![]() বরগুনায় ঠান্ডা ফি দিয়ে চলছে নকলের মহোৎসব !
৬ April ২০১২ Friday ৬:৪০:২৫ PM
![]() পরীক্ষা চলাকালীন আমতলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের সামনের সাফা ফটোস্ট্যাট’র দোকানে প্রশ্ন ও উত্তর সংগ্রাহকদের উপচে পড়া ভীড়। ৬ এপ্রিল শুক্রবার সকালে তোলা ছবি বরগুনা, ৬ এপ্রিল (মনির হোসেন কামাল/আমাদের বরিশাল ডটকম): বরগুনার আমতলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ৬ এপ্রিল শুক্রবার উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীনে এইচএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষার ইংরেজী ১ম পত্র পরীক্ষায় নকলের মহা উৎসব চলেছে। পরীক্ষার হলে নকল করতে দেয়ার জন্য ঐ কলেজের অধ্যক্ষ মজিবর রহমান প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে ‘ঠান্ডা ফি’ আদায় করেছেন বলে পরীক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে। তবে পরীক্ষার্থীরা অভিমান করে জানান, সাংবাদিকরা যাওয়ার পরে পরীক্ষা কেন্দ্রের সকল সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। আমতলী ডিগ্রি কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এইচএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষায় ১ম ও ২য় পর্ব মিলিয়ে এইচএসসি ও ডিগ্রিতে ৩৩৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। ঐ কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে জানান, গত ৩০ মার্চ শুক্রবার ১ম দিনেই পরীক্ষা শুরুর আধা ঘন্টা আগে কেন্দ্র সচিব ও কলেজ অধ্যক্ষ প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেন। কলেজের সামনে বিভিন্ন ফটোস্ট্যাটের দোকানে প্রশ্নপত্র ও উত্তরের ফটোস্ট্যাট কপি বিক্রির রমরমা বানিজ্য চলে। ৬ এপ্রিল শুক্রবারও দেখা যায় পরীক্ষা চলাকালীন কলেজের সামনে সাফা ফটোস্ট্যাট’র দোকানে প্রশ্ন ও উত্তর সংগ্রাহকদের উপচে পড়া ভীড়। এ ব্যাপারে আমতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, “এ ঘটনা আমার কানেও এসেছে। তবে আমতলীর বাইরে থাকায় আগের দিনে কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি। আজ সরেজমিনে যাচ্ছি।” ৬ এপ্রিল শুক্রবার পরীক্ষা কেন্দ্র গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে বহিরাগতদের ভীড়সহ চরম বিশৃংখলা বিরাজ করছে। পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘন্টা পর সকাল সাড়ে দশটায় বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে তাড়াহুড়ো করে কক্ষ পরিবর্তন করতে দেখা যায়। কক্ষ পরিদর্শকরা জানালেন, ভুল করে অন্য কক্ষে বসেছিলেন ঐ পরীক্ষার্থীরা। আমতলী ডিগ্রি কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ ও ২০১১ সালসহ বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষায় দূনীর্তি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ প্রমানিত হলে বরিশালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ অধ্যক্ষ মজিবর রহমানকে যে কোন পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের পদ থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি প্রদান করে। (আদেশের স্মারক নং বশিবো/পনি/উমা/২০১১/৪৭৭১ তারিখ ০২/১১/২০১১)। আমতলী ডিগ্রি কলেজের আরেকটি সূত্র জানায়, ২০১১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার নিজ পুত্রকে সুবিধা দেয়ার জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে তিনি (অধ্যক্ষ মজিবর রহমান) আমতলী বকুল নেছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ফোরকান মিয়াকে মুঠোফোনে প্ররোচিত করেন। যার ১৮ মিনিটের রেকর্ডকৃত অংশ বরিশালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে প্রেরন করা হয়েছে বলে আমতলী বকুল নেছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ফোরকান মিয়া নিশ্চিত করেছেন। পরীক্ষা কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃংখলা হয়েছে স্বীকার করে আমতলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মজিবর রহমান বলেন, “ঠান্ডা ফি সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। এটা শত্রুতা বশতঃ কেউ ছড়িয়েছে।” আমতলী উপজেলা প্রশাসনের মনোনীত পরীক্ষা পরিদর্শক ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মনজুর হাসান জানান, “নকল করার দায়ে ০৬ এপ্রিল শুক্রবার তিন পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে। – সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

