" />
AmaderBarisal.com Logo

ফলোআপঃ ‘ফেমাস বাংলা’র কর্মকর্তারা লাপাত্তা, ২৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা


আমাদেরবরিশাল.কম

৮ May ২০১২ Tuesday ৯:৩৪:৫৩ PM

লালমোহন, ৮ মে (জসিম জনি/আমাদের বরিশাল ডটকম): ভোলার লালমোহনসহ ৭ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলে ৩ হাজার শিক্ষক ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেয়ার নামে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ায় প্রতারণার অভিযোগে ‘ফেমাস বাংলা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ নামে একটি এনজিও’র বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৭ মে সোমবার রাতে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের আঃ রাজ্জাক বাদী হয়ে চিহ্নিত ২৫ জন এবং অজ্ঞাত আরো ৪০/৫০ জনকে আসামী করে এ মামলা করেন। মামলার পর ফেমাস বাংলা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্মকর্তারা গা ঢাকা দিয়েছে। এর আগে ৭ মে সোমবার দুপুরে লালমোহন থানা পুলিশ ওই অফিসে হানা দিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র ও কম্পিউটার আটক করে অফিস সীলগালা করে দেওয়ার পর ব্রাঞ্চ ম্যানেজারসহ ২ জনকে আটক করে।

ভোলা জেলায় ৬০০ স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া ফেমাস বাংলা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির শিক্ষকরা টাকা দিয়ে প্রতারিত হবার কথা স্বীকার করলেও ইউনিয়ন সুপারভাইজাররা মুখ খুলতে চাচ্ছে না। মামলার ভয়ে সুপারভাইজাররা এ সংস্থার সাথে জড়িত নয় এবং চাকরী ছেড়ে দিয়েছেন এমন কথা প্রচার করছেন। তবে এসব সুপারভাইজারের মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগের নামে প্রতিজনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামলায় বাদী আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে ফেমাস বাংলা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি বিভিন্ন লোভনীয় প্রচার করে শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে তার স্ত্রী জান্নাত বেগমকে আকৃষ্ট করে। মাসিক ১৮ শত টাকা বেতনে চাকুরী গ্রহণের উদ্দেশ্যে গত ৮ এপ্রিল জান্নাত বেগম অফিসের কথা মত ৫ হাজার টাকা জামানত দেয় ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আঃ রহমান নোমানকে। কিন্তু টাকা রাখলেও অফিস থেকে কোন রশিদ দেওয়া হয়নি। কিছুদিন পর অফিস থেকে তার কাছে খাতাপত্র ও চক সিলেট দিয়ে আসলে তিনি নিজ বাড়িতে এলাকার শিশুদের নিয়ে ক্লাস করা শুরু করেন। তবে এযাবৎ কোন বেতন পাননি।

মামলা দায়েরের পর ৭ মে সোমবার রাতে ফেমাস বাংলার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আঃ রহমান নোমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৮ মে মঙ্গলবার সকালে পূর্বে আটককৃত কম্পিউটার অপারেটর কামরুল হাসান এবং ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আঃ রহমান নোমানকে ভোলা আদালতে প্রেরণ করা হয়।

লালমোহন লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সুপারভাইজার আক্তার জানান, তিনি ৭ হাজার টাকা জামানত দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন বেতন পাননি। একই ইউনিয়নের সুপারভাইজার মিজান এ সংস্থার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। মামলার ভয়ে এরকম আরো কয়েকজন সুপারভাইজার সংস্থা থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান। তবে এদের মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় গ্রামে গ্রামে।

গত দুই মাসে লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলাসহ ভোলায় ৬শ’ স্কুল গঠন ও শিক্ষকদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে এই টাকা ওই সংস্থার ঢাকা অফিসের একাউন্টে জমা করে নেয়া হয়েছে। ঢাকার গ্রিন প্লাজা ১৩/১৭, শান্তিনগর বাজার রোডে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে না জানিয়ে সংস্থাটি মার্চ মাস থেকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

সংস্থার ভোলা জেলার দায়িত্বরত ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর (ডিপিটি) আমান উল্লাহ মোবাইল ফোনে জানান, জানুয়ারি মাস থেকে জেলার ৭টি উপজেলায় কাজ শুরু হয়েছে। যার মধ্যে লালমোহন উপজেলায় ৩০০ এবং চরফ্যাশন উপজেলায় ২০০ শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্কুল চালু করা হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায় আরো ১০০ স্কুল করা হয়েছে। তাদের একটি ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের ঢাকার ভুলতা শাখায়। অনলাইনের মাধ্যমে ওই শাখায় ১১৪৭ নং একাউন্টে সব টাকা পাঠানো হয়। ওই ব্যাংকের মাধ্যমেই উত্তোলন হওয়া টাকা পাঠানো হয় মুল অফিসে।

ফেমাসের অনেক সদস্য নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, অফিস তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছে। কিন্তু কোন রশিদ দেয়নি।

লালমোহন পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের কলেজ ছাত্রী তাহমিনা জানান, তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তাহলে তাকে প্রতিমাসে ১৮ শত টাকা করে বেতন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু তাকে ৬ হাজার টাকার রশিদ না দিয়ে একটি সাদা কাগজে কেবল মাত্র ৪৯০০ টাকার কথা উল্লেখ করা হয়।


(আমাদের বরিশাল ডটকম/লালমোহন/জজ/তাপা)



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।