![]() আমতলীতে গায়েরী সেতুর বাঁশের সাঁকোকে লোহার সেতু দেখিয়ে সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন ও দরপত্র আহবান, অবশেষে বাতিলের জন্য চিঠি
১ September ২০২০ Tuesday ৮:৩৯:০১ PM
জাকির হোসেন,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ ![]() মোটা অংকের অংর্থের বিনিময়ে গায়েরী বাঁশের সেতুকে লোহার সেতু দেখিয়ে প্রাক্কলন করে লোহার সেতু মেরামতের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আর এ দরপত্র আহবানের অভিযোগ উঠেছে বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফোরকান আহম্মেদ খানের বিরুদ্ধে। খাল নেই, সেতুও নেই, রয়েছে বাঁশের সাঁকো। আমতলীর ওই বাঁশের সাঁকোকে লোহার সেতু দেখিয়ে মেরামতের প্রাক্কলন তৈরি করে দরপত্র আহবান করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। ওই দরপত্র বাতিলপূর্বক সরেজমিনে সার্ভে করে পুনরায় প্রাক্কলন তৈরির দাবী জানিয়েছেন ঠিকাদাররা। গায়েরী সেতু নিয়ে এই খবরে এলাকার মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ জানাগেছে, বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০২০-২১ অর্থ বছরে আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় ওটিএম পদ্ধতিতে গত ২৮ জুলাই ৮ টি প্যাকেজে ৩৩টি লোহার সেতু মেরামতের জন্য দরপত্র আহবান করে। যার প্রাক্কলন ব্যয় দরপত্রে উল্লেখ নেই। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ওই দরপত্রে অংশ গ্রহনের শেষ দিন। ওই দরপত্র নোটিশ প্রকাশিত হওয়ার পর বেড়িয়ে আসে অনিয়মের আসল চিত্র। ৩৩ টি সেতুর মধ্যে ২৫ টি আমতলী উপজেলার হলদিয়া, গুলিশাখালী ও আমতলী সদর ইউনিয়নে এবং ৮ টি সেতু তালতলী উপজেলায়। ওই দরপত্রের নোটিশে উল্লেখ আছে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়া খালের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সামনে লোহার সেতু। অপর দিকে একই স্কুলের সামনে একই সেতু নাশবুনিয়া খালে দেখানো হয়েছে। দৃশ্যত নাশবুনিয়া নামে কোন খাল নেই। দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের শেলিম খান ও আবদুল গনি গাজী বলেন, নাশবুনিয়া নামে হলদিয়া ইউনিয়নে কোন খাল নেই। একই ইউনিয়নের তুজির বাজার ও রামজির বাজারে নামক স্থানে দুইটি সেতু মেরামতের কথা উল্লেখ রয়েছে ওই নোটিশে। কিন্তু তুজির বাজার ও রামজির বাজারের সামনের হলদিয়া খালে কোন সেতু নেই। ওই দুই বাজারের খালে রয়েছে বাঁশের সাঁকো। এলাহিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে এবং দক্ষিণ রাওঘা কেরাতুল কোরান মাদ্রাসার সামনে সেতু মেরামত দেখানো হয়েছে কিন্তু ওই দুই মাদ্রাসার সামনের খালে কোন সেতু নেই। ওখানেও রয়েছে বাঁশের সাঁকো। বাঁশের সাঁকো দিয়ে বর্তমানে মানুষ পারাপার হচ্ছে। বিশ^স্থ একটি সুত্রে জানাগেছে, তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হলদিয়া ইউনিয়নে ছয়টি সেতুর দরপত্র আহবান করেছিল। কিন্তু ঠিকাদার একটি সেতু নির্মাণ করে বাকী পাঁচটি সেতু নির্মাণ না করে এলজিইডির কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে কাগজে কলমে নির্মাণ দেখিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে ওই সেতু ছয়টির নামে মেরামত দেখিয়ে দরপত্র আহবান করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। আমতলী হলদিয়া ইউনিয়নের রামজির বাজারের ইদ্রিস হাওলাদার, তুজির বাজারের রাজ্জাক মোল্লা বলেন, জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত তুজির বাজার ও রামজির বাজারে কোন সেতু দেখি নাই। এখন শুনছি ওই খানে ১২ বছর আগে সেতু হয়েছিল। তাহলে সেতুগুলো গেল কোথায়? এমন অনিয়মের সাথে যারা জড়িত তাদের শাস্তি দাবী করছি। একই চিত্র গুলিশাখালী ও আমতলী সদর ইউনিয়নে। গুলিশাখালী ইউনিয়নের একই সড়কে ৬টি সেতু মেরামত দেখানো হয়েছে। যার কোন ভিত্তি নেই এ কথা বলেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফোরকান আহম্মেদ খান মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ওই ৩৩টি ব্রীজ এলাকা সরেজমিনে সার্ভে না করেই প্রভাবশালী ঠিকাদারের লোকজন দিয়ে গায়েরী ব্রীজের পুঃনস্থাপনের প্রাক্কলন তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এছাড়া ওই ৩৩ টি সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

