![]() বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালঃ চাঁদার হাত বদল! সক্রিয় হিরনপন্থী চাঁদাবাজরা
১৫ February ২০১১ Tuesday ৭:২৪:১৭ PM
![]() নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০,০০০ টাকা চাঁদা আদায় করছে মেয়র হিরন অনুসারীরা বরিশালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আগে চাঁদা নিত জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে এর সভাপতি ও মহানগর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আফতাব হোসেন। গত ১ ফেব্রুয়ারী টার্মিনালে র্যাব-পুলিশের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের পর থেকে আফতাব ও তার সহযোগি শ্রমিকরা আত্মগোপনে রয়েছে। কিন্তু চাঁদা আদায় বন্ধ হয়নি। বরং চাঁদার আওতা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পরিমান বেড়েছে। এখন চাঁদা আদায় করছেন টার্মিনালের বর্তমান নিয়ন্ত্রনকারী মেয়র শওকত হোসেন হিরনের আশির্বাদপুষ্ট ২৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক কামাল সরদার ওরফে ফাঁসি কামাল। তাদের পক্ষে সরেজমিন চাঁদা উত্তোলন করছে মাসুদ, মোক্তার ও স্বপন। সবকিছু নিয়ন্ত্রন করছেন মেয়র শওকত হোসেন হিরনের আপন ছোট ভাই মামুন এবং তার ঘনিষ্ঠ অনুসারী ২৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর ফরিদউদ্দিন সরদার। টার্মিনালের একাধিক সূত্র জানান, আগে চাঁদার টাকা কোথায় যেতো তা বেশীরভাগ শ্রমিক জানেন না। এসব বিষয়ে তারা কখনো খোঁজ নেয়ারও সাহস পায়নি। কিন্তু তার পরও একটা নিয়ম শৃঙ্খলা ছিলো বলে দাবী কাউন্টার স্টাফদের। এখন একেকসময় একেকজন এসে চাঁদা দাবী করছে ও দুর্ব্যবহার করে টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছে। কখনো কখনো দিনে ২-৩ বার চাঁদাও দিতে হচ্ছে। কিন্তু কেউই মেয়রের ও সন্ত্রাসী ফাঁসি কামালের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন শ্রমিক জানান, আগে বাসের চাঁদা শ্রমিক ইউনিয়নের কেরানীর কাছে অফিসে গিয়ে জমা দেয়া হতো। এখন কোন শৃঙ্খলা নেই, রাস্তায় বাস থামিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে টাকা নেয়। বরিশাল-কাওড়াকান্দি রুটে অবৈধভাবে চলা প্রতিটি মাইক্রোবাস থেকে ৪শ’ ও ৫শ’ (যথাক্রমে ১০ সিট ও ১৬ সিট) হারে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষে চাঁদা আদায় করছে জনৈক মোক্তার। আর বরিশাল থেকে দুরপাল্লা রুটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে প্রতিটি বাস থেকে ১২০ টাকা হারে টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা কামাল সরদার ওরফে ফাঁসি কামালের পক্ষে চাঁদা আদায় করছে জনৈক মাসুদ। বাস এবং মাইক্রোবাস থেকে চাঁদা আদায়ের সত্যতা স্বীকার করলেও নিজেরা এর (চাঁদা) কোন ভাগ নেন না দাবী করে জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ফাঁসি কামাল বলেন, একটা শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এতে সমস্যা হচ্ছে। মারামারি হোক আর যা-ই হোক অচিরেই এই চাঁদা আদায়ের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়া হবে বলে তারা দাবী করেন। সংশ্লিস্টদের দেয়া হিসেব অনুযায়ী বরিশাল থেকে প্রতিদিন কাওড়াকান্দির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় অন্তত ২০ ট্রিপ মাইক্রোবাস। সে হিসেবে এই অবৈধ মাইক্রোবাস থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা, অর্থাৎ মাসে ৩ লাখ। আগে এই চাঁদা নিতেন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আফতাব হোসেনে প্রধান সহযোগি শহীদ হোসেন ওরফে জামাই শহীদ। টার্মিনালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি ২৪ ঘন্টায় পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, ভোলা ও বরিশাল থেকে দুরপাল্লা রুটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ১২০ থেকে দেড়শ’ ট্রিপ বাস। নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় টার্মিনাল অতিক্রমকালে এসব বাস থেকে ১২০ টাকা হারে আগে চাঁদা আদায় হতো শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আফতাব হোসেন নামে। সে হিসেবে প্রতিদিন আদায় হতো ১৫ হাজার ৬শ’ টাকা, মাসে প্রায় পৌঁনে ৫ লাখ টাকা। আফতাবের আত্মগোপানের সুযোগে বর্তমানে এই চাঁদা আদায় করছেন মেয়র শওকত হোসেন হিরনের আশির্বাদপুষ্ট টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক কামাল সরদার ওরফে ফাঁসি কামাল। চাঁদা আদায়ের সত্যতা স্বীকার করে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল ফকির বলেন, ইউনিয়নের সভাপতি আফতাব হোসেন কিংবা শহীদ কোন কোন জায়গা থেকে কত টাকা করে নিতেন তা তিনি জানেন না। তবে ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ২২শ’ শ্রমিকের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫ টাকা হারে আদায়কৃত চাঁদা দিয়ে মাস শেষে ৭০ জন বয়স্ক শ্রমিককে ভাতা প্রদান এবং ইউনিয়নের কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করা হত। আর এখন সব টাকাই মেয়র শওকত হোসেন হিরন ও তার অনুসারীরা আত্মসাত করছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমানে চাঁদা আদায়কারী ফাঁসি কামাল জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য নয়, তিনি টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা। সে কিভাবে চাঁদা আদায় করছে তা তাদের বোধগম্য নয়। পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে থাকা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল ফকির বলেন, পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের কোন এখতিয়ার ফাঁসি কামালের নেই। শিঘ্রই টার্মিনালে ফিরে প্রশাসনের সহায়তায় এই চাঁদাবাজী বন্ধে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি। জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য না হলেও নিজেকে আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের আদর্শে আদর্শিত দাবী করে কামাল সরদার ওরফে ফাঁসি কামাল বলেন, মূলতঃ চাঁদা উঠায় পরিবহন মালিক সমিতি, সেখানে শ্রমিকদের অংশও থাকতো। কিন্তু ১ ফেব্রুয়ারী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকে মালিক সমিতি শ্রমিকদের চাঁদা উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। এই সুযোগে কেউ চাঁদা নিয়ে আত্মসাৎ করতে পারে আশঙ্কায় তিনি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য মাসুদ ও মোক্তারকে চাঁদা উত্তোলনের দায়িত্ব দিয়েছেন। ওই টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল তালুকদারের কাছে জমা রাখা হচ্ছে। পরে শ্রমিকরা ফিরে এলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। নিজে টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, কিন্তু কি করে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা আদায় করছেন জানতে চাইলে কামাল সরদার বলেন, আসলে আমরা একই জায়গায় সামনা-সামনি থাকি। একে অপরের বিপদে আপদে ঝাঁপিয়ে পরি। শ্রমিক নেতারা টার্মিনালে নেই বিধায় তিনি ওই চাঁদা আদায়ের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানান। মাইক্রোবাসের চাঁদা নিয়ন্ত্রনকারী ২৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মেয়র হিরন অনুসারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আগে এক একটি মাইক্রোবাস থেকে ১ হাজার থেকে ১৬ শ’ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হতো। ১ ফেব্রুয়ারীর পর ২ দিন চাঁদা আদায় বন্ধ ছিলো। কিন্তু দেখা গেছে শ্রমিকদের নামে বহিরাগতরা চাঁদা আদায় করে। এ অবস্থায় সভা করে প্রতিটি মাইক্রোবাস থেকে ১শ’ টাকা করে চাঁদা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই চাঁদা দিয়ে সিরিয়াল পরিচালনাকারীদের বেতন দেয়া হয়। কিন্তু তার পরও বহিরাগতরা চাঁদা নিচ্ছে। অথচ জিজ্ঞাসা করলে মাইক্রো চালকরা স্বীকার করেনা। এ অবস্থায় চাঁদা নেয়ার প্রথা বাতিল করবেন বলে ভাবছেন। সে ক্ষেত্রে মারামারি হলেও তাদের কিছু করার নেই বলে তিনি দাবী করেন। এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ডাঃ আব্দুর রহিম বলেন, আগের চেয়ে নথুল্লাবাদ টার্মিনাল থেকে যে কোন গন্তব্যের ভাড়া কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই চাঁদাবাজী থাকার কথা নয়। সেখানে আগে কে চাঁদা নিতো কিংবা এখন কে বা কারা চাঁদা নেয় তা তিনি জানেন না। এ বিষয়ে সু-নির্দ্দিস্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারী নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে র্যাব-পুলিশের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের শ্রমিকদের অনেকেই সেদিনের পুলিশ-শ্রমিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাকে বিসিসি মেয়র হিরনের পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করেন। সংঘর্ষের পর পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান টার্মিনালের নিয়ন্ত্রক জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মহানগর শ্রমিক লীগ নেতা আফতাব হোসেন, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কামাল ফকির, ফারুক হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক শাহ আলম ফকির, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, শহীদ ওরফে জামাই শহীদসহ অন্যান্যরা। এই সুযোগে পরদিন ২ ফেব্রুয়ারী টার্মিনালের নিয়ন্ত্রন নেয় টার্মিনাল সংলগ্ন কয়েকটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের আফতাব বিরোধী নেতারা। বিশেষ করে মেয়র শওকত হোসেন হিরন অনুসারী ২৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদউদ্দিন সরদার, ২৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক কামাল সরদার নিয়ন্ত্রনে নেয় সব। কাউন্সিলর ফরিদউদ্দিন সরাসরি বিতর্কে না জড়ালেও মেয়রের ঘনিস্ট অপর দুই জন বর্তমানে নিয়ন্ত্রন করছেন টার্মিনালের চাঁদাবাজী। – সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

