![]() ভান্ডারিয়ায় ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসন্তোষ
২৫ May ২০২২ Wednesday ৭:১৫:১৩ PM
ভান্ডারিয়া(পিরোজপুর) প্রতিনিধি : ![]() “বীর নিবাস” নির্মাণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড।মঙ্গলবার সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আয়োজনে উপজেলা অডিটরিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এক পরিচিতি সভায় যোদ্ধারা এ অসন্তোষ প্রকাশসহ নানান অভিযোগ করেন। সভায় মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খান এনায়েত করিমের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযোদ্ধা এবং পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা বাচ্ছু হাওলাদার, মুক্তিযোদ্ধা এবং ঢাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার তালুকদার সরোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশিদ খশরু জোমাদ্দার, মুক্তিযোদ্ধা আলী বাহাদুর খান, মো. সেলিম পঞ্চায়েত, বজলুর রশিদ মৃধা, আব্দুল কাদের মুন্সি, রমেন দত্ত, মো. হাবিবুর রহমান, মানিক সিকদার, মো. শাহাবুদ্দিন, সন্তান কমান্ডের শিমুল রেজা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান অনামিকা রায়, হাসান মুন্সি, মো. মাছুম হাওলাদার ও শাহাদাত খলিফা প্রমুখ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক সিকদার, জাতীয় পার্টি-জেপির উপজেলা যুগ্ম-আহবায়ক ও পৌর কাউন্সিলর মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার , থানার ওসি তদন্ত মো. মেহেদী হাসান এবং পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা। সভায় বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে শেষ জীবনে একটি শান্তির আশ্রয়ের জন্য সরকার “বীর নিবাস” নামে একটি ঘর প্রদান করেছে। সে সকল ঘরের নির্মাণ কাজের প্রক্রীয়া শুরুর ৩/৬ মাস, কোনটার এক বছর আবার কোনটার দেড় থেকে দুই বছর হলেও এখন পর্যন্ত কোন ঘর থাকার উপযোগী করে নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। যে কয়টির কাজ শুরু বা অর্ধেক কাজ হয়েছে তার মানও খারাপ। ভুক্তভোগীরা নির্মাণসামগ্রীর মানের বিষয়ে কথা বললে ঠিকাদার বলেন, বেশি কথা বললে কাজ করবো না বলেও সভায় অভিযোগ করেন অনেক বীর নিবাসপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। এই ঘরের ডিজাইন সহ সংশ্লিষ্ট পরিপত্রের একটি সেট প্রতি ঘর মালিকদের সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা তাদের দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে পদাধীকারবলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি পদে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে চাইলে তিনি সমাজসেবা অফিস থেকে সরবরাহ করার কথা বললে সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, আপনারা অনলাইন থেকে বের করে নেন! একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি এ ধরনের আচরণ স্বাধীন দেশে কাম্য কিনা সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন যোদ্ধারা! তারা আরো অভিযোগ করে আরো বলেন, দুঃখের বিষয় হলো সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত ঘরের কখন টেন্ডার হয়, কখন লটারী হয় তাতো জানেই না মুক্তিযোদ্ধারা। তারপর এ কাজ জেলা, উপজেলার পর তিন হাত পার হয়ে চতুর্থ দফায় প্রাপ্ত ঠিকাদার সে ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু করে। ঠিকাদাররা কাজ শুরু করার পরে যার অনুকূলে ঘর বরাদ্দ তাকে বা তার পরিবারকে এক শ্রেণির অসাধু ঠিকাদার বলেন, এটি মজবুত করে করতে হলে আপনাদের কিছু সিমেন্ট বা বালু বা লেবারদের খাওয়াতে হবে। যারা তা মানতে পারে তাদের কাজ দ্রুত হয় আর যারা মানতে না পারে তাদের কাজ পড়ে থাকে। যেটা স্বাধীন দেশে কাম্য নয়। প্রায় আড়াই ঘন্টাব্যপি আলোচনা সভায় বক্তারা দাবি জানান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচরে আনার জন্য স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধা সংশ্লিষ্ট বিষয়ক যে কোন সিদ্ধান্তে স্থানীয় পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের সম্পৃক্ততা এবং বীর নিবাস গড়তে ঠিকাদার নয় বাংলাদেশ সেনাবাহীনির সদস্যদের মাধ্যমে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য আহবান জানান। পরে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক কাজ তদারকি করার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

