" />
AmaderBarisal.com Logo

খাবার ও মিঠা পানির তীব্র সংকটঃ ভোলার লোকালয়ে হরিনের পাল


আমাদেরবরিশাল.কম

১ April ২০১২ Sunday ৮:৫৫:১৩ PM

ভোলা হরিণ

মিঠা পানির অভাবে লোকালয়ে উঠে আসা একটি হরিণকে এভাবেই গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)

ভোলা, ১ এপ্রিল (অচিন্ত্য মজুমদার/আমাদের বরিশাল ডটকম): ভোলার মনপুরারসহ উপকুলের বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে খাবার ও মিঠা পানির অভাবে লোকালয়ে চলে আসতে শুরু করেছে হরিনের পাল। আর লোকালয়ে এসে এসব হরিনের পাল প্রতিদিন কিছু অসাধু শিকারী হাতে ধরা পড়ছে। তীব্র গরমে প্রায় অর্ধ-শতাধিক হরিণ লোকালয়ে চলে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এছাড়াও সাগর মোহনায় পানিতে লবনাক্ততার পরিমান বেড়ে যাওয়ায় হরিনের পাল মিঠা পানির সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে বলে জানা গেছে। অথচ ভোলার বনবিভাগ বলছে মাত্র ১০টি হরিণ লোকালয়ে এসেছিল। হরিণগুলো উদ্ধার করে পুনরায় বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এলাকার প্রভাশলীরা রাতের আধাঁরে হরিণ ধরে জবাই করে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। একটি প্রভাবশালী চক্র ট্রলার নিয়ে মেঘনার মোহনায় ঘুরে বেড়াচ্ছে হরিণ শিকার করার জন্য।

অপর একটি সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে গত ১২ মার্চ মনপুরার স্থলভাগে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের সময় বনবিভাগ কয়েকজনকে হাতেনাতে আটক করে। পরে প্রভাবশালী উপর মহলের তদবিরে বনবিভাগ তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

স্থানীয়রা জানান, ভোলার চরমজুমদার, চরমামুন, চরবদনা, চরপাতালিয়া, চরপিয়াল, পঁচাকোড়ালিয়া, উরিরচর, চরমান্নান, সোনারচর, কলাতলীরচর, আলম নগরসহ ১৫টি বনে হরিণ রয়েছে। তারা আরো জানায়, গত কয়েক দিন আগে মনপুরার ফকির হাট জামে মসজিদে একটি হরিণ ঢুকে পড়ে। এটি বের হওয়ার জন্য চেষ্টা করার সময় স্থানীয়রা হরিনটিকে আটক করে। ওই হরিণটি পরে মারা যায়। এছাড়া ভূইয়ার হাট ও রিজির খাল এলাকা থেকে আরো ৩টি হরিণ আটক করে এলাকাবাসী। হরিণ ৪টি স্থানীয়রা আটক করে রেখেছিল। হরিণ ৪টির ব্যাপারে ডিএফও মিজানুর রহমান জানান, এসব হরিণ নিঝুম দ্বীপ থেকে এসেছে। নদী সাতরিয়ে আসার ফলে এরা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ২টি বড় হরিণ ছিল। অপর দুটি ছিল বাচ্চা হরিণ ।

এছাড়া ২৮ মার্চ পঁচা কোড়ালিয়া এলাকায় ২টি হরিণ, ২৯ মার্চ চরফৈজুদ্দিন এলাকায় ২টি এবং রামনেওয়াজ এলাকায় আরও একটি হরিণ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করার কথা বনবিভাগ জানালেও গত ২৯মার্চ প্রায় ৮/১০ টি হরিণ চরফৈজুদ্দিনের লোকালয়ে ছোটাছুটি করতে দেখেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সেখানকার বাসিন্দাদের দাবী প্রায় অর্ধ শতাধিক হরিণ লোকালয়ে এসে আটকা পড়েছে।

এ ব্যপারে মনপুরা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল আলম আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, এ পর্যন্ত আমরা ১০ টি হরিণ উদ্ধার করেছি। ১টি হরিন মারা গেলেও বাকিগুলোকে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বনে শুধু মিঠা পানির সংকট নয় যথেষ্ট পরিমানে খাদ্যেরও অভাব রয়েছে। অনেক বন রয়েছে যেগুলোতে কোন ঘাস নেই। বনে শুধু বন্য প্রাণীই থাকবে। এতে অন্য কোন প্রাণী যেমন গরু, মহিষ থাকবেনা। এছাদাও পুকুর কেটে মিঠা পানির ব্যবস্থা করে দিলে হরিনের বংশ বৃদ্ধি এবং বিচরনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে তিনি মনে করেন।


(আমাদের বরিশাল ডটকম/ভোলা/অম/তাপা)



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।