" />
AmaderBarisal.com Logo

পিরোজপুর-২: নীরবতা ভেঙে তৎপর মঞ্জু, ভোটে নতুন হিসাব নিকাশ


আমাদেরবরিশাল.কম

৪ December ২০২৫ Thursday ৮:৪৫:১৭ PM

নিজস্ব প্রতিনিধি:

নির্বাচন কমিশনের আসনবিন্যাসে পিরোজপুর-২ (স্বরূপকাঠি, কাউখালী ও ভাণ্ডারিয়া) আসনটি একাধিকবার ওলটপালট হয়েছে। তবে সব প্রক্রিয়াতেই এ আসনে ভোটে সংসদ সদস্য হয়েছেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। দলের দুরবস্থায়ও মঞ্জুর জয় ছিল অব্যাহত। সাতবার এমপি হওয়ায় এটি মঞ্জুর আসন হিসেবে পরিচিতি পায়।

গত বছর ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক জেপি প্রকাশ্যে রাজনীতিতে নেই। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মঞ্জু অংশ নেবেন কিনা– এ নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। তবে দেড় বছরের নীরবতা ভেঙে এ আসনে প্রার্থী হতে মঞ্জুর তৎপরতা শুরু হয়েছে। চলছে নানা হিসাবনিকাশ।

জানা গেছে, জেপিবিহীন মাঠে প্রায় এক বছর দাপুটে প্রচার চালাচ্ছেন জামায়াতের দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীপুত্র শামীম সাঈদী। ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে মঞ্জুর ফেরাতে পিরোজপুর-২ আসনের নির্বাচনে হবে নতুন সমীকরণ।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গত ২৪ নভেম্বর গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মঞ্জুর পক্ষে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দুস্থ কল্যাণ সংস্থার ব্যানারে সভা হয়। শতাধিক নারী এ সভায় অংশ নেন। বক্তারা জেপির নির্বাচনী প্রতীক সাইকেল মার্কায় ভোট চান। অংশগ্রহণকারীদের সাইকেল মার্কার লিফলেট দেওয়া হয়েছে। এতে মঞ্জু ও তাঁর পিতা প্রখ্যাত সাংবাদিক তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়ার ছবি রয়েছে।

উঠান বৈঠকের আয়োজকদের অন্যতম কাজী আতাহার হোসেন বলেন, দুস্থ কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে মঞ্জু এলাকায় দরিদ্রদের সহায়তা করেন। বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ এর সদস্য। ওপর থেকে বলা হয়েছে, মঞ্জু নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। মাঠে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। সে অনুযায়ী গৌরীপুরে উঠান বৈঠক করেন। সামনে দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও অনেক বৈঠক হবে।

প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সমকালকে বলেন, এলাকার লোকজন প্রার্থী হওয়ার জন্য বলছেন। তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছি। খুব শিগগিরই নির্বাচনী এলাকায় ফেরার কথা জানান তিনি।

মঞ্জু কেন ফ্যাক্টর

জাতীয় পার্টির শাসনামলের শুরুর দিকেই মঞ্জু মন্ত্রী হন। তখনই তিনি রাজনীতির মূলধারায় অবস্থান করে নেন। এর পরে আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালের মেয়াদেও তিনি মন্ত্রী ছিলেন। ১৭ বছরের মন্ত্রিত্বের বেশির ভাগ সময় ছিলেন যোগাযোগমন্ত্রী। এ ছাড়া একবার সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে তাঁকেই রূপকার বলা হয়।

তিনি ১৯৮৬, ৮৮, ৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে টানা এমপি হন। ’৯৬তে পিরোজপুর-২ ছাড়াও পাশের আসন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে জেতেন। তখন ছেড়ে দেওয়া পিরোজপুর-২ আসনে উপনির্বাচনে জেতেন তাঁর স্ত্রী তাসমিমা হোসেন। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের দেওয়া মামলার জন্য ২০০৮ সালে নির্বাচন করতে পারেননি। ফের এমপি হন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মহিউদ্দিন মহারাজের কাছে হারেন এ জ্যেষ্ঠ নেতা।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মঞ্জু যে ভোট পেতেন, তাঁর অর্ধেক ভোট পেতেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বিএনপি ও জামায়াতের জামানতই থাকত না। তিনি প্রথমে জাতীয় পার্টির (জাপা) লাঙ্গল ও পরে জেপি গঠন করে সাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করেন। সব প্রতীকেই বড় ব্যবধানে জয়ী হন।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেক ভূঁইয়া বলেন, মঞ্জু প্রবীণ রাজনীতিবিদ, একজন জাতীয় নেতা। সভ্রান্ত পরিবার সাংবাদিক তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়ার সন্তান। দীর্ঘ বছর মন্ত্রী থাকায় এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে তাঁর ব্যক্তি ইমেজ এখানে বড় ফ্যাক্টর।

কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক পদধারী বলেন, সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মানুষ হিসেবে পরিচিত। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকলে এ দলটির ভোটাররা মঞ্জুকে ভোট দেবেন। মঞ্জুর ব্যক্তি ও পারিবারিক ইমেজ এবং আওয়ামী লীগের ভোট এক হলে তিনি শক্ত প্রার্থী হবেন।

তবে এর সঙ্গে ভিন্নমত দিয়েছেন স্বরূপকাঠি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মহিবুল্লাহ। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে নিজের প্রতীক ছেড়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করায় অনেকে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। ভাণ্ডারিয়া ও কাউখালীতে মঞ্জুর ভোট বেশি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের ভোটার তালিকা অনুযায়ী পিরোজপুর-২ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৮৪ হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে স্বরূপকাঠি উপজেলায় ভোটার দুই লাখ ১২ হাজার ২৩২ জন। অপর দুই উপজেলায় ভোট এক লাখ ৭২ হাজার ২৬১ জন।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।