" />
AmaderBarisal.com Logo

বরগুনায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে নির্যাতন


আমাদেরবরিশাল.কম

১৫ May ২০১২ Tuesday ৪:১৬:৫২ PM

বরগুনা, ১৫ মে (মনির হোসেন কামাল/আমাদের বরিশাল ডটকম): উচ্চারণে ভুল করার অপরাধে বরগুনা সদর উপজেলার লাকুরতলা বালক-বালিকা হেজবুল কোরআন মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী মরিয়ম (১২) নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ওই মাদ্রাসার শিক্ষিকা নিশাত ১ মে মঙ্গলবার তাকে বেধরক বেত্রাঘাতের পর থেকে বিনা চিকিৎসায় দু’সপ্তাহ আটকে রেখেছিলো বলে অভিযোগ করেছে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী। ১৫ মে মঙ্গলবার সকালে তাকে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অসুস্থ মরিয়ম জানায়, আরবি হরফের সঠিক উচ্চারণ করতে না পারায় শিক্ষিকা নিশাত আক্তার তাকে টেবিলের ওপর বসিয়ে উরু ও দুই কাধে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক বেত্রাঘাত করে। এরপর সে অসুস্থ্য গয়ে পরলে বিনা চিকিৎসায় অসুস্থাবস্থায়ই তাকে ওই মাদ্রাসায় আটকে রাখেন শিক্ষক নিশাত। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে তার বাইরে যাওয়ায় উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। এবং বিষয়টি যাতে সে অভিভাবকদের জানাতে না পারে সেজন্য মরিয়মের মুঠোফোনটিও জব্দ করে রাখেন ওই শিক্ষিকা।

ঘটনার তিনদিন পর মরিয়মের মা হাজেরা বেগম মেয়েকে দেখতে ওই মাদ্রাসায় যান। হাজেরা বেগম বলেন, মরিয়মের সহপাঠিরা বিষয়টি তাকে জানান। মাকে দেখে মরিয়ম কান্নায় ভেঙে পরে। এসময় তিনি শিক্ষক নিশাতের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে নিশাত প্রথমে দু’ তিনটি বেত্রাঘাতের কথা স্বীকার করলেও পরে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন। হাজেরা বেগম আরো বলেন, মেয়েকে আনতে চাইলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাঁধা দেন। নিরুপায় হয়ে আমি ওই দিনই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ কিনে দেই। কিন্তু ১৪ দিনেও মরিয়ম সুস্থ না হওয়ায় ১৫ মে মঙ্গলবার তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসা হলে নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হয়। হাজেরা বেগম আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষক নিশাত ও তার স্বামী হালিম মিয়া এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন।

মরিয়মের চিকিৎসক আলহাজ্ব খলিলুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, ‘মরিয়মকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তার উরু ও দুই কাধে এখনো বেত্রাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

মাদ্রাসার শিক্ষক নিশাতের সাথে কথা বলা না গেলেও তার স্বামী আবদুল হালিম মিয়া স্ত্রীর অপরাধ স্বীকার করে বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মারধর করা উচিত হয়নি। তবে অর্ধশতাধিক বেত্রাঘাত করা হয়নি।’

মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. নুরুল আমিন মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি শোনার পর আমি মরিয়মের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবককে পরামর্শ দিয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।


(আমাদের বরিশাল ডটকম/বরগুনা/মহো/তাপা)



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।