Home » দৌলতখান » ভোলা » মাইন বিস্ফোরণে নিহত বিজিবি সদস্য আক্তারের দৌলতখানে দাফন সম্পন্ন
১ November ২০২৫ Saturday ৪:৫২:৫৯ PM
মাইন বিস্ফোরণে নিহত বিজিবি সদস্য আক্তারের দৌলতখানে দাফন সম্পন্ন
দৌলতখান ((ভোলা) প্রতিনিধি:
সহকর্মী ও স্বজনদের কান্নায় ভাসিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে নিহত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য নায়েক মো. আক্তার হোসেন।
শনিবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয় ভোলার দৌলতখান পৌরসভার জাকির হোসেন ফাউন্ডেশন মসজিদের (টিএন্ডটি জামে মসজিদ) কবরস্থানে।
এর আগে, দৌলতখান ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেন শত শত মুসল্লি। সেখানে সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ অশ্রুসিক্ত বিদায় জানান তাদের প্রিয় আক্তারকে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবি সদস্য আক্তারের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে ভোলার দৌলতখান হেলিপ্যাডে এসে পৌঁছায়। শত শত মানুষ হেলিপ্যাডে ভিড় করেন মরদেহ গ্রহণ করতে।
পরে মরদেহ নেয়া হয় দৌলতখান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ রোডে তার নিজ বাড়িতে। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে ছুটে আসেন আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতখান ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় টিএন্ডটি জামে মসজিদ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বিজিবি ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় বিজিবির একটি টহল দল দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা একটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নায়েক আক্তার হোসেন গুরুতর আহত হন।
বিস্ফোরণে তার বাম পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অন্য পাটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে রামু সেনানিবাসস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করেন। পরদিন ১৩ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা ২০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন আক্তার হোসেন।
নিহতের স্ত্রী মুন্নি বেগম স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বড় ছেলে জিদানের চাকরির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের বাবা বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমার ছেলেকে আমরা হারালাম। সীমান্তে এমন হত্যাকাণ্ড যেন আর না ঘটে, সরকারকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
মৃত্যুকালে আক্তার হোসেন রেখে গেছেন বৃদ্ধ বাবা আবদুল মান্নান, মা আমেনা বেগম, স্ত্রী মুন্নি বেগম, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে জিদান বরিশালের বিএম কলেজে অনার্সে পড়ছেন, ছোট ছেলে সাফওয়ান চার বছর বয়সী, আর একমাত্র মেয়ে সুশিলা আক্তার অধিয়ান দৌলতখান বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সাত ভাইবোনের মধ্যে আক্তার ছিলেন তৃতীয়।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
লিজ নেওয়ার পর মামলা দিয়ে দখল: বরিশালে বেহাত সরকারের হাজার কোটি টাকার জমি
১০ ঘণ্টা পর বরিশালে বাস চলাচল স্বাভাবিক, অবরোধে চরম ভোগান্তি