" />
AmaderBarisal.com Logo

মীরগঞ্জ-মুলাদী নদীপথ: ১২ মিনিটের পথ ৩৫ মিনিটে পাড়ি দিচ্ছে ফেরি


আমাদেরবরিশাল.কম

২৮ February ২০২৬ Saturday ১২:১৭:৪২ PM

মুলাদী ((বরিশাল) প্রতিনিধি:

নাব্য সংকট ও ডুবোচরের কারণে মীরগঞ্জ-মুলাদী নদী পথে ১২ মিনিটের পথ ৩০-৩৫ মিনিট ঘুরে পাড়ি দিচ্ছে ফেরিগুলো। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই রুটে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী। আবার ডুবোচরে রুট পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত জ্বালানি নষ্ট হচ্ছে ফেরি বিভাগের।

তবে শীত মৌসুমের সময় এই ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে বলে জানিয়েছেন এখানকার যাত্রীরা। বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পণ্য পরিবহনকারী গাড়ি ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। ফেরি বিভাগের লোকজন বলছে শুকনা মৌসুমে নদী ড্রেজিং না করায় অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম আড়িয়াল খাঁ নদীর এই মীরগঞ্জ-মুলাদী ফেরি। কিন্তু নদীতে নাব্য সংকট আর অসংখ্য ডুবোচরের কারণে নৌযান বা ফেরি চলাচল এখন হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষায় কোনোভাবে নদীপথটি সচল থাকলেও শুকনো মৌসুমে নৌযান ও ফেরি চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় ড্রেজিং বিভাগ আড়িয়াল খাঁ নদীর মীরগঞ্জ-মুলাদী ফেরি চলাচলের অংশ খনন না করলে যেকোনো সময় পথটি বন্ধ হয়ে যাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মীরগঞ্জ-মুলাদী ফেরি পারাপার অংশে ছোট ছোট ট্রলার চলাচল করছে। কিছুদূর গিয়ে ট্রলারচালক একটি বাঁশ দিয়ে নদীর নাব্যতা মাপছেন। তারপর নাব্য দেখে চলাচল করছেন। একইভাবে দেখা যায় ফেরির লোকজনও বাঁশ দিয়ে নদীর নাব্যতা মেপে চলাচল করছে।

ওই রুটে চলাচলকারী যাত্রী শামিম বলেন, বেশ কিছু বছর ধরে মীরগঞ্জ-মুলাদী রুটে এই সমস্যা ভোগ করতে হচ্ছে। বর্ষায় ঠিকভাবে চলাচল করতে পারলেও শুকনো মৌসুমে ভোগান্তির শেষ থাকে না। এ অবস্থায় আড়িয়াল খাঁ নদীর নাব্যতা বাঁচিয়ে জনদুর্ভোগ কমাতে পরিকল্পিত ড্রেজিং করার আহ্বান জানান ওই রুটের হাজার হাজার যাত্রীরা।

ওই রুটের নিয়মিত পণ্য পরিবহন করা ট্রাকের চালক রুবেল বলেন, আগে ১০ থেকে ১২ মিনিটেই এপার থেকে ওপারে যেতাম। এখন ৩০-৩৫ মিনিটের বেশি সময় লাগে। এতে নির্দিষ্ট সময় পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পচনশীল পণ্য হলে মাঝে মাঝে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দ্রুত এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।

মীরগঞ্জ-মুলাদী রুটের ফেরি চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১২ মিনিটের পথ ৩৫ মিনিট ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানির খরচ বাবদ একটি বড় অঙ্কের রাজস্ব ব্যয় হচ্ছে হচ্ছে। অচিরেই এই পথ ড্রেজিং বিভাগ খনন না করলে যেকোনো সময় পথটি বন্ধ হয়ে যাবে।

মীরগঞ্জ-মুলাদী ফেরিঘাটের ইজারাদার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ১০-১২ মিনিটের পথ এক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে। এভাবে চললে জ্বালানি খরচ দিয়ে ইজারার নির্ধারিত টাকা উত্তোলন করা দুষ্কর হয়ে পড়বে। তাই অচিরেই এই নদীপথটি খননের দাবি জানাই।

বরিশাল ড্রেজিং বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তুহিন বলেন, মীরগঞ্জ ফেরিঘাটের নাব্যতা সংকট নিয়ে কোনো চাহিদাপত্র পাইনি। তবে আপনাদের মাধ্যমে যেহেতু শুনেছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।