" />
AmaderBarisal.com Logo

পটুয়াখালীতে বসবাসের অনুপযোগী আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো, নেই মেরামতের উদ্যোগ


আমাদেরবরিশাল.কম

১৪ July ২০২৫ Monday ৬:২২:১৪ PM

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর ক্ষতিগ্রস্ত ও হতদরিদ্রদের জন্য নির্মিত পটুয়াখালীর আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো বর্তমানে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আশ্রিতরা জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করলেও এসব ঘরের সংস্কারে নেয়া হয়নি কোনো কার্যকর উদ্যোগ। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে প্রকল্প ছেড়ে চলে গেছে অন্যত্র। যারা এখনো সেখানে বসবাস করছেন, তারা প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরের তাণ্ডবে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাণ হারান ৬৭৭ জন মানুষ। ধ্বংস হয়ে যায় প্রায় ৫৫ হাজার ঘরবাড়ি এবং ৯০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও রাস্তাঘাট। বিশেষ করে জেলার মির্জাগঞ্জের চরখালী-গোলখালী, লোহালিয়া, পায়রাগঞ্জ, লাউকাঠী এলাকা ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মাণ করা হয় আশ্রয়ণ প্রকল্প।


সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের এমনই এক আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়েছিলেন রাসিদা বেগম। ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে ১৭ বছর আগে তিনি তার পরিবার নিয়ে সেখানে আশ্রয় নেন। প্রথমদিকে নিরাপদে বসবাসের স্বপ্ন ছিল, তবে মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় সেই ঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর কখনো ছাউনিতে তালি দিয়ে, কখনো কাঠামো মেরামত করে কোনোরকমভাবে পার করেছেন ১৭টি বছর। এখন আর সে ঘরে বাস করার মতো অবস্থা নেই।

রাসিদা বেগমের মতো একই দুর্দশায় পড়েছেন আউলিয়াপুর আশ্রয়ণে বসবাসকারী আরো ৭৯টি পরিবারের সদস্যরা। ঘরগুলো অধিকাংশই ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। নেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, নেই পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। গোরস্থানের অভাবে আশ্রয়ণের ভিতর কেউ মারা গেলে দাফন করতেও হয় ভোগান্তিতে। বর্ষার ছয় মাস ঘরের ভিটা তলিয়ে থাকে জোয়ারের পানিতে, ছাদ দিয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি। এসব কষ্টে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

আউলিয়াপুর ছাড়াও জেলার অর্ধশতাধিক আশ্রয়ণ প্রকল্পে একই অবস্থা বিরাজ করছে। এসব প্রকল্পের অধিকাংশই জরাজীর্ণ, বসবাসের অনুপযোগী, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক সুবিধাবঞ্চিত। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বাড়ছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত আরা জাহান উর্মি বলেন, নির্মাণের পর থেকে আমরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করে আসছি। তবে দীর্ঘদিন আগে নির্মিত এই ঘরগুলো এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। আমরা খুব শীঘ্রই এসব সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেব।


উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলায় ১ হাজার ৪৪৪টি আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত হয়েছে ৯ হাজার ১২৩টি ব্যারাক হাউজ। যেখানে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার পরিবার বসবাস করছে।


তবে বাস্তবতা হলো ঘর থাকলেও সেখানে বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস, স্বাস্থ্য ঝুঁকি, পানিবন্দি অবস্থা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে মানুষ বেঁচে থাকলেও নেই কোনো মানসম্মত জীবনযাত্রা। দ্রুত আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর সংস্কার ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যথায় সরকারপ্রদত্ত আশ্রয় শুধু এক সময়ের সহানুভূতির নিদর্শন হয়ে থাকবে, বাস্তব সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।