![]() বরগুনা ২ :জামায়াতে যোগ দিয়েই আফজাল বললেন, এই দেশে বিধর্মী এমপি থাকতে পারে না
২৪ January ২০২৬ Saturday ৪:৪৯:৩২ PM
বামনা ((বরগুনা) প্রতিনিধি: ![]() বরগুনা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় ‘৮০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না’ বলে মন্তব্য করেছেন এক বক্তা। বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন রাত পৌনে ৭টার দিকে বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এ মন্তব্য করেন মো. আফজাল হোসেন নামে এক বক্তা। এ জনসভা চলাকালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এরপর জনসভায় এমন বক্তব্য দেন তিনি। মো. আফজাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘আপনারা কী আল-কোরআন চান? না বেদায়াত চান? আল-কোরআন যদি চান, অবশ্যই জামায়াতে ইসলাম। সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবেন। উচ্চ স্বরে তারা সংসদে ধমক দিয়ে বলবে, এই দেশ মুসলমানের দেশ। যেখানে ৮০ পার্সেন্ট লোক মুসলমান, সেখানে কোনো দিন বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না। সংবিধান থাকতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কী শাসন থাকবে? আল্লাহর কোরআনের শাসন থাকবে। আজকে চুরি করলে যদি হাত কেটে দেয়া হয়, আর কি চুরি এই এলাকায় হবে? সেই শাসন আমরা চাই।’ এসময় জামায়াত মনোনীত প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘আপনার চিন্তা নাই ইনশাআল্লাহ। মানুষ বুঝতে পেরেছে, ধর্ম কাকে বলে, ন্যায় কাকে বলে, আদর্শ কাকে বলে।’ এ বিষয়ে বরগুনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সায়মন রহমান (মুন্না) বলেন, ‘জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত নেতা মো. আফজাল হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন। এই বক্তব্য প্রধানকালে জামায়াতের প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজে এমন ন্যক্কারজনক ও নিন্দনীয় বক্তব্যের কোনো প্রতিবাদ করেননি। এমন অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য প্রদানের জন্য বরগুনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ এবং বক্তব্যদাতা মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।’ তবে এ বিষয়ে জানতে মো. আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বরগুনা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেন, ‘তিনি নতুন মানুষ। আমাদের কালকেই পরিচয়। তিনি ওই এলাকার মানুষ। রিটায়ার্ড মুরুব্বি মানুষ বলে ফেলছে। বলার পর আমাদের কিছু করার থাকে না। আবেগে সে এখন বলছে, জামায়াতে সাথে কাজ করব। জামায়াতে যোগদানতো এরকম হয়ও না। এখন নির্বাচনের সময়, ফর্ম ফিলাআপ করতে হয়। ওয়াদা করতে হয় যে- এই এই কাজ করব, এই এই কাজ করব না – নানা বিধ। আমাদের মুখ থেকে বা আমাদের নেতাদের মুখ থেকে এরকম কোনো বক্তব্য আসেনি। আমার বক্তৃতা দেখুক – কারো নামও লইনি বিরোধী দলের।’ তিনি আরও বলেন, ‘সে নতুন, কালকেই ওইখানে পরিচয় হয়েছে। এর আগে আমরা কেউই চিনতাম না। ওই এলাকারই মানুষ, রিটায়ার্ড মানুষ।’ এ বিষয়ে বরগুনার বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. পলাশ আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা পরবর্তীতে শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

