![]() সন্তানটির জন্মদাতা পিতা কে?বামনা প্রতিবেদক ২২ March ২০১৮ Thursday ২:২২:৩০ PM
বরগুনা জেলার বামনা উপজেলা শহরে দুই বছরের একটি শিশু সন্তান নিয়ে ঘুরে বেড়ায় মানসিক ভারসম্যহীন হাফিজা বেগম (২৬)। বামনা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গত একমাস ধরে একটি খোলা মাঠে ঘুপরী ঘর বানিয়ে সন্তানকে নিয়ে বসবাস শুরু করে হাফিজা বেগম। কখনো খেতে পায় আবার কখনো না খেয়ে দিনরাত্রী যাপন করে তিনি। এ হৃদয়বিদারক বিষয়টি স্থানীয় কিছু মানুষকে নাড়া দিলে তারা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে বামনা থানা পুলিশ হাফিজা ও তার সন্তানকে ওই ঘুপরী ঘর থেকে উদ্ধার করে বামনা থানায় নিয়ে আসে। বামনা থানা পুলিশ জানায়, মনসিক ভারষম্যহীন হাফিজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার স্বামীর নাম সঠিক বলতে পারেনি। তবে তার বাবার বাড়ী পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রকান্দা গ্রামে ও বাবার নাম মন্নান দফাদার এইটুকু বলতে পারেন। তবে তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ওই ফোনের সূত্রধরে তাকে তার বাবার বাড়ি চন্দ্রকান্দা গ্রামে সোমবার (১৯ মার্চ) সকালে পৌছে দেওয়া হয়েছে। বামনা উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মানজুরুর রব মুর্তাযা আহসান জানান, খাদ্য-বস্ত্রহীন রোদের তাপে ওই গৃহবধূ তার সন্তানসহ চরম মানবেতর জীবন জাপন করছিলো। মা ছেলের এমন মানবেতর জীবন দেখে স্থানীয় অনেকেই ব্যতিথ হন। মানবিক কেউ কেউ তাদের খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা দেন। কিন্তু এভাবে কতদিন চলবে তার জীবন? বামনা থানা পুলিশ তাকে তার বাবার বাড়িতে পৌছে দেওয়ায় পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থ্য বেড়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী জানান, মানকি ভারসম্যহীন হাফিজা প্রায়ই আমার মোবাইল ফোনে কলদিতো। তবে শুধু কান্নাকাটি ছারা আর কিছুই শোনা যেতো না। পরে তাকে আর খুজে না পাওয়ায় এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। পুলিশের উদ্যোগে তাকে বাবার বাড়ীতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি একটি প্রশংসনীয় পুলিশের মানবিক উদ্যোগ। তার খোঁজ নিয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমার মনে হয় মানষিক ভারসম্যহীন হওয়ায় আত্ময়ী স্বজনরা তাকে ঘর থেকে বেড় করে দিয়েছে। বামনা থানার ওসি জি এম শাহ নেওয়াজ বলেন, আমাকে ওই মানসিক ভারসম্যহীন হাফিজার সন্ধান দেওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। পরে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার বিজয় বসাক স্যারের পরামর্শে তাকে তার বাবার বাড়ী মির্জাগঞ্জের চন্দ্রকান্দায় পৌছে দেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী কে তা জানা সম্ভব হয়নি। এমনকি ওই সন্তানটির পিতা কে তা ও সে বলতে পারছেনা। সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

মানসিক ভারসম্যহীন হাফিজার কোলে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান। একপা দুপা করে মায়ের পিছন পিছন হাটে ওই অবুঝ শিশুটি। কখনো হাটতে হাটতে শিশুটি ক্লান্ত হয়ে বসে পরে রাস্তায়। মা হাফিজা কিছুদুর গিয়ে যখন ছেলেকে না পায় দৌড়ে ছুটে আসে নিজের নাড়ী ছেড়াধন শিশুটির কাছে। কোলে তুলে নিয়ে আবার চলা শুরু করে। রাস্তায় ফেলে দেওয়া নষ্ট ও উচ্ছিস্ট খাবার হাফিজা নিজেও খায় আবার সন্তানটিকেও খেতে দেয়। কিন্তু হাফিজা নিজেও জানেনা এই শিশুটির বাবা কে? কে তার সঠিক জন্মদাতা পিতা?