![]() ফেঁসে যাচ্ছেন আল্লাহর নামের ষাঁড়ের মাংস বিক্রি করা সেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ফরহাদ মেম্বার!
২৯ April ২০২৬ Wednesday ৬:৩৯:০৩ PM
নিজস্ব প্রতিনিধি: ![]() বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদে ‘আল্লাহর নামে’ রাস্তায় ছেড়ে দেয়া একটি ষাঁড় জবাই করে মাংস বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে ষাড় কিনে দিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছেনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মেম্বারের। তিনি বর্তমানে ওই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চাঁদপুরা ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার। তিনি ওই ষাড়টি আল্লাহর নামে সিল দিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। ফরহাদ মেম্বারকে নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নিজেকে রক্ষা করতে নিজের ফেসবুক ও কর্মী সমর্থকদের দিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করাচ্ছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন ষাড়টি জবাই করার আগে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিয়েছেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফরিদা সুলতানার দাবি- তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। ফরহাদ মেম্বারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জেনে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে কাউনিয়া থানা পুলিশ। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফরিদা সুলতানা। অন্যদিকে সংবাদ প্রকাশের পর ২৭ এপ্রিল ফরহাদ মেম্বারকে বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে ২৪ ঘন্টা মধ্যে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোহেল হাওলাদার দাবি- এই ষাঁড়টি তারা চাঁদপুরা ইউনিয়নের সিল মেরে ‘আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দিয়েছিলেন। যেটি হাটতে হাটতে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আট হাজার গ্রামে চলে যায়। সেখানে দীর্ঘদিন ছিল ষাঁড়টি। ষাড়টির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা হবে। সেটি বিক্রি করে ফরহাদ মেম্বার মাত্র ৫০ হাজার টাকার একটি ষাড় কিনে তার ইউনিয়নের সিল দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করবো। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সামছুল কবির ফরহাদের গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ‘আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেয়া একটি ষাঁড়ি ইউনিয়নের আট হাজার গ্রামে বসে জবাই করেন। ষাঁড়টি জবাই করে ৬০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করেছেন তিনি। এদিকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরপরই ফরহাদ মেম্বার তড়িঘড়ি করে একটি ষাঁড় কিনে এলাকায় ছেড়ে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ‘আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেয়া ষাঁড় জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ স্বীকার করে বলেন- ওই ষাঁড়টি আমরাই কিনে ছেড়ে দিয়েছিলাম। ষাঁড়টি রোগা হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর কথা অনুয়ায়ী জবাই করে ৯৩ হাজার টাকায় মাংস বিক্রি হয়েছে। সেই টাকা থেকে ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে আরেকটি ষাঁড় কিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আর কিছু টাকা কসাইকে দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা আমার কাছেই রয়েছে। দূর্গাপুরের সোহেল হাওলাদার কিভাবে আপনারা কিনে ছেড়ে দেওয়া ষাঁড়ের মালিকানা দাবি করেন? এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি তিনি। দল থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। কাউনিয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) উজ্জল ভক্ত বলেন- অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এখন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিৎ চন্দ্র দাশ জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে ঘটনার সত্যতাও পেয়েছি। অভিযোগকারী চাইলে মামলা নেওয়া হবে। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

