![]() একজন শেখ হাসিনা, পদ্মা সেতু এবং আমার বরিশাল যাওয়ার গল্প…
১৩ December ২০২০ Sunday ১১:২৫:২৮ PM
জসিম মল্লিক, ![]() বরিশাল যেতে একসময় কত ঝক্কি না পোহাতে হতো। একটা ঘটনা বলি। সেটা ১৯৯৪ সাল। একবার ঈদে আমার ছোট ছোট দুই বাচ্চা নিয়ে বরিশাল রওনা হয়েছি। সদরঘাট পর্যন্ত আসতেই অবস্থা কেরোসিন। টু স্ট্রোক অটো রিক্সা ছিল তখন। তার ভট ভট আওয়াজ আর বিকট ধোঁয়ায় অর্ক বমি করে অস্থির। অর্কর বয়স তখন তিন বছর। মহাখালি থেকে লঞ্চঘাট পৌঁছাতেই সেদিন লেগেছিল তিন ঘন্টা। সদরঘাট পৌঁছে দেখি ভয়াবহ অবস্থা। মানুষের মাথা ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। এদিকে, লঞ্চগুলো মানুষের চাপ এড়াতে নদীর মাঝখানে নোঙ্গর করে রেখেছে। সেখানে পৌঁছানোও বিরাট ঝুঁকি। আমি বললাম, জেসমিন চলো ফিরে যাই। জেসমিন দুঃখিত কন্ঠে বলল, এতো কষ্ট করে এসেছি ফিরে যাবো! বরিশালে ঈদ করা হবে না! দেখোনা কিছু করা যায় কিনা। আমরা অবশেষে একটা ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকায় উঠলাম। হুর হুর করে আরও কয়েকজন উঠে পড়লো। নদীর মাঝখানে গিয়ে নৌকা দুলছে মানুষের চাপে। যে কোনও সময় ডুবে যাবে! মনে হচ্ছিল আজই সলিল সমাধি ঘটবে। জেসমিন ভয়ে চিৎকার করছে। এদিকে, ঘাটেই কুলিদের টানাটানিতে একটা বাক্স খুলে কাপড় চোপড় ছয়লাব হয়ে গেছে। এমন সময় আমাদের বিপদ দেখে কোষ্ট গার্ডের একজন তরুণ অফিসার ছুটে আসলো ইঞ্জিন বোট নিয়ে। আমাদের রক্ষা করল এবং লঞ্চে উঠিয়ে দিল। সেই অফিসারের কথা আজও মনে পড়ে। এরপর থেকে সবসময় রকেট স্টিমারে বরিশাল যাওয়া শুরু করলাম। এক সময় দিনে স্টিমার সার্ভিস ছিল। অপূর্ব ছিল সেই জার্নি। সকাল ১১টায় সদরঘাট থেকে ছাড়তো আর সন্ধ্যা ছয়টায় বরিশাল পৌঁছত। তারপর দিনের সার্ভিস হয়ে গেলো রাতে। কেনো হলো কে জানে। সন্ধ্যা ছয়টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে সকাল ছয়টায় বরিশাল পৌঁছে যায়। বারো ঘন্টার জর্নি । সদরঘাট পর্যন্ত পৌঁছানোর ঝক্কিতো আছেই। আবার বরিশাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টায় ছেড়ে সকাল ছয়টায় ঢাকা পৌঁছায়। ঢাকা-বরিশাল জার্নি করা যেনো এক যুদ্ধ এবং ব্যয়বহুল। শুধু তাই না, যারা প্রথম শ্রেণিতে জার্নি করতে চান তাদের জন্য টিকিট পাওয়া আকাশের চাঁদ পাওয়ার সমান। মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিসির অফিস ছিল। সেখান থেকে ফার্ষ্টক্লাসের টিকিট কিনতে হয়।
আমি চারতলায় চেয়ারম্যান সাহেবের রুমে গেলাম। প্রথমে আমাকে তার পিএ পাত্তাই দিল না। আমার দিকে তাকাচ্ছেনা পর্যন্ত। টাইপ রাইটারে টাইপ করছে আর কথা বলছে, এতে কাজ হলো। একটু পরই চেয়ারম্যান সাহেব তার রুমে ডাকলেন আমাকে। বসতে বললেন। চা অফার করলেন, কিচু খাজুরে গল্পও হলো এবং ইন্টারকমে আলাউদ্দিনকে ফোন করে বললেন, টিকিট দিতে। সেই থেকে আর কখনো টিকেটের সমস্যা হয়নি। আমি মাঝে মাঝে আলাউদ্দিনকে টাকা সাহায্য করতাম। তার স্ত্রী ছিল চির অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য দিতাম। লঞ্চের টিকিট পাওয়াও ছিল এক কঠিন কাজ। আজও। সব বড় সাহেবদের জন্য রিজার্ভ থাকে ভিআইপি কেবিনগুলো। এখানেও কোটা। লঞ্চ মালিকদের আমি কাউকে চিনি না। একবার ঢাকা থেকে বরিশাল যাচ্ছি প্লেনে। আমার পাশের সীটে বসেছে সুরভি লঞ্চ মালিকের ছেলে। তিনি বললেন, যখনই কেবিনের দরকার হবে ফোন দেবেন। আমার দরকার হয়নি অবশ্য। লঞ্চের সেই অভিজ্ঞার পর আমি লঞ্চে খুব একটা জার্নি করি না। কখনো করলেও বরিশালে আমার বন্ধু রুপক বা পান্না টিকিটের ব্যবস্থা করে দেয়। কানাডা আসার পরও আমি বরিশাল যাই প্রতিবছর এক দুই বার। বেশিরভাগই প্লেনে যাই। বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছে। শেখ হাসিনা সরকার পুরো দেশকে এক সুতোয় বাঁধতে চাইছেন। একটা সমন্বিত নেটওয়ার্ক তৈরি করায় মনোনিবেশ করেছেন। কে না জানে যে একটা দেশের উন্নতি বা অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি অনেকটাই নির্ভর করে সে দেশের সুষ্ঠ যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর। তাইতো উন্নত দেশগুলোর প্রথম নজর থাকে যোগাযোগের উপর। আমেরিকা, কানাডার মতো দেশগুলো রাস্তাঘাট তৈরী করে পরবর্তী দুইশত বছরের চিন্তা মাথায় রেখে। কানাডা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কিন্তু মানুষ মাত্র তিন কোটি স্ত্তুর লাখ। কিন্তু পুরো দেশ জুড়ে সুতোর মতো নেটওয়ার্ক। কানাডায় যত রাস্তা আছে তা একত্র করলে চাঁদে যাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ সরকার কয়েক দফায় ক্ষমতায় থাকার সুফল জনগন পেতে শুরু করেছে। তার উৎকৃষ্ট উদাহরন পদ্মা সেতু। স্বপ্নের পদ্মা সেতু। অনেক চ্যালেঞ্জের পদ্মা সেতু। শেখ হাসিনাকে স্যালুট জানাই। তার দৃঢ়চেতা মনোবলের কারণেই পদ্মা সেতু আজ বাস্তব রুপ পেতে চলেছে। পদ্মা সেতু যখনই চালু হোক না কেনো ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়া যাবে মাত্র তিন ঘন্টায়। ভাবা যায়!
আমি বরিশাল চলে যাব পদ্মা সেতু দিয়ে। এমনকি আমি নিজ ড্রাইভ করেও চলে যেতে পারি। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার পার হলে হয়ে পোস্তগোলা থেকে এক্সপ্রেসওয়ে ধরব আমি। চার লেনের চমৎকার এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে কনভার্টেবল গাড়ি চালিয়ে তিন ঘন্টায় পৌঁছে যাব বরিশাল। পাশে বসে থাকবে আমার প্রেমিকা। বাতাসে চুল উড়বে তার। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখব।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

