Current Bangladesh Time
Tuesday June ২৫, ২০২৪ ২:১০ PM
Barisal News
Latest News
Home » কলাপাড়া » পটুয়াখালী » ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডব:সব হারিয়ে নিঃস্ব কলাপাড়ার দুই চরের বাসিন্দারা
২৯ May ২০২৪ Wednesday ১:৩৫:২৬ AM
Print this E-mail this

ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডব:সব হারিয়ে নিঃস্ব কলাপাড়ার দুই চরের বাসিন্দারা


কলাপাড়া ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

কারও ঘর নেই, কারও রান্না করার চুলা নেই। এক বেলা খাবে, সে পরিস্থিতিও নেই অনেকের। আবার কারও জাল-নৌকা জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। প্রায় পরিবারেরই হাঁস-মুরগি মারা গেছে। ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে মেঠো পথ। এর ফলে মানুষের স্বাভাবিকভাবে চলাচলেও বাধা তৈরি হয়েছে। জোয়ারের পানি না নামায় এখনো থইথই করছে পুরো গ্রাম। ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সাগরপাড়ের জনপদ কাউয়ার চর ও চর গঙ্গামতি এলাকা এভাবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত কাউয়ার চর ও চর গঙ্গামতি গ্রামের মানুষের বেশির ভাগই জেলে। আবার কেউ কেউ দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কেউ জীবিকা নির্বাহের জন্য হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন করেন। কারও রয়েছে মাছ চাষের পুকুর ও ঘের। গ্রাম দুটির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রিমাল তাঁদের আয়ের সব পথ একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রিমালের তাণ্ডবে উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদের গ্রাম কাউয়ার চর ও চর গঙ্গামতির বাসিন্দাদের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। এত ক্ষতি হওয়ার কারণ কী, এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে গ্রাম দুটির অবস্থান হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের কারণে এমন ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দুটি চরের কিছু ঘর, স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে। আবার কিছু ঘরের চাল উড়ে গেছে। পুকুর-মাছের ঘের জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বের হয়ে গেছে চাষের মাছ। চরের বাসিন্দারা বিশুদ্ধ খাবার পানি নিয়ে বড় সংকটে পড়েছেন। চর দুটির অনেক টিউবওয়েলই জোয়ারের পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

কাউয়ার চর এলাকার ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, কাউয়ার চর এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরের পাশে গভীর নলকূপ ছিল ২৭টি। অগভীর নলকূপ ছিল ৩৫০টি। এসবের মধ্যে তিনটি গভীর নলকূপ ও ১৪৫টি অগভীর নলকূপ জোয়ারের পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। চর গঙ্গামতি এলাকার ইউপি সদস্য মো. সিদ্দিক হাওলাদার জানান, চর গঙ্গামতি এলাকার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরের দিকে গভীর নলকূপ ছিল ১৮টি। শ্যালো টিউবওয়েল ছিল ৪০০টি। এর মধ্যে ১৭টি গভীর নলকূপ এবং ৪০০টি শ্যালো টিউবওয়েল জোয়ারের পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

রাবেয়া বেগম নামের একজন বলেন, ‘ঝড়ের পর আমরা বাড়িঘরে ফিরছি ঠিকই, তয় বড় ভোগান্তিতে আমরা আছি। এমনিতেই আমাগো ঘর-দুয়ার সব শ্যাষ হইয়া গ্যাছে, কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারি নাই। অ্যাহন আমরা খাওয়ার পানি লইয়া সবচাইতে বেশি বিপদে পড়ছি। এর কারণ হইলো, আমাগো এই গ্রামের অনেক টিউবয়েলই নষ্ট হইয়া গ্যাছে। আমরা খাদ্যসংকটেও আছি, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির সংকটেও আছি। আমরা খাবারও চাই, বিশুদ্ধ পানিও চাই।’

শুধু খাওয়ার পানির সংকটই নয়। ঘূর্ণিঝড়ে দুটি চরের বাসিন্দাদের হাঁস-মুরগি, ছাগল, গবাদিপশু মারা পড়েছে। নষ্ট হয়েছে বসতঘরের মালামাল। কাউয়ার চরের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ‘ঝড়ের খবর হুইন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়া উঠছি। আর কোনো দিকে খেয়াল করতে পারি নাই। জোয়ারের পানিতে আমার ঘরের মালপত্র ভাইস্যা গ্যাছে। দুইডা ছাগল পালতাম। হেই দুইডাও জোয়ারের পানিতে পইড়্যা মরছে।’

ঝড়ের পরে চরের বাসিন্দাদের অনেকেই সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এর মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। ইব্রাহিম হাওলাদার নামে একজন জানান, তাঁর চার বছরের শিশু তাওহীদ ও পাঁচ মাস বয়সের শিশু তানভির দুই দিন ধরে জ্বরে ভুগছে। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় জোয়ারের পানিতে ভিজে তাঁর দুই শিশুপুত্রের ঠান্ডা লেগেছে। এ রকম আরও অনেক শিশু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বাংলাদেশকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে সেমিতে আফগানিস্তান
বঙ্গবন্ধুর চোখে শামসুল হক
আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ
বরিশালে মেয়েকে গলা কেটে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা 
উন্নয়নে যারা সহযোগিতা করবে তাদের নিয়েই চলবো: শেখ হাসিনা
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com