![]() ছাড়পত্র দিতে বিলম্বঃ অনিশ্চিত নদী ভাঙন রোধে ১২৩ কোটি টাকার প্রকল্প
১৩ May ২০১২ Sunday ৫:২৯:৫৬ PM
![]() ডাম্পিং না করে এভাবেই ফেলে রাখা হয়েছে বালু ভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম) অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা :: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড এলাকা মেঘনার তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে। গ্যাস ফিল্ড রক্ষার জন্য ১২৩ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও ছাড়পত্র দিতে বিলম্ব করায় এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ প্রকল্পের জন্য আনা সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ৩ মাস ধরে মেঘনার পাড়ে পড়ে আছে। রোদ বৃষ্টিতে এগুলো নষ্ট হলেও মেঘনার ভাঙন প্রতিরোধে গঠিত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রধান প্রকৌশলীর পৃথক তিনটি কমিটির একটিও তদারকি করে এখন পর্যন্ত এ সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ মেঘনার তীরে ডাম্পিং করার ছাড়পত্র বা কোন ধরনের কোন প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এদিকে আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা বিলীন হয়ে যাবে বলে সঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নির্ধারিত সময়ের মাঝে এ কাজ সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ২০১০ সালে গ্রহণ করা ১২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। এর আগে ওই স্থানে গ্যাস ফিল্ড রক্ষার প্রকল্পে প্রায় ৬ কিলোমিটার ব্লক বাঁধ বসানো হয়েছে। ওই ব্লক বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে একইস্থানে সাড়ে ৩ লাখ বালি ভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলার কথা রয়েছে। এজন্য ৪ মাস ধরে ৮টি বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিও ব্যাগ ভর্তির কাজ করে আসছে। এদিকে এ প্রকল্প তদারকির জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রধান প্রকৌশলীর পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনটি তদারকি কমিটির একটিও এথন পর্যন্ত সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ মেঘনার তীরে ডাম্পিং করার ছাড়পত্র বা কোন ধরনের কোন প্রতিবেদন দেয়নি। আর এর ফলে ৩ মাস ধরে মেঘনার পাড়ে এ প্রকল্পের জন্য তৈরী বালি ভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ পড়ে আছে। ফলে ভাঙন কবলিত গোটা এলাকা রয়েছে হুমকির মুখে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা না হলে গ্যাস ফিল্ডসহ গোটা এলাকা মেঘনার নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাস্কফোসের প্রতিনিধি এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ছাড়পত্র না দিলে ভাঙন রোধে সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা যাবে না। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের ডাম্পিং কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হায়দার জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসমে মেঘনা ভয়ঙ্কর রূপ ধারন করার আগেই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা বিলীন হয়ে যাবে। তিনি আরো জানান, আগামী মাসের মধ্যের প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে ক্ষতিগ্রস্থ্য হবে এখানকার সাধারন জনগন। তাই তিনি সরকারের কাছে ৩টি তদারকি কমিটির পরিবর্তে একটি কমিটি রেখে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়ার দাবি জানান। ছাড়পত্র পেতেই দীর্ঘসূত্রীতা হচ্ছে স্বীকার করে ভোলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রধান প্রকৌশলীর কমিটি তদারকি করে ছাড়পত্র না দেয়া পর্যন্ত শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র রক্ষা প্রকল্পের ব্লক ও বালু ভর্তি জিও ব্যাগ মেঘনার তীরে স্থাপন করা যাবে না। এই তিনটি কমিটির ছাড়পত্র পেলেই এ প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করা হবে।। – সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

