" />
AmaderBarisal.com Logo

শীত ও কুয়াশার তীব্রতার কারণে বাউফলে তরমুজ চারা ফাংগাল উইল্ড রোগে আক্রান্ত


আমাদেরবরিশাল.কম

১৩ January ২০২৬ Tuesday ৭:৪৪:৪২ PM

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:


পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজের চারা ব্যাপকভাবে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে করে চাষিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। চাষিরা এই রোগের নাম না জানলেও উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছেন, তরমুজ চারা আক্রান্ত এই রোগটির নাম ফাংগাল উইল্ড। এটি এক ধরনের ছত্রাক জনিত রোগ। অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার তীব্রতার কারণে তরমুজের চারায় এই রোগ দেখা দেয়।
সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।
সরজমিন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির শুরু থেকে কয়েক দফা ঘন কুয়াশা, শীতল বাতাস ও রাতের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় তরমুজের চারায় ফাংগাল উইল্ড রোগ দেখা দিয়েছে। এ কারণে ছত্রাক আক্রান্ত হয়ে চারার পাতা কুচকানো, গোড়াপচা, ঢলেপড়া দেখা দেওয়ায় চারার বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। অনেক খেতেই চারা হলদে হয়ে ঢলে পড়ছে, আবার কোথাও গোড়া পচে পুরো গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চরকালাইয়া এলাকার কৃষক ইব্রাহিম, তিনি চলতি মৌসুমে ১৫ একর জমিতে তমুজ চাষ করেছেন। গত কয়েক দিন ধরে তার খেতের তরমুজ চারার পাতা গুলো চুপসে গিয়ে ঢলে পড়ছে। কিটনাশকের দোকান থেকে নানা প্রকার ওষুধ ব্যবহার করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।
একই এলাকার মিলন গাজী বলেন, তার ১০ একর খেতের চারা একই অবস্থা। তিনি আরো বলেন, চলতি মৌসুমে তারা আগের তুলনায় বেশি জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। তবে শীতের তীব্রতা তাদের সেই আশাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, শীতজনিত রোগ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ওষুধ সম্পর্কে তারা সময়মতো সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না। অনেকেই স্থানীয় বাজার থেকে নিজ উদ্যোগে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ওষুধ ব্যবহার করছেন, যা সব ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। ফলে ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।
চরমিয়াজানের কৃষক লোকমান বলেন, তিনি ২৫ একর খেতের চারার অবস্থা একই। শীতের তীব্রতা কমে না এলে তরমুজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বাউফলে চলতি মৌসুমের তরমুজ চাষ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, খেতের ৫ থেকে ১০ শতাংশ চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এই চারা গুলো তারা পূণরায় রোপণ করতে গেলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে তরমুজের চারায় ছত্রাকজনিত ফাংগাল উইল্ড রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে জমিতে অতিরিক্ত আদ্রতা থাকলে রোগ দ্রুত ছড়ায়। তিনি বলেন, “কৃষকদের পরামর্শ এই ধরণের রোগে ”সেতু পেস্টিসাইড কোম্পানির এমিসেস্ট প্রো” ৫ দিন পর পর ২বার অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করতে হবে। শীত কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।