" />
AmaderBarisal.com Logo

আজ সেই ঐতিহাসিক ১৭ ই এপ্রিল। বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহন ও প্রথম অধিবেশন


আমাদেরবরিশাল.কম

১৭ April ২০২৬ Friday ৯:২৪:১৫ PM

সৈয়দ মুন্নাঃ পাকিস্থান নামক মোসলমানদের রাস্ট্র গঠনের পরেও যখন অসংখ্য মোসলমানদেরকে হিন্দু রাস্ট্র ভারতে থাকতে হয়, বাঙ্গালী মোসলমানদের পাকিস্থান বিরোধীতার শুরু সেই থেকেই। পাকিস্থানীদের এমন মোনাফেকির বিরোধীতা করা যথার্থই ছিল বাঙ্গালী মোসলমানদের।

পাকিস্তানিদের এবিষয়ে তো কিছু বলতে হবে। বাঙ্গালী মুসলমানদের কে ভারতের দালাল বলে পাকিস্থানীরা চালিয়ে দেয়। পশ্চিম পাকিস্তানী মুসলমানেরা তাতে তৃপ্ত হইত।

বাঙ্গালী কখনোই ইন্ডিয়ান নয়, বাঙ্গালী কখনোই পাকিস্থানী নয়। বাঙ্গালী মানে বাঙ্গালী। এই বাঙ্গালীর মোসলমান বাঙ্গালী আছে, এই বাঙ্গালীর হিন্দু বাঙ্গালী আছে। আছে খ্রিস্টান বাঙ্গালী, বৈদ্য বাঙ্গালী আরো অনান্য ধর্মের।

৪৭ এ যখন দেশ ভাগ হয়, হিন্দু মোসলমানের ভিত্তিতে। মুসলিম সংখ্যাগরিস্টতা নিয়ে জন্ম হয় পাকিস্তানের আর হিন্দু সংখ্যাগরিস্টতা নিয়ে থেকে যায় ভারত। ৬ কোটির ও বেশী সংখ্যাক মুসলমান নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান যার ভেতর মুসলমান ৩ কোটিরও বেশী পুর্বপাকিস্তানে, আর ৩ কোটির কাছাকাছি পশ্চিম পাকিস্তানে এবং ভারতে রয়ে যায় ৩ কোটি ৫৪ লক্ষ মুসলমান।

প্রশ্ন হচ্ছে মুসলমানদেরকে আলাদা রাস্ট্র দিয়ে যদি আলাদা করেই দেয়া হয়ে থাকে তাহলে, হিন্দু রাস্ট্র ভারতে রয়ে যাওয়া মোসলমান, কেন নেয়া হবে না পাকিস্থানে?

ভারত তো আর ঠেলে দিবে না, পাকিস্থান এগিয়ে যেয়ে মুসলমানদের কে নিয়ে আসতে হবে এবং স্থান করে দিতে হবে পাকিস্থানে। পাকিস্থান এটা করেনি। বরঞ্চ পাকিস্থান যেটা করেছে পাকিস্তান মুসলমান মানুষদের চাইতে বেশী চিন্তা করে ফেলেছিল মুসলমান রাস্ট্র নিয়া। মুসলমান মানুষদের চাইতে মুসলমান রাস্ট্র বড় পাকিস্থানের কাছে!

ভারতে রয়ে যাওয়া মুসলমান পাকিস্তানে নিয়ে আসার পরিবর্তে পাকিস্থান তার রাস্ট্র গঠনে মনোযোগী হয়ে ওঠে। ইসলামী প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান নাম দিয়া সংবিধান প্রনয়ন করে। অর্থ্যাৎ উভয় পাকিস্থানে শুধু মুসলমান ছাড়া আর কেউ থাকতে পারবেনা। আর এমন নিয়মের জন্য পাকিস্থান রাস্ট্রে সকল মুসলমান বাদে অনান্য ধর্মাবলম্বীরা নির্যাতনের মুখে পড়ে বা পড়ার হুমকীতে থাকে।

অথচ হিন্দু রাস্ট্র ভারতে রয়ে গেছে এক পাকিস্থানের যত লোক আছে তার সমান সংখ্যাক মুসলমান, হিন্দুদের প্রতি অত্যাচার হলে তারা কি তাদের দেশের মুসলমানদের কে ছেড়ে দিবে?

পাকিস্থানের এমন সাম্প্রদায়িকতার বিরোধীতা শুরু করে বাঙ্গালী মুসলমান, ভারতে রয়ে যাওয়া মুসলমানদের কথা ভেবে । এবং সাম্প্রদায়িকতায় পুর্ন এমন সংবিধান প্রনয়নেরও বিরোধীতা করে।

৪৭ এর এমন দেশ ভাগের পর যে মুসলমান সন্তুস্ট ছিল এই ভেবে যে, অন্তত একটি মুসলমান রাস্ট্র তারা পেয়েছে। আর কিছু মুসলমান যারা অসন্তুস্ট ছিল ভারতে রয়ে যাওয়া মুসলমানদের কথা ভেবে ভেবে। এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে মুসলমান উভয় পাকিস্থানে। এর মধ্যে পশ্চিম পাকিস্থানী মুসলমান এক গ্রুপ। আরেক গ্রুপ বাঙ্গালী মুসলমান। যৌক্তিক ভাবে মুসলিম সংখ্যাগরিস্টতা নিয়ে যদি একটি রাস্ট্র গঠিত হয় তবে হিন্দু সংখ্যাগরিস্ট রাস্ট্রের ভেতর কেন মুসলমান রয়ে যাবে? এই হিন্দুস্থানে রয়ে যাওয়া মুসলমানদের নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা দেখালো না পশ্চিম পাকিস্তানিরা।

পশ্চিম পাকিস্তানিদের মতে একটি রাস্ট্র পেয়েছি, এখন এর একটি সংবিধান বানিয়ে, একটি সাম্প্রদায়িক রাস্ট্র বানিয়ে, আমরা ভাল থাকবো স্টাইলে চলতে লাগলো। ৫৬ সালে পাকিস্তানিরা তাদের নিজেদের মতন করে একটি সংবিধানও প্রনয়ন করলো। সংবিধানের নাম হল ইসলামী প্রজাতন্ত্রী পাকিস্থান।

পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় পূর্ব পাকিস্তান জনসংখ্যার দিক থেকে বেশি হওয়ায় এমনকি মুসলমানের দিক থেকেও বেশী হওয়ার পরেও, পশ্চিম পাকিস্তানিরা এমন সংখ্যাসাম্যের নীতি চাপিয়ে দেয়, যাতে করে পূর্ব পাকিস্তান তাদের সব কিছুতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এ সংবিধান প্রনয়নে। অর্থ্যাৎ পূর্ব পাকিস্তান (জনসংখ্যা বেশি) এবং পশ্চিম পাকিস্তান (জনসংখ্যা কম) জাতীয় পরিষদে সমান আসন পাবে। এভাবে গলা চেপে ধরা হয় পুর্ব পাকিস্থানীদের। কথা বলারও কন্ঠ রোধ করা হয় বাঙ্গালীদের।

পশ্চিম পাকিস্তানিরা হিন্দু রাস্ট্র ভারতে রয়ে যাওয়া মুসলমানদের অধিকারের কথা বলার অধিকার পুর্ব পাকিস্থানীদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে চাইল এমনি “ইসলামী প্রজাতন্ত্রী পাকিস্থান” নামে সংবিধান প্রনয়ন করে। পুর্ব পাকিস্তানীরাও আবার দুই ভাগে বিভক্ত ছিল, পুর্ব পাকিস্তানে একটি ভাগে ছিল পশ্চিম পাকিস্থানী কিছু মুসলমান আরেকটি ভাগে ছিল বাঙ্গালী মুসলমান, বাঙ্গালী মুসলমানের সংখ্যাটাই ছিল বেশী পুর্ব পাকিস্তানে।

বাঙ্গালী মুসলমানদের বক্তব্য ছিল, হিন্দু রাস্ট্র ভারতে রয়ে যাওয়া সকল মুসলমানদেরকে পাকিস্তানে এনে ” ইসলামী প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান” নামে সংবিধান প্রনয়ন করুক। মুসলমানদের মুসলমানের রাস্ট্রেই থাকা হবে ন্যায় সংগত। মুসলমানরা ভারতে মানে হিন্দু রাস্ট্রে থাকাটা ন্যায় সংগত হবেনা, যেহেতু মুসলমানদের কে নিয়ে একটি পাকিস্তান রাস্ট্র হয়ে গিয়েছে।

পাকিস্থানকে “ইসলামী প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান” ঘোষনা দিয়ে বা সংবিধান প্রনয়ন করে, হিন্দু রাস্ট্র ভারতে যদি মুসলমানদেরকে রেখে দেয়া হয়, সেটা হবে হিন্দু রাস্ট্র ভারতের উপর সাম্প্রদায়িক হুমকী এবং ভারতে রয়ে যাওয়া মুসলমানদের প্রতি হিন্দু নির্যাতন উস্কে দেবার মতন বিষয়। আপনি আমি মুসলমান হয়ে মুসলমান নির্যাতন কেন চাইবো?মুসলমানদের ক্ষতি কেন চাইবো? বাঙ্গালী মুসলমানদের প্রশ্ন এমনি ছিল। প্রাদেশিক পরিষদে এমন অনেক বক্তব্য হতে থাকলো। আর এমন বাঙ্গালী মুসলমানদের প্রতিনিধি হয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

শেখ মুজিবুর রহমান আওয়াজ উঠাতে লাগলেন, ভারতে রয়ে যাওয়া মুসলমানদেরকে নিয়ে, পুর্ব পাকিস্তানের হক আদায় নিয়ে, বাঙ্গালীর ন্যায্যতা নিয়ে। বাঙ্গালী মুসলমানদের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলার কারনে জেল জুলুমের শিকার হতে থাকলেন শেখ মুজিবুর রহমান। এভাবেই চলতে থাকল বাঙ্গালীদের প্রতি যত অন্যায্যতা। মুসলমানদের হক আদায় হয়ে গেল বাঙ্গালীদের লড়াই। অসাম্প্রদায়িক রাস্ট্র গঠনের স্বপ্নে। যে অসাম্প্রদায়িক রাস্ট্রে, হবে না কোন হিন্দু বৈদ্য খ্রিস্টানদের প্রতি নির্যাতন। এতে করে হিন্দু রাস্ট্র ভারতে রয়ে যাওয়া আমাদের মুসলমান ভাইরা ভাল থাকতে পারবে। অসাম্প্রদায়িক সংবিধান প্রনয়নে বাঙ্গালী মুসলমানেরা সোচ্চার হল। বাঙ্গালীরা ফুসে উঠতে থাকল।

এভাবে ৪৭ এর পর বাঙ্গালীদের পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নানা আন্দোলন ও সংগ্রাম সংঘটিত হয়। এর ভেতর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ ও ২১ দফা, ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সরকার চাপিয়ে দেওয়া সংবিধানের প্রতিবাদে আন্দোলন, ১৯৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শরীফ কমিশনের শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি হিসেবে ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন,

১৯৬৮সালে ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার এই মিথ্যা মামলা দায়ের। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান। আগরতলা মামলার বিরুদ্ধে এবং ৬ দফার পক্ষে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলন।

১৯৬৯ সালের ২৬ শে নভেম্বর জেনারেল ইয়াহিয়া খান সংবিধান কারা প্রনয়ন করবে তার জন্য ৭০ এর ডিসেম্বরে উভয় পাকিস্তানে নির্বাচনের আহ্বান করেন।

এতদ স্বত্তেও১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের নাম পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে “বাংলাদেশ” রাখার ঘোষণা দেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ‘বাংলা’ ও স্বাধীনতাকামী সংগ্রাম থেকে ‘দেশ’ এই দুইয়ের সমন্বয়ে তিনি এই নাম দেন। বাঙ্গালীদের একটি স্বতন্ত্র রাস্ট্র গড়ার স্বপ্ন প্রতিষ্ঠা করে দেন।

তারপর আসে ৭০ এর নির্বাচন। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে এবং নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি (৭টি মহিলা আসনসহ) জিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের ম্যান্ডেট পায়। এই জয় ছিল বাঙালি জাতির ৬-দফার প্রতি গণরায়, যা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে।

পশ্চিম পাকিস্থানে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP) ১৩৮টি আসনের মধ্যে ৮১টি আসনে জয়ী হয় ।

আওয়ামী লীগ একক দল হিসেবে সমগ্র পাকিস্তানে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তাতে করে এই বিজয় প্রমাণ করে যে, পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালিরা পশ্চিম পাকিস্তানের পাকিস্থানী শাসকের বিপরীতে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে ছিল এই ভোট। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এই বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক জয় ছিল না, বরং এটি ছিল বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের দাবি ও স্বাধীনতার চূড়ান্ত সংকেত।

নির্বাচনের পর ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে, যা অসহযোগ আন্দোলন ও শেষে মুক্তিযুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়।

আপনার হয়তো শুনে থাকবেন, এবারের সংগ্রাম।মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগের ডাক দেন ৭ ই মার্চ। যার প্রেক্ষিতে ২৫ মার্চ কাল রাতে পশ্চিম পাকিস্থানিরা হামলে পড়ে নিরীহ বাঙ্গালী দের উপর। অপারেশন সার্চ লাইট নামে এক রাতেই ৭ হাজার মতান্তরে ৫০ হাজার মানুষকে হত্যা করে পশ্চিম পাকিস্থানীরা।

সেই ২৫ মার্চ কাল রাতেই অর্থ্যাৎ ২৬ শে মার্চের রাতের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষনা দেন এবং পশ্চিম পাকিস্থানী হানাদার বাহীনির বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান জানান। এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে না পেরে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীরা অপরেশন বিগ বার্ড নামে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পাকিস্থানে বিচারিক মৃত্যুদন্ডের আশায় কারাগারে বন্ধী করে রাখে।

এদিকে পুর্ব পাকিস্তানে যারা পশ্চিম পাকিস্থানী মুসলমান তারা পশ্চিম পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীকে সাহায্য করার জন্য সংগঠিত হয়। যার ভেতর জামাত ইসলাম, আল বদর, আল শামছ ও বেতন ভুক্ত রেজাকার বাহিনী অন্যতম। পশ্চিম পাকিস্থানীরা এ যুদ্ধকে আরো ভয়াবহ করতে নারীও ধন সম্পদ কে গনিমতের মাল আখ্যা দেয়। অর্থ্যাৎ এসব লুট করে নিলে কোন পাপ হবে নাহ। এবং আরো ভয়ংকর যে ব্যাপার তা হল, নারী ধর্ষনের মাত্রা কে আরো ছড়িয়ে দিতে জামাত ইসলাম ফতোয়া জারি করে মুতা বিবাহের। ধর্ষন করার সময় টুকু বিয়ের বৈধতার মত হালাল এই টাইপের আরকি।

বাঙ্গালীরা এর প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলে।পাকিস্থানীদের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধকে আইনী বৈধতা দিতে ১৯৭০ এর নির্বাচনে নির্বাচিত দের কে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল একটি সরকার গঠন করা হয়। যেই সরকারের নাম দেয়া হয় মুজিব নগর সরকার। যার প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয় ১৭ এপ্রিল তারিখে।

আজ সেই ঐতিহাসিক ১৭ই এপ্রিল। সেদিন ছিল শনিবার। সীমান্তবর্তী কুস্টিয়ার মেহেরপুর বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আমবাগানের চারদিকে রাইফেল হাতে কড়া প্রহরায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। হাজার হাজার মুক্তিকামী বাঙালির উপচেপড়া ভিড় চারদিকে। ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ধারণ করতে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরাও প্রস্তুত। মুক্ত আকাশের নিচে চৌকি পেতে তৈরি করা হয়েছে শপথ মঞ্চ। মঞ্চের ওপর সাজানো ছয়টি চেয়ার। অনুষ্ঠানের প্রবেশপথে বাংলায় লেখা ‘স্বাগতম’।

স্থানীয় সময় ১১টা বেজে ৫০ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের নেতারা একে একে আসতে থাকেন। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে প্রকম্পিত চারদিক। প্রথম শপথ মঞ্চে উঠে এলেন বঙ্গবন্ধুর আজীবনের ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাঁর পেছনে তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, বিশ্বাসঘাতক খুনি খন্দকার মোশতাক আহমদ ও জেনারেল এম এ জি ওসমানী।

যেকোনো মুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিমান হামলার আশঙ্কার মুখে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের স্থায়িত্ব হয় মাত্র ৪৫ মিনিট।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের অনুষ্ঠানের সূচনায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং গীতা, বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়। স্থানীয় শিল্পী এবং হাজারো মানুষের কণ্ঠে গাওয়া হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’

এরপর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম উত্তোলন করেন মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

এরপর আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের চিফ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী ঐতিহাসিক দলিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এরপর নতুন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ ও সেনাবাহিনীর প্রধানকে শপথ বাক্য পাঠ করান তিনি।

শপথ গ্রহণের পর সশস্ত্র তেজোদীপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা এসপি মাহাবুব উদ্দীন এর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় কায়দায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন।

আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের। অসাম্প্রদায়িক একটি রাস্ট্রের।

শপথ গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ জাতির উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যা করছি সবই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশে।’ এ অনুষ্ঠান থেকে নতুন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দুজনই বিশ্ববাসীর কাছে নতুন রাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বীকৃতিদান ও সামরিক সাহায্যের আবেদন জানান।

বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণার কেন্দ্রে ধারণ করে, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা মোতাবেক মুজিবনগর সরকার দেশপ্রেমিক মুক্তিপাগল জনতাকে সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধকে একটি সফল জনযুদ্ধে পরিণত করে।

এই মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বেই সমগ্র যুদ্ধ পরিচালিত হয় এবং এই মুজিব নগর সরকার আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহযোগিতা আদায়ে তাঁরা অনন্য ভূমিকা পালন করেন। ফলে ৯ মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই ঐ পশ্চিম পাকিস্থানীদের পরাজিত করে স্যারেন্ডার করার মাধ্যমে ১৬ ই ডিসেম্বর জেনেভা কনভেনশনের সকল নিয়ম মেনে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এরপর থেকে বাঙ্গালীরা বাংলাদেশে রয়ে যাওয়া পশ্চিম পাকিস্থানীদের ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে অবতীর্ণ। বাঙ্গালী মুসলমানদের হাতে পরাজিত পশ্চিম পাকিস্থানী মুসলমানরা যারা এই বাংলাদেশেই রয়ে গেছে, তারা বাঙ্গালী মুসলমানের ছদ্মবেশ ধারন করে থাকে। আর বাঙ্গালী মুসলমানদের কে ভারতের দালাল বোঝাতে দিল্লি না ঢাকা শ্লোগান আপনারা শুনে থাকবেন হয়তো।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।