" />
AmaderBarisal.com Logo

আজ চন্ডিপুর গণহত্যা দিবস


আমাদেরবরিশাল.কম

৪ May ২০১২ Friday ৮:৪৮:৩৫ PM

জিয়ানগর, ৪ মে (আহাদ শিমুল/আমাদের বরিশাল ডটকম):  আজ ২২ বৈশাখ চন্ডিপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে জিয়ানগরের পার্শ্ববর্তী হিন্দু অধ্যুষিত চন্ডিপুর গ্রামে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা নির্মম ও নিষ্ঠুর গণহত্যা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রকৌশলী, শিল্পী, শিক্ষক, ডাক্তার, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি, নারী ও শিশুসহ ১৪৭ জন নিহত হয়। পরে আহত অবস্থায় মারা যায় আরো অনেকে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং আহত অবস্থায় বেঁচে থাকা কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭১ সালে ৬ মে সকালে সাধক বিপিন চাঁদ ঠাকুরের তিরোধান দিবস পালনে তার ভক্তবৃন্দ স্থানীয় দেবেন চাঁদ ঠাকুরের বাড়িতে সমবেত হন। ঐ দিন সকাল ৮ টার সময় পাক হানাদাররা স্থানীয় শান্তি কমিটির সহায়তায় পিরোজপুর ক্যাম্প থেকে ৩ টি স্পীড বোড যোগে চন্ডিপুরের গাম্বীরা খালের ভেতর দিয়ে আশ্রমে প্রবেশ করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আগতদের উপর অতর্কিত মর্টার, মেশিনগান দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দেবেন্দ্রনাথ হালদার, ইঞ্জিনিয়ার বিমল হালদার, উপেনন্দ্রনাথ হালদার, মনোজ হালদার, অনিল হালদার, ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার, আমজেদ খানসহ ১৪৭ জন নিহত হয়। মিলিটারীরা খুঁজে খুঁজে লোকজনকে হত্যা করে। যাকে সামনে পায় তাকেই গুলি করে। গ্রামের এক দিকে নদী অন্য দিকে বিশাল ফাঁকা মাঠ থাকায় লোকজন পালিয়ে যেতে পারেনি। হানাদার ও তাদের দোসর বাহিনী দীর্ঘ ৮ ঘন্টা ধরে অসংখ্য ঘর বাড়িতে লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ ব্যপক হত্যাকান্ড চালায়।

এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিন্টু রানী হালদার আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, আমি তখন ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। ওই দিন আমার চোখের সামনেই পাক হানাদাররা আমার বাবা দেবেন্দ্রনাথ হালদার, ভাই বিমল হালদারকে নির্মম ভাবে গুলি করে হত্যা করে। আমার কাকা উপেন্দ্রনাথ হালদার এবং আমি একটি বাগানে লুকিয়ে ছিলাম। হানাদাররা সেখান থেকে কাকাকে ধরে নিয়ে আমার সামনেই গুলি করে। মৃত্যু যন্ত্রনায় তিনি ছটফট করতে থাকলে আমি একটি নারিকেলের মালায় করে একটু জল এনে তার মুখে দিলাম। আমার হাতের উপর তিনি মৃত্যু বরন করেন। এভাবে অনেক লোকের নির্মম মৃত্যু আমার চোখের সামনে ঘটে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সুনীল কৃষ্ণ মজুমদার জানান, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আমার চোখের সামনেই বড় ভাই ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার ও দীনেশ চন্দ্র মজুমদারকেসহ অনেককেই নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। আমি বড় একটি গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকলে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাই।

একই গ্রামের বাসিন্দা জিয়ানগর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক পরিমল চন্দ্র মন্ডল জানান, আমার বাবা সতিষ চন্দ্র মন্ডল ও সেজ ভাই নির্মল চন্দ্র মন্ডল ঘাতকের বুলেটের আঘাতে মৃত্যু বরন করেন। চন্ডিপুর গ্রামবাসী নিহতদের স্মরনে সম্মিলিতভাবে খুবই সল্প পরিসরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করেছে। আজও এখানে সরকারী ভাবে কোন স্মৃতি সৌধ নির্মিত হয়নি। প্রতি বছরই নিহতদের স্মরনে শ্রী শ্রী হরিগুরু বিপিন চাঁদ দেবেন চাঁদ মন্দির চত্ত্বরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করে।


(আমাদের বরিশাল ডটকম/জিয়ানগর/আশি/তাপা)



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।