![]() পটুয়াখালী-৪:শুধু প্রতিশ্রুতি নয় যিনি বাস্তবে কাজ করে দেখাবেন
২৯ January ২০২৬ Thursday ১০:০৯:০৯ AM
রাঙ্গাবালী ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ![]() ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের রাঙ্গাবালী উপজেলার ভোটাররা তাদের প্রত্যাশা-প্রাপ্তি নিয়ে বেশ সোচ্চার। ভোটারদের কথা স্পষ্ট-এবার আর শুধু আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতিতে তারা বিশ্বাসী নন, তারা চান এমন একজন সংসদ-সদস্য, যিনি নির্বাচিত হয়ে বাস্তবে কাজ করে দেখাবেন। সততা, যোগ্যতা ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা। প্রবীণ ভোটারদের অনেকেই বলছেন, নির্বাচন এলেই বসন্তের কোকিলের মতো প্রার্থীদের মিষ্টি কথার অভাব হয় না। কিন্তু ভোট শেষ হলে নির্বাচিত এমপি নিজেই অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে যান। এলাকার মানুষের ভাগ্য বদলের পরিবর্তে নিজের ভাগ্য বদল নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। নিজের দলের লোকজন, নির্বাচনকালীন কর্মী-সমর্থক ও আশীর্বাদপুষ্টরাই পায় সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা। তাই এবার এমন জনপ্রতিনিধি চান, যিনি মানুষের কথা শুনবেন, দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াবেন এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাঠে-ঘাটে এবং হাট-বাজারে ভোটারদের আলোচনায় উঠে আসছে-সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বৈষম্যহীন সমাজ গড়া এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি। তরুণ ভোটারদের কণ্ঠেও একই প্রত্যাশা। কলেজ পড়ুয়া তরুণ ভোটার মেহেদী হাসান বলেন, আমরা বৈষম্যহীন সমাজ চাই। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস আর মাদকের বিরুদ্ধে যে প্রার্থী শক্ত অবস্থান নেবেন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন, তরুণরা তার পাশেই থাকবে। নির্বাচনি আলোচনায় উঠে এসেছে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৪ আসনের দুই উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন উন্নয়ন চিত্রের কথা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একই আসনের অন্তর্ভুক্ত হলেও কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীর উন্নয়নে রয়েছে স্পষ্ট বৈষম্য। বিগত দিনে এই আসনে নির্বাচিত এমপিরা কলাপাড়ার উন্নয়নের দিকেই বেশি নজর দিয়েছেন। উদাহরণ হিসাবে রাঙ্গাবালীর ভোটাররা বলছেন, কলাপাড়া উপজেলায় রয়েছে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর ‘পায়রাবন্দর’। সেখানে স্থাপিত হয়েছে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র’ ও আরও একটি ১৩২০ মেগাওয়াটের ‘আরএনপিএল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র’। কুয়াকাটায় রয়েছে সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন। এসব বড় প্রকল্পের কারণে কলাপাড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। অন্যদিকে একই সংসদীয় আসনের নদী ও সাগরবেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী এখনো পিছিয়ে রয়েছে। আগুনমুখা নদী এই উপজেলাকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় নৌপথই একমাত্র ভরসা। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী। দীর্ঘদিন ধরে আগুনমুখা নদীতে ফেরিসেবা চালুর দাবি জানিয়ে এলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। উপজেলা সদরের বাহেরচর বাজারের ব্যবসায়ী আব্বাস উদ্দিন হাওলাদার বলেন, সড়ক যোগাযোগ না থাকায় মালামাল আনা-নেওয়ায় খরচ বেশি পড়ে। ফেরি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক বাড়বে। বছরের পর বছর শুধু ফেরি আসার কথাই শুনছি, কাজ দেখছি না। এবার যিনি এমপি হবেন-রাঙ্গাবালীতে ফেরি চালু করাই তার প্রথম কাজ হওয়া উচিত। রাঙ্গাবালী উপজেলা ঘোষণার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ৫০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ। দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের গৃহবধূ পারভীন বেগম বলেন, একটি হাসপাতাল না থাকায় ডেলিভারি রোগী বা হঠাৎ অসুস্থ হলে আমরা আতঙ্কে থাকি। সবার আগে হাসপাতাল চাই। রাঙ্গাবালী ট্যুরিস্ট নিরাপত্তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান বলেন, কলাপাড়ায় যেখানে বড় বড় প্রকল্প হয়েছে, সেখানে আমাদের প্রাকৃতিক সৈকতগুলো অবহেলায় পড়ে আছে। পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রাঙ্গাবালীর চিত্র বদলে যাবে। পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে যিনি কাজ করতে পারবেন, এমন ব্যক্তিকে ভোটারদের বেছে নেওয়া উচিত। নদীভাঙনে চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ এলাকায় প্রতিবছর শত শত পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারাচ্ছে। ভাঙনকবলিত মানুষের অভিযোগ-ভোট এলেই প্রতিশ্রুতি আসে, কিন্তু কার্যকর সমাধান আর দেখা যায় না। চালিতাবুনিয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও ওমরসানি বলেন, ভাঙন আমাদের সব নিয়ে যাচ্ছে। এবার এমন এমপি চাই, যিনি শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে নদীভাঙন ঠেকাতে কাজ করবেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (হাতপাখা), ১০ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ (দেওয়াল ঘড়ি) ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসান (ট্রাক)। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

