখন, কে বা কারা এর নাম সোনারচর রেখেছে, তার কোনো ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়না। তবে পর্যটকসহ স্থানীয়দের ধারনা, শেষ বিকেলের ওই দৃশ্যের উপর নির্ভর করেই এই চরের নাম সোনারচর হয়েছে।
বন বিভাগের আওতাধিন সোনার চর হচ্ছে বন্য-প্রাণীর অভয়ারণ্য। সুন্দরেরবনের পর চর কুকরিমুকরি ও সোনার চরকেই ধরা হয় দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। সোনা চরের মূল সৌন্দর্য এখানকার ঝাউবন। এছাড়া এই বনে রয়েছে প্রচুর কেওড়া ও ছৈলাসহ গোলপাতা, বাবলা, করমচা, নলখাগড়া ও জাম গাছ।