![]() পটুয়াখালী-৩: মূল লড়াই আ.লীগের ভোট ঘিরে, নুর-হাসান মামুনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা
১১ February ২০২৬ Wednesday ২:৩৪:০১ PM
গলাচিপা ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ![]() গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী–৩ আসনের নির্বাচন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচন ঘিরে একের পর এক সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর ঘটনার মধ্য দিয়ে এখন প্রতিযোগিতা এসে ঠেকেছে একটিমাত্র সমীকরণে, আওয়ামী লীগের ভোট কার দিকে যাবে। যদিও আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে নেই, তবু এই আসনের সবচেয়ে সুসংগঠিত ও প্রভাবশালী ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচিত আওয়ামী লীগের সমর্থকেরাই এখন নির্বাচনের ফয়সালা নির্ধারণে মুখ্য। এই ভোট নিজেদের পক্ষে টানতে মাঠে নেমেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। স্থানীয়রা বলছেন, হাসান মামুনের পক্ষে রয়েছে ‘সরব ভোট’, যারা প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিং ও প্রচারণায় সক্রিয়। অন্যদিকে ভিপি নুরের শক্তি ‘নীরব ভোটে’ যারা প্রকাশ্যে অবস্থান না নিলেও ভোটের দিনে নীরবে সমর্থন দিতে পারেন। এই নীরব–সরব ভোটের দ্বন্দ্বই নির্বাচনের গতিপথকে করে তুলেছে অনিশ্চিত। এছাড়া আওয়ামী লীগের এই ভোট ব্যাংক যিনি নিজের পক্ষে নিতে পারবেন, জয়ও শেষ পর্যন্ত তার হাতেই ধরা দেবে। জানা গেছে, স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাবাধীন থাকা এ আসনে এবার দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বিএনপি এখানে প্রার্থী না দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নুরকে সমর্থন জানিয়েছে। এতে করে নুর বিরোধী রাজনীতির প্রতীকী মুখ হিসেবে সামনে এলেও, তার পথ মোটেও মসৃণ নয়। কারণ, একই রাজনৈতিক জোটের বলয়ের ভেতর থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন হাসান মামুন। দুই উপজেলার বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীরা হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছেন। তবে এই দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা গিয়ে ঠেকেছে এক জায়গায়, আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটারদের কাছে। আওয়ামী লীগ না থাকায় এই ভোটব্যাংক এখন কার্যত মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এই ভোট ভাঙতে দুজনই আলাদা কৌশলে মাঠে নেমেছেন। সভা-সমাবেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে বক্তব্য দিয়ে তারা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার নাম না বলার শর্তে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, গত এক মাস যাবত দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করছেন কোনো রকম হয়রানি করা হবে না এবং নির্বাচনের পরে তাদের নিয়ে কাজ করবেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন,আওয়ামীলীগ নির্বাচনে না থাকায় আমরা ভোট না দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এ আসনের সকল জনগণই আমাদের সমর্থক। কিছু মানুষ ভোট দিতে গেলেও যারা সরকার পতনের পরে কোনও রকম মামলা বাণিজ্য, হয়রানি করেনি এবং ভবিষ্যৎ এ যাদের দ্বারা ক্ষতি হবে না এমন প্রার্থীকেই ভোট দেবে। দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর কোন যে সকল মামলা হয়েছে তা রাজনৈতিক মামলা। ইতোমধ্যে তা প্রত্যহারের আবেদন করা হয়েছে। দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি দুর্গ। হাসান মামুন গণমানুষের প্রার্থী এই আসনে আওয়ামী লীগের শত ভাগ হাসান মামুন পাবে এ বিশ্বাস আমাদের। হাসান মামুন কখোনই প্রতিহিংসার রাজনীতি করেনি। আওয়ামী লীগের তৃণমূল সমর্থক এখন হাসান মামুনের নির্বাচন প্রচারণায় মাঠে কাজ করছে। নুরুল হক নুরের মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক আবু নাঈম বলেন,দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরে গণঅধিকার পরিষদ ও নুরুল হক নুরের নেতাকর্মীদের ধারা আওয়ামী লীগের একজন সমর্থকেরও কোন ক্ষতি হয়নি। বরং আওয়ামী লীগের কর্মীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করেছি। নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ থেকে নির্বাচিত হতে পারলে সকল মত-পথের মানুষের জন্য এই জনপদ নিরাপদ থাকবে। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বলে আসছি রাজনৈতিক বিবেচনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হয়রানি না করা হয়। আমি একাধিক সভা সমাবেশেও বলে আসছি, ভোট দেওয়া সবার নাগরিক অধিকার। ভোটের সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরি করতে হলে আওয়ামী লীগসহ সকল দলের সমর্থকরা ভোট দিতে আসবে। যেহেতু আওয়ামী লীগের এবারে কোনো প্রার্থী নেই, আমিও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাই শান্তিকামী একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তাদের ভোট আমার প্রাপ্য এবং আশাকরি আওয়ামী লীগসহ সকল দলের সমর্থক ও জনগণ আমাকে ভোট দেবে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সারাদেশে যেভাবে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলা বাণিজ্য হয়েছে গলাচিপা দশমিনায় তেমন হয়নি। যতটুকু হয়েছে যাদের পেশিশক্তি আছে তারা করেছে এবং তারাই বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী তার সাথেই আছে। আমাদের দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি হয়নি। আমরা উল্টো দখলদ্বার চাঁদাবাজদের থেকে সবাইকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেছি। আমি ঢাকসুর ভিপি হওয়ার আগে ও পরে যতবার হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছি কিন্তু আজ পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে কোনো মামলা করিনি। নুর বলেন, আ.লীগের সময় বাড়িতে এসে দশমিনা-গলাচিপা উপজেলা নেতাকর্মী কতৃক শরীরিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েও রক্তাক্ত হয়েছি। কখোনই তাদের বিরুদ্ধে মামলায় যাইনি। এখন পযন্ত থানায় আ.লীগের নেতাকর্মী বা সমর্থকদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করিনি উল্টো নিরীহ কাউকে হয়রানি করা না হয় সে জন্য বলেছি। দুই উপজেলা আ’লীগের একটি বিরাট অংশ ভোটের মাঠে। যেহেতু কারো কোন ক্ষতি করিনি তাই আগামী ৫ বছর তাদের নিরাপত্তা, শান্তিতে বসবাস ও গলাচিপা-দশমিনা সারাদেশে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে তারা আমাকে ভোট দিবে আমি শতভাগ নিশ্চিত। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

