বাউফলে মৎস্যজীবী দল নেতার বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ
আমাদেরবরিশাল.কম
১৪ September ২০২৫ Sunday ৫:৫২:৫৭ PM
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় মো. হারুন হাওলাদার (৪৫) নামে এক মৎস্যজীবী দল নেতার বিরুদ্ধে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই গৃহবধু আদালতে অভিযোগ দিলে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বাউফল থানার ওসিকে মামলা রুজু করার আদেশ দেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন । দলীও সুত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হারুন হাওলাদার উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূর স্বামী একজন জেলে। মাছ শিকারের জন্য বেশিভাগ সময় রাতে নদীতে থাকেন। এই সুযোগে মৎস্যজীবী দল নেতা হারুন হাওলাদার ওই গৃহবধূকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গৃহবধূ ওই কুপ্রস্তাবে রাজি হয়নি। এতে মৎস্যজীবী দল নেতা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। ঘটনার দিন ১০ আগস্ট (শনিবার) রাতে গৃহবধূর স্বামী নদীতে মাছ শিকারে যায়। গৃহবধূ ও তার দুই সন্তান নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত দ্ইুটার দিকে অভিযুক্ত হারুন বসত ঘরের টিনের জানালা খুলে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ঝাপটে ধরে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় গৃহবধূ ডাকচিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে মৎস্যজীবীদল নেতা হারুন পালিয়ে যায়। পর দিন ১১ আগস্ট ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ মামলা না নেওয়ায় ১৯ আগস্ট পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের বিচারক নিলুফার শিরিন গৃহবধূর অভিযোগ আমলে নিয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে মামলা রুজ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। ২৮ আগস্ট ওসি মামলা রুজু করে এস আই সাইফুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। ’ওই গৃহবধূ বলেন, হারুন সর্ম্পকে আমার বাড়ির ওপরের চাচা শ্বশুর হয়। তার চরিত্র ভালো না। দীর্ঘদিন ধরে আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। আগে যে যুবলীগের রাজনীতি করত। তখন তার ভয়ে আমরা প্রতিবাদ করিনি। বিষয়টি গোপন রেখেছি। এখন সে নিজেকে বিএনপি নেতা বলে দাবি করে। সেই প্রভাব বিস্তার করে আবারও আমাকে কুপ্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায় আমার ঘরে ঢুকে আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ওই গৃহবধূর স্বামী বলেন, আমি বাড়িতে থাকি না। দুই ছোট শিশু সন্তান নিয়ে আমার বউ ঘরে থাকে। এই সুযোগে হারুন আমার বউর ইজ্জাত নষ্ট করতে চাইছে। আমরা থানায় গিয়ে অভিযোগ দিয়েছে। হারুন এখন নেতা। তাই পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে আদালতে গিয়েছি। আদালত পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অদৃশ্য কারণে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিতেছে না। এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হারুন হাওলাদার অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। একেবারেই মিথ্যা কথা। এবিষয়ে উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি লিটন বলেন, এমন অভিযোগ যদি থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কর্মকর্তা এস আই (উপপরিদর্শক) সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্ত চলমান। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।