" />
AmaderBarisal.com Logo

ভয়াবহ ঘূর্নিঝড়ের ১ মাসঃ এখনো পূনর্বাসিত করা হয়নি ক্ষতিগ্রস্থদের


আমাদেরবরিশাল.কম

১৪ May ২০১২ Monday ২:২৮:৩৩ PM

লন্ড-ভন্ড বাড়িঘর

ভোলার মনপুরায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ড-ভন্ড হওয়া বাড়িঘর (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)

মাহবুবুল আলম শাহীন, মনপুরা :: ভোলার মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ও দ. সাকুচিয়া ইউনিয়নে ঘূর্নিঝড় আর শিলাবৃষ্টির ভয়াবহ তান্ডবের ১ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থদের পূনর্বাসিত করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্থ উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা নিজেদের উদ্যোগে পুনরায় জোড়াতালি দিয়ে বাড়িঘর দাড় করানোর চেষ্টা করলেও নিম্মবিত্ত গরীব অসহায় পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে, গাছের নিচে এবং ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মাঝে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। দূর্ভোগের এ চিত্র ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় নিজ চোখে না দেখলে বলে বুঝানো অসম্ভব। স্থানীয় ভূক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্থরা চাল-ডাল সহায়তা না দিয়ে জরুরী ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমান টিনের বরাদ্ধ প্রদানের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন।

গত ৯ এপ্রিল সোমবার বিকাল ৪ টা থেকে সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত শিলাবৃষ্টি আর ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত এই ৪ ঘন্টা বিরতিহীনভাবে চলা ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৫,৬,৭,৮ ও ৪নং ওয়ার্ড (আংশিক) এবং দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১,২,৩,৪,৫ এবং ৬নং (আংশিক) ওয়ার্ডের ব্যাপক ধবংসস্তুপে পরিণত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আর শিলাবৃষ্টির তান্ডবে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে সর্বমোট ২৯২১ টি ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার মধ্যে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে ১৪৮৫টি এবং উত্তর সাকুচিয়ায় ১৪৩৬ টি। তালিকার ৪৫৬টি ঘর সম্পূর্নরুপে এবং বাকি ২৪৫৬ টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৫০ মে. টন জি.আর চাল প্রথমে ৩ হাজার পরিবারকে ১০ কেজি করে এবং পরবর্তীতে এদের মধ্য থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ ২ হাজার পরিবারকে পুনরায় ১০ কেজি করে বিতরন করা হয়েছে। গৃহ নির্মান খাত থেকে ৪ লক্ষ টাকা এবং জি.আর ক্যাশ থেকে ২ লক্ষ টাকা উভয় ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত ছাউনি দিয়ে থাকার জন্য ২ হাজার পরিবারকে পলিথিন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেসরকারীভাবে এন.জি.ও প্রতিষ্ঠান মুসলিম এইড বাংলাদেশ ৩৫০ পরিবারকে ১ টি করে প্যাকেজ প্রদান করেছেন। প্রতি প্যাকেজে রয়েছে ১৫ কেজি চাল, ২ কেজি আটা, ১ কেজি লবন, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি ডাল ও ১ লিটার সয়াবিন তেল।

ব্যাক্তিগত উদ্যোগেও দিয়েছেন অনেকে। স্থানীয় আ’লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুল্যাহ আল ইসলাম জ্যাকব দিয়েছেন ৫ লক্ষ টাকা, বি.এন.পি দলীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আলম দিয়েছেন ৪ লক্ষ টাকা এবং চৌধূরী ফাউন্ডেশনও সমপরিমান টাকা বিতরন করেছেন। সরকারী, বেসরকারী এন.জি.ও এবং ব্যাক্তিগত উদ্যোগে এ পর্যন্ত যেসব সুবিধা ক্ষতিগ্রস্থদের দেওয়া হয়েছে তা তাদেরকে সাময়িক উপকার দিলেও পুরোপুরি পূনর্বাসনে সহায়তা করেনি।

সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এখনো ক্ষতিগ্রস্থ বহু পরিবারের ঘরগুলো আগের মতই দাড়িয়ে আছে। অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে করার চেষ্টা করেও কাজ কিছুটা করে টাকার অভাবে আর শেষ করে করতে পারেননি। বেশীরভাগ ক্ষতিগ্রস্থরাই এখনো ভাঙ্গা ধ্বংসস্তুপের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্থদের কয়েকজনের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, ‘আল্লায় সব লইয়া গ্যাছে। টাকার অভাবে খাইতেই পারিনা ঘর উঠামু ক্যামনে। সরকার টিনের ব্যবস্থা করলে খুব ভালো হইত।’

উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন বলেন, মানুষের যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা কখনোই পূরন হবার নয়। এখানকার মানুষের অসহায়ত্ব বড়ই করুন। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে সর্বত্মক সহযোগীতার চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মোঃ অহিদুল ইসলাম আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, সরকারীভাবে যা বরাদ্ধ এসেছে তা এরই মধ্যে আমরা বন্টন করে দিয়েছি। এছাড়া টিনের জন্য ত্রান ও দূর্যোগ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। এতে ৪ হাজার বান্ডেল টিন চাওয়া হয়েছে। আশা করি টিন বরাদ্ধ পাওয়া যাবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থদেরকে আগামী ২ মাস ভি.জি.এফ কার্ডের মাধ্যমে ৩০ কেজি করে চাল প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।


(আমাদের বরিশাল ডটকম/মনপুরা/মাআ/তাপা)



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।