Current Bangladesh Time
Tuesday June ৯, ২০২৬ ৯:৩২ PM
Barisal News
Latest News
Home » চরফ্যাশন » ভোলা » নিষেধাজ্ঞার ৩২ দিনেও সরকারি সহায়তা পাননি চরফ্যাশনের জেলেরা
৪ April ২০২৬ Saturday ১:৫১:২৩ PM
Print this E-mail this

নিষেধাজ্ঞার ৩২ দিনেও সরকারি সহায়তা পাননি চরফ্যাশনের জেলেরা


চরফ্যাশন ((ভোলা) প্রতিনিধি:

চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা সংরক্ষণের ওপর নিষেধাজ্ঞার ৩২ দিন পার হলেও সরকারি সহায়তার আওতায় আসেনি উপজেলার মাঈনউদ্দিন ঘাট এলাকার প্রায় পাঁচশ নিবন্ধিত মৎস্যজীবী। এতে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

মার্চ-এপ্রিল সরকার ঘোষিত অভয়াশ্রম চলছে। সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চর ইলিশা হতে চরপিয়াল ৯০ কিলোমিটার, ভেদুরিয়া হতে চর রুস্তম ১০০ কিলোমিটার সব ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ সীমানায় কোনো মাছ আহরণ করতে পারবেন না জেলেরা।

এই দুই মাস সরকারি ৪০ কেজি করে চাল জেলেরা পাবেন। তবে সব নিবন্ধিত জেলেরা এ চালের আওতায় এখন আসেননি। কারণ সরকার শতভাগ বরাদ্দ দিতে পারেনি। ২ মাসের বরাদ্দ থেকেই মার্চ-এপ্রিল অভায়শ্রম অভিযানের আওতায় সুবিধাসমূহ পাবে। এর বাহিরে কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই।

জেলেদের একটি জোর দাবি হলো- অবৈধ জাল তৈরির ফ্যাক্টরি বন্ধ করা। মাঈনউদ্দিন ঘাটে প্রায় ৫ হাজারের মতো জেলে রয়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে ওই মৎস্যঘাটের ২২ জন মৎস্যজীবীর সঙ্গে কথা হয়। তারা চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞার ৩২ দিন পার হলেও জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাইনি নিবন্ধিত জেলেরা।

জেলে মো. ইউনুস, মো. আবু খায়ের ও মো. হুমায়ূন মাঝিসহ অনেকেই বলন, পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে নৌকা ও জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছি। তাই সরকারি সহায়তা খুব দ্রুত আশা করছি।

চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা নদীর সামরাজ ও মাইনুদ্দিন ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদীর এক পাশে জাল ও নৌকা তুলে রাখছেন জেলেরা।

হাজারিগঞ্জ ও জাহানপুর গ্রামের জেলে আবদুল মালেক, আবদুল মন্নান বেপারী, মনির হোসেন ও ইদ্রিস আলী অভিযোগ করে বলেন, তারা দীর্ঘদিন থেকে মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সরকারি সহায়তা পাওয়ার জন্য স্থানীয় দলীয় নেতা কর্মীদের দাপটে প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে অন্য পেশার লোকদের জেলে কার্ডের চাল দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। তাই সরকারি সহায়তা না পেয়ে নিষিদ্ধ সময়ে পেটের দায়ে নদীতে মাছ শিকার করতে বাধ্য হচ্ছেন তার।

জেলেরা  জানান, নিষিদ্ধ সময়ের আগে মাছ ধরে কিছু টাকা সঞ্চয় করলেও এ টাকা এখন শেষ হওয়ার পথে। আমাদের কাজ মাছ ধরা আমরা অন্য কোনো কাজ করতে পারি না। তাই সরকারি সহায়তা না পেলে হয় আমাদের চুরি করতে হবে, না হয় নদীতে মাছ ধরতে হবে।

নিবন্ধিত জেলে নুর হোসেন মাঝি জানান, একজন জেলে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৮-১০ জন। সরকারি যে চাল দেয় তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

সামরাজ মাছ ঘাটের আড়তদার মো. আজিজ পাটোয়ারি জানান, প্রকৃত জেলেদের বেশির ভাগই কার্ড পায়নি। যারা কার্ড পেয়েছে তার মধ্যে ৮০ ভাগ অন্য পেশার, ২০ ভাগ জেলে।

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, চরফ্যাশন উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৪৪ হাজার ৩১১ জন। এর মধ্যে নিবন্ধিত ২৪ হাজার ২শ জন জেলে পরিবার ভিজিএফ চাল পাবেন। এখনো ভিজিএফ চাল বিতরণের কাজ শুরু হয়নি। দুই-একদিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
হত্যাচেষ্টা মামলায় বরিশাল- ২ আসনের সাবেক এমপি শাহে আলমকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেন বিএমপি কমিশনার
নদীগ্রাসে ছোট হচ্ছে বরিশাল!
শেবাচিম হাসপাতালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত
শেবাচিমে বারবার অগ্নিকাণ্ড, নাশকতা সন্দেহ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com